শরিয়াহ সম্মত ওয়েব পরিবেশ. আরওসন্ধানকরুন

মুচকি হাসির অনেক উপকারিতা

Happy Malaysian boy smiling wearing a songkok
© | Dreamstime.com

হাসি সৌন্দর্যের প্রতীক। কখনো হাসি ভুলিয়ে দেয় রাশি রাশি দুঃখ ও বিষাদের কথাও। হাস্যোজ্জ্বল মানুষকে সবাই ভালোবাসে। আপন ও কাছের ভাবে। হাসির মাধ্যমে আন্তরিকতা ও বন্ধুত্ব সৃষ্টি হয়। একটুখানি মুচকি হাসি দুইজনের সম্পর্কে নতুনমাত্রাও যোগ করতে পারে।
চলার পথে, কাজে-কর্মে বহু মানুষের সঙ্গে আমাদের সাক্ষাৎ হয়। একজন মুসলিম হিসেবে অন্য ভাইয়ের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ কেমন হওয়া উচিত, তা প্রিয়নবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) আমাদের শিখিয়ে গেছেন। পাশাপাশি অপর ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করতে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
শুধু তাই নয়, এটিকে তিনি সদকা হিসেবেও ঘোষণা করেছেন। (সদকা অর্থ দান; যার বিনিময়ে আল্লাহ আখেরাতে পুরস্কৃত করবেন।)
এক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘প্রতিটি ভালো কাজ সদকা। আর গুরুত্বপূর্ণ একটি ভালো কাজ হলো, অন্য ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করা।’ (তিরমিজি, হাদিস নং: ১৯৭০)
প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিক পরিমাণে মুচকি হাসি দিতেন। হাদিসে এসেছে-
হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে হারিস বর্ণনা করেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেয়ে অধিক মুচকি হাসি দেয়া ব্যক্তি অন্য কাউকে দেখিনি।’ (মুসনাদে আহমদ)
হাদিসে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হাসির অনেক উপকারিতার কথা উল্লেখ করেছেন। আর পরস্পরের সঙ্গে মুচকি হাসিতে রয়েছে কল্যাণ ও সাদকার সাওয়াব।
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘নেক কাজের কোনো কিছুকেই তুচ্ছ মনে করো না, যদি তা (নেক কাজ) তোমার নিজের ভাইয়ের সঙ্গে মুচকি হাসির মাধ্যমে সাক্ষাৎ করার দ্বারাও হয়।’ (মুসলিম)
কারো সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করলে সে খুশি হয়। মুখ মেঘাচ্ছন্ন করে রাখলে, মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। তাই সাক্ষাতে হাসিমুখে কথা বলা ও আনন্দ দেওয়ার বিষয়টি আল্লাহ তায়ালা বেশ পছন্দ করেন।
হাদিস শরিফে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি নিজের কোনো মুসলিম ভাইকে খুশি করার জন্য এমনভাবে সাক্ষাৎ করে, যেমনটি সে নিজের জন্য পছন্দ করে। কেয়ামতের দিন (বিনিময়ে) আল্লাহ তায়ালা তাকে খুশি করবেন। (তাবারানি, হাদিস নং: ১১৭৮; মাজমাউয যাওয়ায়েদ, হাদিস নং : ১৩৭২১)
বস্তুত, হাসির মতো সাধারণ একটি আমলে আল্লাহ তায়ালা এতো বড় পুরস্কার দেবেন। ভাবতেই অবাক লাগে। হাসিমুখে কথা বলার দ্বারা মুমিন খুশি হয়। আর এর মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা খুশি হন। ফলে বিনিময়ে তিনি বান্দাকে কেয়ামতের দিন আনন্দিত ও খুশি করবেন।
মানুষের মধ্যে পারস্পারিক সম্পর্ক বৃদ্ধিতে হাসি গুরুত্বপূর্ণ এক ভূমিকা রাখে। হাসিই মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ককে সহজ করে দেয়। আন্তরিক হাসির অধিকারী একজন মানুষ বিপুল কিছু জয় করে নিতে পারে।
রাসূল (সা.) সর্বদা হাসিমুখে থাকতেন। তাকে কখনোই কেউ অকারণে মুখ গোমড়া করে থাকতে দেখেননি।
হাসি সম্পর্কে রাসূল (সা.) এর পাঁচটি হাদীস এখানে উল্লেখ করা হলো।
১. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে হারিস (রা.) থেকে বর্ণিত, “আমি এমন কাউকেই দেখিনি যিনি রাসূল (সা.) এর থেকে অধিক হাসিমুখে থাকতেন।” (তিরমিযি)
২. হযরত জরীর ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, “আমার ইসলাম গ্রহণের পর আল্লাহর রাসূল (সা.) তার সাথে সাক্ষাতের জন্য আমার অনুমতিকে কখনোই প্রত্যাখ্যান করেননি এবং কখনোই হাসি ছাড়া আমার সাথে দেখা করেননি।” (মুসলিম)
৩. হযরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, “তোমার সম্পদ দিয়ে কখনোই তুমি লোকদের সন্তুষ্ট করতে পারবেনা বরং তোমার প্রফুল্ল চেহারা ও উত্তম চরিত্রের মাধ্যমেই তুমি তাদের সন্তুষ্ট করতে পারবে।” (আল-হাকীম)
৪. হযরত আবু জর (রা.) বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, “কোনো উত্তম কাজকেই অবহেলা করোনা (যত ছোটই হোক না কেন) যদি তা তোমার ভাইয়ের সাথে হাসিমুখে সাক্ষাতও হয়।” (মুসলিম)
৫. হযরত আবু জর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, “তোমার ভাইয়ের প্রতি তোমার হাসিও তোমার জন্য সাদকা।” (তিরমিজি)
নবী-রাসুলরা বেশির ভাগ সময় মুচকি হাসতেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তার কথা শুনে সোলায়মান মুচকি হাসল এবং বলল, হে আমার পালনকর্তা, আপনি আমাকে সামর্থ্য দিন, যাতে আমি আপনার সেই নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি, যা আপনি আমাকে ও আমার মাতা-পিতাকে দান করেছেন এবং যাতে আমি আপনার পছন্দনীয় সৎকর্ম করতে পারি এবং আমাকে নিজ অনুগ্রহে আপনার সৎকর্মপরায়ণ বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। (সুরা : নামল, আয়াত : ১৯)
উক্ত আয়াত দ্বারা বোঝা যায়, হজরত সোলায়মান (আ.) মুচকি হাসতেন।
হজরত জারির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি যখন ইসলাম গ্রহণ করেছি তখন থেকে আল্লাহর রাসুল (সা.) আমাকে তাঁর কাছে প্রবেশ করতে বাধা দেননি এবং যখনই তিনি আমার চেহারার দিকে তাকাতেন তখন তিনি মুচকি হাসতেন। (বুখারি, হাদিস : ৩০৩৫)
মুচকি হাসা রাসুল (সা.)-এর সুন্নাত। কখনো এই হাসিতে (আওয়াজ ছাড়া) দাঁত প্রকাশ পেলেও কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু অট্টহাসি কোনো মুসলমানের মুখে শোভা পায় না। কোনো ব্যক্তি নামাজ অবস্থায় অট্টহাসি দিলে তার অজুও নষ্ট হয়ে যায়।
আল্লাহ আমাদের সকলকে আন্তরিক হাসির অধিকারী হওয়ার সুযোগ করে দিন।

কিছুবলারথাকলে

যোগাযোগকরুন