মুসলমানদের জন্য প্রতিটা দিনই মা দিবস

 m-t-elgassier-G_acucnTJNw-unsplash.jpg
Çocuklarımızın geleceği bizlerin elinde. Fotoğraf: M.T. Elgassier-G AcucnTJNw-Unsplash

গর্ভাবস্থায় মা যে কষ্ট সহ্য করেন তা উপলব্ধি করে পবিত্র কুরআন মানুষকে তাদের পিতামাতাদের, বিশেষত তাদের মায়েদের প্রতি ভাল আচরণ করার আদেশ দেয়।

মা দিবস বিভিন্ন রাষ্ট্রে বিভিন্ন দিনে উদযাপিত হয়। এটি যুক্তরাজ্যের ‘স্টার সানডে’ এর ঠিক তিন সপ্তাহ পূর্বে অনুষ্ঠিত হয়, এ কারণেই তারিখটি পরিবর্তন হতে থাকে। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সকলেই মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারে এটি উদযাপন করে।

যদিও আমি সত্যিই মা দিবসের ধারণাটিকে গুরুত্ব দিই। কেন না এটি আপনার মায়ের স্বীকৃতি, যা তিনি আপনার জন্য করেছেন, যা আপনার জন্য করে যাচ্ছেন এবং যা সর্বদা আপনার জন্য করবেন তার প্রতি। তবে আমি মনে করি, মা দিবস প্রতিদিনই উদযাপিত হোক!

তাই হ্যাঁ, আজই আপনার মায়ের কাছে যান এবং তাকে ফুল অথবা অন্য কোনো উপহার প্রদান করুন। এক সপ্তাহ পরে, আপনি তাকে কৃতজ্ঞতা জানান। এক মাস পরে, তাকে বলতে ভুলবেন না যে, আপনি তাকে ভালবাসেন এবং তাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করুন। যখনই আপনি পারেন তখনই আপনি “মা দিবস” উদযাপন করুন!

মহিলাদের চিকিত্সার বিষয়ে প্রায়শই মিডিয়ায় ইসলামকে নেতিবাচক হিসেবে চিত্রিত করা হয়। তাই এখনই সময় সত্যিকারের বাস্তবতা নিয়ে আমরা নতুন একটি ছবি আঁকব। এই নিবন্ধটিতে আমি তথাকথিত ‘ইসলামিক দেশসমূহ’ বা ‘আরব বিশ্বের ঐতিহ্য / সংস্কৃতি’ নিয়ে আলোচনা করব না। বরং, তার পরিবর্তে এটি ধর্ম হিসাবে মায়েদের সম্পর্কে ইসলাম যা বলে তার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করবে।

পবিত্র কুরআনে এটি পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে, “আর উপাসনা কর আল্লাহর, শরীক করো না তাঁর সাথে অপর কাউকে এবং পিতা-মাতার সাথে সৎ ও সদয় ব্যবহার কর ” (আল কুরআন – ৪:৩৬)। আল্লাহ তাঁর ইবাদত করার জন্য একটি আদেশ দিচ্ছেন এবং তার পরপরই একই বাক্যে আদেশ করছেন,  ‘তোমার পিতা-মাতার প্রতি দয়া করো’। কুরআন খুব সূক্ষ্মভাবে রচিত হয়েছে, নির্দিষ্ট শব্দগুলিকে নির্দিষ্ট জায়গায় নির্দিষ্ট করে বলা হয়েছে যা নির্দিষ্ট অর্থবিশিষ্ট অনন্য কোনোকিছুকে বোঝায়। এটা কোন কাকতালীয় ঘটনা নয় যে, আল্লাহ তায়ালা তাঁর ইবাদতকে যে বাক্যে বললেন তত্ক্ষণাত সেই একই বাক্যে আপনার পিতামাতার প্রতি সদয় আচরণ করার আদেশ দিলেন। এই বিষয়টি কুরআনের মধ্যে কয়েক জায়গায় পুনরাবৃত্তি ঘটেছে।

গর্ভাবস্থায় মা যে কষ্ট সহ্য করেন তা উপলব্ধি করে পবিত্র কুরআন মানুষকে তাদের পিতামাতাদের, বিশেষত তাদের মায়েদের প্রতি ভাল আচরণ করার আদেশ দেয়।

“আর আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারের জোর নির্দেশ দিয়েছি। তার মাতা তাকে কষ্টের পর কষ্ট করে গর্ভে ধারণ করেছে। তার দুধ ছাড়ানো পর্যন্ত দু বছর হয়ে যায়। নির্দেশ দিয়েছি যে, আমার প্রতি ও তোমার পিতা-মাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। অবশেষে আমারই নিকট ফিরে আসতে হবে”  (আল কুরআন – ৩১:১৪)।

এক ব্যক্তি নবীজী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের নিকটে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, “আমার সদ্ব্যবহার প্রাপ্তির সর্বাধিক যোগ্য কে?”

তিনি জবাব দিলেন: “তোমার মা।”

লোকটি জিজ্ঞাসা করলেন: “তারপর কে?”

তিনি জবাব দিলেন: “তোমার মা।”

লোকটি আবার জিজ্ঞাসা করলেন: ” তারপর কে?”

তিনি জবাব দিলেন: “তোমার মা।”

লোকটি আবার জিজ্ঞাসা করলেন: ” তারপর কে?”

তিনি জবাব দিলেন: “তোমার বাবা।”

কিছু ওলামায়ে কেরাম এই হাদিসটির ব্যাখ্যা হিসাবে বলেছেন যে, প্রথম উত্তরটি হল আপনার মায়ের গর্ভাবস্থার প্রশংসা, দ্বিতীয়টি হল সন্তান প্রসবের সময় যে ব্যথা হয়েছে তার প্রশংসা এবং তৃতীয়টি হল আপনার স্তন্যপান করানোর জন্য প্রশংসা।

আমাদের নিকট আরেকটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, একদিন নবীজী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের নিকটে এসে কেউ একজন বললেন, “আমি আল্লাহর পথে জিহাদ করতে চাই।” নবীজী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমার মা বেঁচে আছেন?” তিনি জবাব দিলেন, “হ্যাঁ।” তখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “তাঁর পায়ের নীচেই তোমার জান্নাত রয়েছে।”

নবীজী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের নাতির পুত্র ইমাম আলী বিন হুসাইন বলেছিলেন: “আত্মীয়স্বজনের অধিকারের ক্ষেত্রে, আপনার মায়ের অধিকার সর্বাগ্রে। যিনি আপনাকে তার গর্ভে বহন করেছিলেন যেরকম কেউ কাউকে বহন করে না এবং তিনি যা খেতেন তাই আপনার খাবার হত। যেরকম কেউ কাউকে খাওয়ায় না এবং তিনি আপনাকে [গর্ভাবস্থায়] আপনার কান, হাত, পা, চুল, অঙ্গ, [সংক্ষেপে] আপনার পুরো সত্ত্বার সাথে সুরক্ষিতভাবে, প্রফুল্লভাবে এবং সাবধানে সুরক্ষা দিয়েছেন; [গর্ভাবস্থায়] সমস্ত উদ্বেগ, বেদনা, অসুবিধা ও বেদনা ধৈর্য সহকারে ভোগ করেছেন, যতক্ষণ না আল্লাহর  ফয়সালায় আপনাকে তাঁর কাছ থেকে দূরে সরিয়ে এই পৃথিবীতে নিয়ে আসা হয়েছে”।