SalamWebToday নিউজলেটার
সালামওয়েবটুডে থেকে সাপ্তাহিক নিবন্ধ পাওয়ার জন্য সাইন আপ করুন
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

মুসলমান গবেষক এলহাম ফাদালি জিতলেন ফিজিক্স ওয়ার্ল্ড ২০২০ ব্রেকথ্রু অফ দ্য ইয়ার

আবিষ্কার ৩০ ডিসে. ২০২০
ফোকাস
এলহাম ফাদালি

২০২০ সালটি আমাদের অনেকের কাছেই খুবই কঠিন সময় হয়ে উঠেছে, কিন্তু এমন কিছু মানুষ রয়েছেন যাঁরা প্রমাণ করেছেন যে, আমরা কিছু ইতিবাচক ঘটনার সাহায্যে এই হতাশা কাটিয়ে বেরিয়ে আসতে পারি। এবং গোটা বিশ্ব যেভাবে প্রযুক্তির অবিচ্ছিন্ন বিকাশের পথে এগিয়ে চলেছে, বিজ্ঞানীরা এই ক্ষেত্রে কিছু উল্লেখযোগ্য সাফল্য বা ব্রেকথ্রু অর্জনের জন্য তাঁদের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এমনই এক গবেষণায় সাফল্যের কাণ্ডারী এক মুসলিম গবেষকের সাফল্যে গোটা মুসলমান সমাজ গর্বিত।

সম্প্রতি, যুক্তরাজ্যের প্রখ্যাত প্রতিষ্ঠানের বিখ্যাত প্রকাশনা ফিজিক্স ওয়ার্ল্ড ম্যাগাজিন ঘোষণা করেছে যে, গত ১৭ ডিসেম্বর নেদারল্যান্ডসের আইডহোভেন প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর মুসলমান বিজ্ঞানী ও গবেষক এলহাম ফাদালি এবং তাঁর দল ফিজিক্স ওয়ার্ল্ড ২০২০ ব্রেকথ্রু অফ দ্য ইয়ার শিরোপা জিতেছেন। যোগাযোগের জন্য ডেটা স্থানান্তর করতে আলো ছড়ানোর জন্য ডাইরেক্ট ব্যান্ডগ্যাপ-সহ সিলিকন ভিত্তিক উপাদান তৈরির জন্য ফাদালিকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, ভবিষ্যতের কম্পিউটারকে আর দ্রুতগতির করে তুলতে এলহাম ফাদালির গবেষণার অন্যতম ভূমিকা থাকবে। প্রতি বছর এই ফিজিক্স ওয়ার্ল্ড ম্যাগাজিন ফিজিক্সের কোনও নতুন যুগান্তকারী গবেষণাকে এই বিশেষ মর্যাদা প্রদান করে।

কেন এটি সেরা গবেষণা?

এই ম্যাগাজিনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই গবেষক দলটি সিলিকন ভিত্তিক উপাদানগুলিকে বর্ণনা করেছে “অপ্টোইলেকট্রনিক্সের পবিত্র গ্রন্থ” (the Holy Grail of the optoelectronics) হিসেবে। জুরি সদস্য তথা ফিজিক্স ওয়ার্ল্ড ম্যাগাজিনের সম্পাদক হ্যামিশ জনস্টন এই বছরের ব্রেকথ্রু হিসেবে এই গবেষণাকে বেছে নেওয়ার কারণ হিসেবে জানিয়েছেন, “সিলিকন ডিভাইসই বর্তমানে আমাদের তথ্য-নির্ভর সমাজকে পরিচালনা করে, কিন্তু এই উপাদানের ইনডাইরেক্ট ব্যান্ড গ্যাপ (এর পারমাণবিক গঠনের ফলে উদ্ভূত বৈশিষ্ট্য, যা একে আলো নির্গমন করতে বাধা দান করে) টেলিকমিউনিকেশন এবং অন্যান্য আধুনিক অপ্টিকাল অ্যাপ্লিকেশানের ক্ষেত্রে তাকে পিছিয়ে দিয়েছে।” তিনি জানিয়েছেন, ফাদালির গবেষণা এই সমস্যারই সমাধান সূত্র। সেই কারণেই এই বছরের সেরা গবেষণা হিসেবে একে নির্বাচন করা হয়েছে।

সিলিকন হল কম্পিউটার উৎপাদন ব্যবস্থায় ব্যবহৃত সবচেয়ে জরুরি উপাদানগুলির মধ্যে অন্যতম, এবং বহু বিজ্ঞানী সিলিকন থেকে আলো নির্গমনের উপায় খোঁজার গবেষণার কাজে নিযুক্ত ছিলেন। ফাদালি এবং তাঁর গবেষণা দল নেদারল্যান্ডসের আইডহোভেন প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই গবেষণার কাজ শুরু করার আগে পর্যন্ত এই কাজে তেমন উল্লেখযোগ্য সাফল্য কেউ লাভ করেননি । এই পরিস্থিতিতে সিলিকন কীভাবে আলো বিচ্ছুরণ করতে পারে তা নির্ণয় করে, এলহাম ফাদালি এবং তাঁর দল কম্পিউটিংয়ের জগৎকে কয়েক ধাপ এগিয়ে দিলেন বলাই যেতে পারে।

এলহাম ফাদালি কে?

এলহামের জন্ম ও বড় হওয়া মিশরেই। ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞান নিয়ে উচ্চশিক্ষার বিষয়ে তিনি আগ্রহী ছিলেন। স্কুলের পড়াশোনা শেষ করার পরে ফাদালি মিশরের কায়রো শহরে অবস্থিত আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। সেই সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ড্রেসেল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক প্রোগ্রামের মধ্যে একটি সেমিস্টার চলাকালীন, ন্যানো প্রযুক্তি এবং তার প্রয়োগ কীভাবে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলে- তা দেখে ফাদালি মুগ্ধ হয়ে যান।

এর পরে, সুইডেনের চামার্স ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি বিভাগে ন্যানো-ইলেকট্রনিক্স বিষয়ে স্পেশালাইজেশান-সহ ন্যানো সায়েন্স এবং ন্যানো টেকনোলজিতে মাস্টার্স ডিগ্রির পড়াশোনা শুরু করেন। এতদিন পর্যন্ত এই ধরনের সূক্ষ্ম বিষয় সম্পর্কে তাঁর ভালোবাসার কথা তিনি নিজেই জানতেন না, কিন্তু একবার বিষয়টি তাঁর নজরে আসার পরে এই বিষয়ে উচ্চশিক্ষার এবং পরবর্তী কালে গবেষণা কাজ বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে তিনি কোনও দ্বিধাই করেননি।

পড়াশোনা শেষে তিনি নেদারল্যান্ডসের আইন্ডহোভেন ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি-তে অ্যাপ্লায়েড ফিজিক্স নিয়ে পিএইচডি শুরু করেন। তাঁর ডক্টরাল গবেষণার বিষয়বস্তু ছিল মূলত লাইট অ্যাপ্লিকেশনের জন্য বিভিন্ন ন্যানোমোটেরিয়ালের ফ্যাব্রিকেশান এবং তাদের অপটিক্যাল এবং ইলেকট্রনিক বৈশিষ্ট্যগুলি পরীক্ষা করা।

চূড়ান্ত সাফল্য

গত শুক্রবার কায়রোর চ্যানেল ১-এর টক শো “৯০ পি.এম.”-এ এলফাম ফাদালি বলেছেন, “মূলত ইলেকট্রনিক চিপ তৈরিতে ব্যবহৃত সিলিকন-ভিত্তিক উপাদান থেকে কীভাবে আলো নির্গত হতে পারে, যা ডেটা ট্রান্সমিট করার গতিকে আলোর গতিবেগের মতো দ্রুত করে তুলবে।”

তাঁর দলের এই গবেষণা ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে নেচার ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছিল। ফাদালি বলেন, “আমরা দেখিয়েছি যে, ষড়ভূজ সিজি অ্যালয়ের কম্পোজিশান নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমে, নির্গমনের তরঙ্গদৈর্ঘ্য একটি বিস্তৃত পরিসরে অবিচ্ছিন্নভাবে টিউন করা হতে পারে, তার পাশাপাশি ডাইরেক্ট ব্যান্ডগ্যাপ সংরক্ষণ করার মাধ্যমে। আমাদের পরীক্ষামূলক অনুসন্ধান খুব সুন্দর ভাবে অ্যাব ইনিশিও থিওরির সাথে মিলে গিয়েছে।”

কঠিন পরিশ্রমের স্বীকৃতিস্বরূপ এই পুরস্কার পেয়ে তিনি ও দলের প্রত্যেক গবেষক-সদস্য অভিভূত বলে জানিয়েছেন ফাদালি। তবে এটি তাঁর কাজের প্রথম স্বীকৃতি নয়। এর আগে তিনি কিজক টেক ম্যাগাজিনের তরফেও বেস্ট টেক অ্যাওয়ার্ড ২০২০ পেয়েছেন।