মুসলিম দুনিয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক মনন আল জাজারি!

আবিষ্কার ২২ ফেব্রু. ২০২১ Contributor
জ্ঞান-বিজ্ঞান
আল জাজারি

মানব সভ্যতার অগ্রগতিতে মুসলিম দার্শনিকদের প্রভূত অবদান রয়েছে। প্রয়োজনীয় সুবিধে বা প্রযুক্তির অপ্রতুলতার মধ্যেও তাদের কীর্তি জাজ্বল্যমান। আল জাজারি মুসলিম বিজ্ঞানী এবং উদ্ভাবক জগতের তেমনই এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম। বহুগুণের অধিকারী আল জাজারি ছিলেন একাধারে গবেষক-বিজ্ঞানী, গণিতজ্ঞ, শিল্পী এমনকি সুদক্ষ যন্ত্র কৌশলী। আজ থেকে প্রায় ৮০০ বছর আগে তিনি লিখেছিলেন The Book of Knowledge of Ingenious Mechanical Devices (আরবীতে – কিতাব ফি মারিফত আল-হিয়াল আল-হান্দাসিয়া) নামের এক বিখ্যাত গ্রন্থ যেখানে ১০০ এর অধিক যন্ত্রের হদিশ এবং তৈরির পদ্ধতি বর্ণনা করেছিলেন।

আল জাজারি-র সংক্ষিপ্ত জীবন

ইতিহাস বলে আল জাজারি আনুমানিক ১১৩৬ খ্রিস্টাব্দে উত্তর মেসোপটেমিয়ায় জন্মগ্রহন করেন। জন্মস্থান নিয়ে যদিও গবেষকদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে এবং অনেকে মনে করেন তিনি জন্মেছিলেন আনাতোলিয়া (বর্তমান তুরস্ক) নামক জায়গায়। যদিও মনে করা হয় তার নাম জাজারি এসেছিল মেসোপটেমিয়ার ওই অঞ্চল থেকেই যাকে আল জাজিরা নামে সেখানকার লোক চিনত। উনার বাবা আর্তুকলু প্রাসাদে সেখানকার রাজার মুখ্য বৈজ্ঞানিক পদে কাজ করতেন। পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে নিজের অসাধারণ প্রতিভার জেরে তিনিও সেই পদলাভ করেন। তিনি সেই সময়ে লেখা বইপত্র এবং বানানো যন্ত্রপাতির প্রতি ভীষণ অনুরক্ত ছিলেন এবং সেই সমস্ত যন্ত্রকে আরও নিখুঁত করার লক্ষ্যে আজীবন কাজ করে গেছেন। তিনি তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থে সেইসমস্ত যন্ত্রের হদিশ দিয়ে গেছেন মনে করা হয় যেগুলি উনি নিজ হাতে বানিয়েছিলেন।

আল জাজারির বানানো কিছু বিখ্যাত যন্ত্র

আল জাজারির গ্রন্থে শতাধিক যন্ত্রের বর্ণনার মধ্যে প্রায় ৮০ রকমের জলযানের হদিশ পাওয়া যায়। বিভিন্ন রকমের ঘড়ি, ফোয়ারা, পানি উত্তোলক যন্ত্র এবং জল সরবরাহ পদ্ধতিতে তিনি প্রসিদ্ধ ছিলেন। ফ্লাশ দেয়া টয়লেটের জনক তিনি। তাঁকে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র তৈরীর পদ্ধতির উদ্ভাবক হিসেবে ধরা হয়। তিনি স্বয়ংক্রিয় জল দিয়ে হাত ধোয়ার যন্ত্র এবং বিখ্যাত ময়ূর ফোয়ারা বানিয়েছিলেন। তিনি এমন একটি স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র বানিয়েছিলেন যেটি জলে ভাসতে ভাসতে নিজে থেকেই সঙ্গীত পরিবেশন করবে। যন্ত্রটির বিশেষত্ব ছিল যে তার সঙ্গীত বদলানোও যেত। এখনকার অনেক বিজ্ঞানী তার এই বানানো যন্ত্রটিকে রোবট বা প্রোগ্রামিং এর আদিরূপ বলে ধরে থাকেন। তাঁর বানানো ঘড়িগুলোর মধ্যে সবথেকে বিখ্যাত ছিল হাতি ঘড়ি, জল ঘড়ি, মোমবাতি ঘড়ি, প্রাসাদ ঘড়ি ইত্যাদি।

১২০৬ খ্রিস্টাব্দে, সুলতান নাসিরউদ্দিন তাঁর প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে তাঁকে তার সমস্ত আবিষ্কার এবং উদ্ভাবন লিপিবদ্ধ করে রাখতে নির্দেশ দেন। তিনি তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থে সমস্ত যন্ত্রকে পরিচালন পদ্ধতির নিরিখে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করেছেন এবং সেগুলি বানানোর কৌশল লিপিবদ্ধ করে গেছেন। তাঁর গ্রন্থটি এখনকার প্রযুক্তি সম্পর্কীয় গ্রন্থগুলিতে অব্দি উল্লেখ করা হয়ে থাকে।