মুসলিম স্থাপত্য হিসেবে মসজিদে আকসা ও তার ইতিহাস

ইতিহাস Tamalika Basu
Великие мусульманские правители: Абдул-Малик
Мечеть Купол Скалы // Pierre Nicolas Ransonnette, engraver (1745-1810), Public Domain

মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এমন কিছু স্থাপত্য নিদর্শন তৈরি হয়েছে, হাজার বছর পার হলেও তার সৌন্দর্য ও আকর্ষণে কোনো কমতি নেই। মুসলিম স্থাপত্য নিদর্শনগুলো শিল্পকলা-চারুকলা এবং স্থাপত্যকলা-অলঙ্করণকলায় মান উত্তীর্ণ বলেই কাল থেকে কালান্তর স্মরণীয় হয়ে আছে এবং থাকবে। সারা বিশ্বে ইসলাম প্রচারের সঙ্গে যুগে যুগে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে জন্ম নিয়েছেন ক্ষণজন্মা প্রতাপশালী মুসলিম শাসক। তাদের হাতে নির্মিত অভূতপূর্ব দৃষ্টিনন্দন বিভিন্ন ইসলামিক স্থাপত্য ছড়িয়ে আছে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে।

মুসলিম স্থাপত্য-

স্থাপত্যশৈলীর মধ্যে রয়েছে মসজিদ, রাজপ্রাসাদ, দুর্গ, সেতুসহ বিভিন্ন ধরনের দালান। পারস্য অঞ্চলের পাশাপাশি ইসলামিক স্থাপনাগুলো গড়ে উঠেছিল ইউরোপ থেকে দক্ষিণ এশিয়া পর্যন্ত। অটোমান সাম্রাজ্যের বিস্তার ইসলামিক স্থাপনাকে নিয়ে গিয়েছিল অন্যমাত্রায়। অগণিত মুসলিম মহামনীষীর অক্লান্ত প্রচেষ্টার ফসল বিশ্বজুড়ে আজ ইসলামের মর্মবাণী পৌঁছে গেছে। ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি ইসলামিক স্থাপনাগুলো সভ্যতা ও ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশও। মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা শত সহস্র ইসলামিক স্থাপনার মধ্য থেকে এখন আমরা মসজিদে আকসা নিয়ে আলোকপাত করছি।

সুপ্রাচীন শহর জেরুজালেমে অবস্থিত ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম মসজিদ এবং প্রথম কেবলা ‘মসজিদুল আকসা’ বা ‘বাইতুল মুকাদ্দাস’ ।

মহানবী সা. মক্কার মসজিদুল হারাম, মদিনার মসজিদে নববি ও মসজিদুল আকসার উদ্দেশে সফরকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন, যা অন্য কোনো মসজিদ সম্পর্কে করেননি। এর গুরুত্ব সম্পর্কে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘ঘরে নামাজ পড়লে এক গুণ, মসজিদে ২৫ গুণ, মসজিদে নববি ও আকসায় ৫০ হাজার গুণ এবং মসজিদে হারামে এক লাখ গুণ সাওয়াব।’ -ইবনে মাজাহ

হযরত ইবরাহিম (আ.) কর্তৃক কাবাঘর নির্মাণের ৪০ বছর পর হযরত ইয়াকুব (আ.) জেরুজালেমে আল-আকসা মসজিদ নির্মাণ করেন। অতঃপর হযরত সুলায়মান (আ.) জিনদের মাধ্যমে এ পবিত্র মসজিদের পুনর্র্নিমাণ করেন। ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে পুরো বায়তুল মুকাদ্দাস এলাকা মুসলমানদের অধীনে আসে। ১০৯৯ সালের ১৫ জুলাই খ্রিস্টান ক্রুসেডাররা নামধারী মুসলিম শাসকদের সহায়তায় সমগ্র সিরিয়া ও ফিলিস্তিন দখল করে।

তারা ১০৯৯ সালের ৭ জুন বায়তুল মুকাদ্দাস অবরোধ করে এবং ১৫ জুলাই মসজিদের ভেতর প্রবেশ করে ব্যাপক পরিবর্তন করে একে গির্জায় পরিণত করে। ১১৬৯ সালের ২৩ মার্চ ফাতেমি খিলাফতের কেন্দ্রীয় খলিফার নির্দেশে সালাহউদ্দিন আইয়ুবি (রহ.) গভর্নর ও সেনাপ্রধান হয়ে মিশরে আগমন করেন। এরপর ১১৮৭ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে মুসলিম বীর সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবি (রহ.) জেরুজালেম শহর মুসলমানদের অধিকারে নিয়ে আসেন। অতঃপর ১১৮৭ সালের ২ অক্টোবর শুক্রবার সালাহউদ্দিন আইয়ুবি (রহ.) বিজয়ী বেশে বায়তুল মুকাদ্দাসে প্রবেশ করেন। বায়তুল মুকাদ্দাস মুক্ত হওয়ার পর সেখানকার মুসলিমরা প্রায় ৯০ বছর পর ক্রুসেডারদের অত্যাচার থেকে রেহাই পেয়েছিল।

Enjoy Ali Huda! Exclusive for your kids.
Enjoy Ali Huda! Exclusive for your kids.
Enjoy Ali Huda! Exclusive for your kids.