মেয়ে সন্তান বড় করার সময় কী কী মাথায় রাখতে হবে?

Guru dan murid © Pongpipat Yatra | Dreamstime.com

সমাজের এই চঞ্চল অবস্থায় মেয়েকে সঠিক পথে চালিত করে বড়ো করাটা প্রত্যেক বাবা মার কাছে চ্যালেঞ্জের। মেয়েদের সমাজে বর্তমানে ঠিক ভাবে চলাফেরা করাটা তাদের নিজেদের কাছেও একটা ভীতির বিষয়। বেশিরভাগ মেয়েরাই যদিও বাজার চলতি ফ্যাশানে গা ভাসিয়ে দিচ্ছে। সৌন্দর্যের সংজ্ঞা প্রতিদিন বদলাছে বিভিন্ন ভাবে। বর্তমানে এই সৌন্দর্যতা যেন বেশিরকমই যৌনতার দিকে ঝুঁকছে। প্রত্যেক মেয়েই অন্যের কাছে নিজেকে বিশেষভাবে উপস্থিত করতে চায়, এই কারণে সে তার কথাবার্তা, পোশাকে আনে বিপুল পরিবর্তন।

এই মূহুর্তে দাঁড়িয়ে তাই প্রত্যেক বাবা মা বিশেষত মুসলিম বাবা মায়েদের তাদের মেয়েদের প্রতি কড়া নজর রাখতে হবে। যাতে মেয়েরা বাইরের পরিবেশ যা কিছু ঘটছে তা যেন না করে।

সমাজে মেয়েদের যে আলাদা চোখে দেখা হয়, সেই চোখ থেকে সরিয়ে নিয়ে যেতে হবে । তার ওপর একটা শিশু স্বাভাবিকভাবে যেভাবে বেড়ে ওঠে, সেভাবেই বড়ো করে তুলুন। সমাজের বেঁধে দেওয়া নিয়মের বেড়াজালের ছাপ যেন তার সুন্দর জীবনে থাবা না বসাতে পারে। বাবা -মা র ভালোবাসা তার যেন কখনো কম বলে মনে হয়না। বাবা-মায়ের  ভালোবাসার পাশাপাশি তাকে বোঝান যে আল্লাও তাকে ভালোবাসে ঠিক যতটা আপনারা বাসেন।

মেয়ে বলে আলাদা করে তার ওপর বাধানিষেধ এর গন্ডি না এঁকে বাবা মা হিসেবে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যান। তার যেমন বয়স, সেরকম লেভেলের কথা তাকে শোনান; বয়সের সাথে সামাল রেখে মিশুন।

ভদ্রতা, বিনয় এগুলো তাদের আস্তে আস্তে শেখান,জোর করে চাপিয়ে দেবেন না। ভালো বক্তা না ভালো  শ্রোতা হতে শেখান, তাকে সাহস জোগাতে থাকুন এগিয়ে যাওয়ার পথে যাথে সে কখনো খুব ভেঙে না পড়ে।

বাবা-মা র সাথে সন্তানের সম্পর্ক থেকে শুরু করে যেকোনো দৃঢ় সম্পর্কের মধ্যে সবচেয়ে দরকারি জিনিস হল বিশ্বাস। কখনো এমন কথা বলবেন না বা ব্যবহার করবেন না যাতে আপনাদের প্রতি আপনার মেয়ের সন্দেহ জাগে বা বিশ্বাস টার মধ্যে চিড় ধরে।মেয়েকে খোলামেলা ভাবে চলতে দিন,শুধু ভুলটা শুধরে দেবার চেষ্টা করবেন। কারন চেচামেচি করে বুঝিয়ে কোনো লাভ হয় না,মেয়েকে বুঝতে শিখুন।

আল্লার সাথে তাদের সম্পর্কটাকে আস্তে আস্তে ভালোবাসার ছন্দে গাঁথুন। হিজাব এর ধারণাটা তাকে অল্প অল্প করে দিতে থাকুন। মেয়েদের জ্ঞান বাড়ানো ও চারিত্রিক দৃঢ়তা সুন্দরভাবে গড়ে তুলুন যাতে কখনো তাদের মনে না হয় যে কোনোকিছু জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আপনার মেয়ে যেন আপনাদের বাবা -মা হিসেবে পেয়ে গর্ববোধ করে। হিজাব পরে যেন সে আনন্দ উপভোগ করে, কোনো নিয়মের নাগপাশ না মনে করে।

আরো কিছু জিনিস যেগুলো আপনার মেয়েদেরকে মানুষ করার পাশাপাশি করুন

সেইসমস্ত মেয়ে যারা অন্যিয়ের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ করেছে, তাদের যেটুকু অধিকার সেটুকু ছিনিয়ে নিয়ে অনেক দূর এগিয়েছে। যারা আপনার মেয়ের পথে চলার অনুপ্রেরণা হবে,যেমন-ইমরানের মেয়ে মরিয়মকে বড়ো করার পদ্ধতি আমরা দেখেছি। জীবনের প্রতিটি ধাপকে তিনি তাঁর  মেয়েকে নিয়মানুবর্তীতার সাথে পার করেছেন। এছাড়াও আমরা জানি খুওয়ালিদের মেয়ে খাদিজার বেড়ে ওঠা একটা উদাহরণ হয়ে আছে। মেয়ের সাথে বন্ধু দের মতো মিশবেন যাতে একটা বন্ধন হয়। স্নেহের বাঁধনে জড়িয়ে রাখবেন প্রতিটি মূহুর্তকে তার সাথে।

মেয়েকে সবসময় আত্মবিশ্বাস যোগাবেন তার বড়ো হওয়ার পথে কারণ ভরসা সবথেকে বেশি এই দুনিয়াতে আপনাকে সে করে। আপনার আচরণে বোঝাতে হবে সে পৃথিবীতে কতটা  মূল্যবান। প্রতিটি মেয়েরই মাথা উঁচু করে সমাজে দরকার। যখন সে একা থাকে তাকে বোঝান যে সে একা নয় তার সাথে আল্লাহ আছে, তিনি সর্বক্ষণ তার রক্ষা করছেন। এভাবেই একজন মুসলিম নারী তার স্বভাবসিদ্ধ শিষ্টাচারের সাথে এক উদারচেতা মানসিকতা নিয়ে সমাজে বড় হবে।