SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

মৌলানা ওয়াহিদুদ্দিন খান: পদ্মবিভূষণ পেলেন এই শান্তির দূত

সমাজ ২৭ জানু. ২০২১
ফিচার
মৌলানা ওয়াহিদুদ্দিন খান

প্রতিবছরের মতো এবছরও ভারত সরকার প্রজাতন্ত্র দিবসে যে যে বিখ্যাত মনিষী ও বুদ্ধিজীবীরা পদ্মশ্রী ও পদ্মবিভূষণ পুরস্কার পেয়েছেন তাদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। সমকালীন নানা ক্ষেত্রের নানা বিখ্যাত ও শ্রদ্ধেয় মানুষ রয়েছেন সেই তালিকায়, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন মৌলানা ওয়াহিদুদ্দিন খান । নবতিপর এই মানুষটিকে ভারত সরকার ‘পদ্ম বিভূষণ’ পুরস্কারে ভূষিত করেছে।

১৯২৫ সালের পয়লা জানুয়ারি উত্তরপ্রদেশের আজমগড় এলাকায় এই বিখ্যাত সাধক ও ইসলামী পণ্ডিতের জন্ম হয়। প্রথাগত ইসলামিক শিক্ষার ধাপ পেরিয়ে তিনি সেমিনারীতে যোগদান করেন। সেখান ইসলামিক অধ্যাত্মবাদ সম্পর্কে বিশদে শিক্ষালাভ করে তিনি স্নাতক হন। বিশিষ্ট ইসলামী ধর্মতাত্ত্বিক ইসরার আহমেদ ও নাঈম সিদ্দিকীর মতো তিনিও খান আমিন আহসান ইসলাহী ও সৈয়দ আবুল আলা মওদুদীরের সঙ্গে হাত মিলিয়ে দিল্লির ইসলামিক সেন্টারের পত্তনে সাহায্য করেন। তাঁকে ভারতবর্ষে মুসলিম অধ্যাত্মবাদের অন্যতম একজন প্রতিভূ হিসাবে পরিগণিত করা হয়। তাঁর অপর নাম শান্তির রাষ্ট্রদূত।

বিক্ষুব্ধ মানুষের মধ্যে শান্তির বাণী প্রচার

১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর, ভারতবর্ষের ইতিহাসের অন্যতম একটি রক্তক্ষয়ী দিন। বাবরি মসজিদের কারণে যখন এই সময় হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে যখন সংঘাত অনিবার্য। তখন মৌলানা ওয়াহিদুদ্দিন খান স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে দুই ধর্মের মানুষের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ফেরানোর প্রয়াস নিয়েছিলেন। তাঁর মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারত যেন আবারও শান্তির পথে হাঁটতে পারে।

এই উদ্দেশ্যেই মৌলানা ওয়াহিদুদ্দিন খান আচার্য মুনি সুশীল কুমার ও চিদানন্দ স্বামীর সঙ্গে ১৫ দিনের শান্তি মিছিলে যোগ দেন। এই মিছিলের গন্তব্য ছিল মুম্বাই থেকে নাগপুর। পথিমধ্যে প্রায় ৩৬টি স্থানে তিনি মানুষকে বোঝাতে সক্ষম হন। তাঁর কথা শুনে মুসলমানরা হিংসার পথ থেকে সরে আসে। এই শান্তিমিছিল তখন ভারতের অশান্তির আগুন অনেকাংশেই কমিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিল।

সারা বিশ্বে বর্তমানে মৌলানা ওয়াহিদুদ্দিন খান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাণী প্রচার করেন। এর ফলে সর্বত্র ও সমাজের প্রতি সম্প্রদায়ে তিনি সম্মানিত। বিশ্বের সমস্ত ধর্মীয় গোষ্ঠী ও ধার্মিক সম্প্রদায়ের সভায় তিনি ভারতের আধ্যাত্মিক রাষ্ট্রদূত হিসাবে প্রেম শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা প্রদান করেন।

এই শান্তির বাণী প্রচারের জন্য তাঁর নিজস্ব একটি গোষ্ঠী রয়েছে, যারা শান্তির দূত নামে পরিচিত।

 মৌলানা ওয়াহিদুদ্দিন খান-এর পাণ্ডিত্য ও প্রকাশনা

কুরআন সংক্রান্ত ভাষ্য লেখার জন্য ও ইংরেজি ভাষায় অনুবাদ করার জন্য মৌলানা ওয়াহিদুদ্দিন খান-এর পরিচিতি রয়েছে। এছাড়া ১৯৭৬ সালে আর- রিশলা উর্দু পত্রিকার সূচনা তিনি নিজের হাতেই করেন। এই পত্রিকার প্রকাশিত তাঁর বিখ্যাত লেখাগুলি হল, ‘ইসলামে নারীর অধিকার’, ‘জিহাদের ধারণা’ প্রভৃতি।

এছাড়া তাঁর লিখিত নানা বিখ্যাত বইয়ের মধ্যে অন্যতম হল, শান্তি নবী, ইসলাম ও শান্তি, ব্লাসফেমি ইস্যু প্রভৃতি।

তিনি সর্বদা মুক্ত চিন্তার পক্ষে সওয়াল করেন। উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, সলমন রুশদির ‘স্যাটানিক ভার্সেস’ বইটি নিয়ে মুসলমান সমাজে যখন বিতর্ক শুরু হয়েছিল তিনি রুশদির মুক্ত চিন্তার সপক্ষেই যুক্তি দিয়েছিলেন।

ভারতীয় মুসলমান সমাজে অবদান

২০০১ সালে ভারতীয় মুসলমানদের উন্নতির জন্য মৌলানা ওয়াহিদুদ্দিন খান ‘সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড স্পিরিচুয়ালিটি’ স্থাপন করেন। এছাড়া ২০০৪ সালে তিনি ‘বাজপেয়ী হিমায়ত কমিটি’র পত্তন করে ভারতে রাজনৈতিক ভাবে হিন্দু মুসলমান সম্প্রীতির প্রয়াসে অংশগ্রহণ করেন। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাসী এই মানুষটি সারাজীবন চেষ্টা করে গিয়েছেন যাতে প্রতিটি মানুষ ভালভাবে থাকতে পারে।

এর আগে ২০০০ সালে মৌলানা ওয়াহিদুদ্দিন খান পদ্মভূষণ পুরস্কার পেয়েছেন। মাদার টেরেসার কাছ থেকে জাতীয় নাগরিক পুরস্কার ও রাজীব গান্ধী জাতীয় সম্ভাবনা পুরস্কার পেয়েছেন। এই বছর পদ্ম বিভূষণ তাঁর তাজে আরও একটু পালকের সংযোজন করল।