যারা সময়কে সঠিক কাজে লাগায় তারা অবশ্যই লাভবান হয়

সময় আল্লাহের সবচেয়ে বড় দান। তাঁর করুণাতেই আমরা আজ দিন, মাস, বছর হিসেব করে সময়কে কাজে লাগাতে পারি। একবার ভেবে দেখুনতো সময়ের হিসেব না জানলে জীবনধারণ কতটা কঠিন হয়ে পরে! সময় হিসেব করে আমরা নামাজ রোজা করি, কাজ করি এবং ব্যক্তিগত জীবনও কাটাই।

ইসলাম মানুষকে সময়ের বিষয়ে সচেতন থাকতে বলে। ইসলাম মতে সময়ের সঠিক ব্যবহার না করলে জীবন সঠিক পথে এগোয় না।

কিন্তু আজকের দিনে মানুষের সময় নিয়ে অসচেতনতা বেড়েই চলেছে। ঘন্টার পর ঘন্টা টি.ভি বা মোবাইল নিয়ে বসে থেকে দিনের বেশীর ভাগ সময়টাই নষ্ট করে ফেলে অবলীলায়। বর্তমান সমাজের উন্নতিতে মোবাইল গুরুত্বপূর্ণ, তবে তার অপব্যবহারকেই সময় নষ্ট বলা হয়। পৃথিবীর যেকোনো উন্নত দেশের মানুষ জীবনের ২০টা বছর মোবাইল বা কম্পিউটারে কাটায়। এর ফলে কী হয়? বিভিন্ন রকম শারীরিক ও মানসিক রোগের পাশাপাশি মানুষের জীবনযাত্রার ধরণ বিঘ্নিত হয় এতে। এক জ্ঞানী মানুষ বলেছিলেন, মানুষের সবচেয়ে বড় বন্ধু ও সবচেয়ে বড় শত্রু হলো সময়। যে মানুষ সময়ের সঠিক ব্যবহার করে সে পৌঁছে যায় উন্নতির চরম শিখরে আর যে সময় নষ্ট করে তার জীবনে উন্নতির লেশমাত্র ছায়াও দেখা যায় না।

আল্লাহ আমাদের ২৪ ঘন্টা সময় দিয়েছেন একটা দিনে, যারা কাজে লাগায় তারা ওই সময়ের মধ্যে বহুকিছু করে ফেলে, যারা কাজে লাগায় না তাদের কাছে পুরোটাই নষ্ট করার জন্য থাকে।

সুরা আল-আসর এ আল্লাহ বলেছেন, “সময়ের (বয়ে যাওয়ার) সাথে মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ, কিন্তু তাদের ক্ষতি হবে না যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে এবং পরষ্পরকে তাকীদ করে সত্যের এবং তাকীদ করে সবরের” ।

এই ক্ষুদ্র সুরাটির মধ্যে দিয়ে আল্লাহতাআলা এক গভীর বার্তা দিয়েছেন। যারা সময়কে সঠিক কাজে লাগায় তারা অবশ্যই লাভবান হয়।

হাদিস বর্ণিত একটি অংশে মহম্মদ (সাঃ) বলেছেন, “আমার কসম তোমরা খেওনা, কারণ আল্লাহই হলেন সময়।” কোরআন বিশেষজ্ঞ আলেমরা এই কথার ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁদের মতে এটি একটি রুপক। মহানবী (সাঃ)  বলতে চেয়েছেন যে- আল্লাহ্ই সময়ের সৃষ্টি কর্তা এবং তিনিই তা মনুষ্যজাতিকে অর্পণ করেছেন, তাই সমস্ত ইবাদত তাঁর দরবারেই হবে।

সময়ের সঠিক ব্যবহার সম্বন্ধে একজন মুসলমানের যা করণীয়-

দিনের নির্দিষ্ট সময় নামাজ পরা ও ইবাদত করার জন্য নির্দিষ্ট রাখুন।

কিছু সময় নিজের শরীর ও মনের পরিচর্চায় ব্যায় করুন।

প্রতিটি মানুষেরই পড়াশোনা, উপার্জন ও অন্যান্য বিভিন্ন কাজ থাকে। সেই খাতেও কিছুটা সময় বরাদ্দ করুন।

প্রত্যেক মানুষেরই পরিবারের সাথে কিছুটা সময় কাটানো উচিত। সেই সময়টুকু নিজের স্বামী/স্ত্রী ও ছেলেমেয়ে, আত্মীয়স্বজনদের সাথে কাটান।

কিছু জনসেবামূলক কাজের সাথে যুক্ত থাকলে তাতে কিছুটা সময় দিন। মানুষের কাজে হাত লাগান।

নিজের সময়কে সঠিক পথে কাজে লাগালে যত বড় কাজই করুন, সময়ের অভাব হবে না। কিন্তু যদি অহেতুক সময় নষ্ট করেন তাহলে সেই পেরিয়ে যাওয়া সময় আপনাকে কেউ ফেরত দেবে না। আশা করব আপনারা আল্লাহপাক ও নবীজি (সাঃ)-এর নির্দেশ সম্মানের সাথে পালন করছেন এবং নিজের জীবনকে সমৃদ্ধ করছেন।