যিকির – আপনার জীবনে আল্লাহর উপস্থিতি পাওয়ার ৪টি উপায়

ID 183797633 © Ruslee Yaena | Dreamstime.com

আল্লাহ আমাদের প্রাত্যাহিক জীবনের সকল ক্ষেত্রে উপস্থিত আছেন। আল্লাহর উপস্থিতি সম্পর্কে সচেতন হওয়ার জন্য আমাদেরকে কুরআন ও মহানবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের শিক্ষা দ্বারা আহ্বান করা হয়।

আল্লাহ মানুষকে স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, তাঁর আদেশ-নিষেধগুলি গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যানের ক্ষমতা আমাদেরকে দান করেছেন। আপনি যদি আল্লাহর হুকুমগুলি না মান্য করেন তবে তা এই জীবন ও পরবর্তী জীবনে করুণ পরিণতির কারণ হবে।

স্বাধীন ইচ্ছাশক্তিকে আল্লাহর হুকুমের অনুকূলে পরিচালনা করতে পারলে তবেই তা সফলতার কারণ হবে। কিন্তু বর্তমান সময়ে গুনাহের সরঞ্জাম অনেক সহজলভ্য হয়ে যাওয়ায় ইচ্ছাশক্তিকে ভাল পথে পরিচালনা করা অনেক কঠিন হয়ে দাড়িয়েছে।

কুরআন আমাদেরকে সরলপথে চলার জন্য তাকিদ দিয়েছে এবং এই সরলপথে চলার জন্য আমাদেরকে অনুশীলন করতে হবে। আর এই অনুশীলটিকেই যিকির বা আল্লাহর স্মরণ বলে অভিহিত করা হয়।

যিকিরের অনেক ধরন আছে। এই প্রবন্ধটিতে যিকির বা আল্লাহকে স্মরণ করার মাত্র কয়েকটি উপায় নিয়ে আলোচনা করা হবে।

১। কুরআন তেলাওয়াত করা

আল্লাহর কথাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম শ্রেষ্ঠ কথা বলে অভিহিত করেছেন। আমি পরামর্শ দিতে পারি যে, প্রতিদিন কুরআনের কিছু অংশ আমাদের তেলাওয়াত করা উচিত। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। এমনকি উত্তেজনার মুহূর্তে কুরআন তেলাওয়াত করা আপনাকে স্বাভাবিক হতে সাহায্য করবে।

অন্ততঃপক্ষে প্রত্যহ সূরা ইখলাসই পড়ুন। এটিতে যদিও ৪টি আয়াত আছে তবে তা একবার পাঠ করা কুরআনের এক-তৃতীয়াংশ তেলাওয়াতের সমান সওয়াব আপনাকে দান করবে।

এই সূরাটিতেই তাওহীদের মূল বিষয় আলোচনা করা হয়েছে, যার উপর পরিপূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন না করলে আপনি মুসলিম হতে পারবেন না।

২। আল্লাহর নাম শেখা, বোঝা এবং আবৃত্তি করা

৯৯টি নামের মধ্যে আলাহর শক্তি এবং প্রভাবের সকল দিক চলে এসেছে। এগুলি শিখুন, এগুলির অর্থ কী তা বোঝার চেষ্টা করুন; আপনার দু’আয় এই নামগুলি নিয়মিত উচ্চারণ করুন।

আল্লাহর এই নামগুলি এত ব্যাপক অর্থ ধারণ করে যে, এগুলি বুঝে পড়লে তা আপনার ঈমনাকে বৃদ্ধি করবে।

৩। নিজেকে নবীজী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ দ্বারা সজ্জিত করুন

নবীজী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবন, বাণী ও আমল ঈমানের তরক্কিতে এবং আল্লাহকে স্মরণ করার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ উপায় হিসাবে কাজ করে।

প্রাথমিকভাবে ইমাম নববীর ৪০ হাদীসের বিখ্যাত কিতাবটি বেছে নিন; কয়েক শতাব্দী ধরে ওলামায়ে কেরাম নবীজী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে জানার জন্য কি কি প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন তা জানুন।

নবীজী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন ও পরিস্থিতি সম্পর্কে আপনি যতটুকু পারেন তা শিখুন এবং নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করুন। আপনার প্রাত্যাহিক সকল ইবাদতের মত এটিও আপনার জন্য একটি সহজ আমল হতে পারে।

৪। যিকিরের জামাতের সাথে আবদ্ধ হন

আল্লাহর সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা কখনই একা একা সম্ভব হয়ে ওঠে না। এমন একটি সম্প্রদায় বা জামাতের সন্ধান করুন যারা আপনাকে ঈমানের বিষয়ে সহায়তা করতে পারে।

এমন কোনো জামাতের সন্ধান করুন যারা সমবেত হলে আল্লাহকে স্মরণ করে, তাঁর কথা আলোচনা করে। তাঁদের সাথে আপনিও শরীক হয়ে যান। এতে আপনার জন্য আল্লাহকে স্মরণ করা, দ্বীনের পথে চলা অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে।

আপনার স্থানীয় মসজিদে এমন কোনো জামাতের সাথে আবদ্ধ হওয়া, তাঁদের সাথে রাতের খাবার খাওয়া ইত্যাদিও একেকটি উপলক্ষ্য হতে পারে যা আপনাকে আল্লাহর স্মরণে সাহায্য করবে।

উপসংহারে বলা যায়, আমরা যে জীবনযাপন করি তা প্রায়শই ভারসাম্যের বাইরে চলে যায়। আল্লাহকে ভুলে যাওয়ার জন্য প্রায় সর্বত্রই বিভিন্ন উপকরণ রয়েছে; এবং আমরা কেবল আমাদের নিজস্ব ব্যক্তিগত বাসনাগুলি পূরণ করার দিকেই মনোনিবেশ করি।

কেবল যিকির এবং আল্লাহর অবিরাম স্মরণ দ্বারাই এই ভারসাম্য পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। এটি সম্পাদনের জন্য নির্দিষ্ট কোনও পন্থা নেই; এবং কুরআন ও সুন্নাহ আমাদেরকে অনেক সহায়ক জিনিসের সন্ধান দিয়েছে। এখানে মাত্র কয়েকটি উপায় নিয়ে আলোচনা করা হলো।