যিলহজ্জের মহিমান্বিত এই দিনগুলিকে অবহেলায় কাটাবেন না

© Ahmad Faizal Yahya | Dreamstime.com

যিলহজ্জ মাসের আগমনে হজ্জের মওসুম আমাদের নিকট এসেছে। এই মাসের প্রথম ১০দিন অমূল্য এবং মুসলমানদের জন্য মহান আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি লাভের এবং অগণিত নেয়ামত লাভের এক সুবর্ণ সুযোগ।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যিলহজ্জের প্রথম দশকের চেয়ে উত্তম এমন কোন দিন নেই, যে দিনগুলোর নেক আমল আল্লাহ্‌র নিকট অধিক পছন্দনীয়।” সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞাসা করলেন, “আল্লাহ্‌র পথে জিহাদও নয় ইয়া রাসূলুল্লাহ্‌?” তিনি বললেন, “আল্লাহ্‌র পথে জিহাদও নয়। অবশ্য সেই মুজাহিদের কথা ভিন্ন, যে জান-মাল নিয়ে জিহাদে বেরিয়ে পড়ে, কিন্তু আর কোনোকিছু নিয়ে ফিরে আসে না (অর্থাৎ আল্লাহর পথে শহীদ হয়ে যায়)।” (বুখারী)

যিলহজ্জর এই দশ দিন এ কারণে কোনো মুসলমানের জন্য অলসতার সাথে কাটানো উচিত নয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে, এই মহিমান্বিত দশ দিনেও বিভিন্ন দুনিয়াবী কাজে ব্যস্ত থাকার দরুন কোনো ইবাদতেই আমরা খুব বেশি মশগুল হতে পারি না। তাই, যিলহজ্জের এই প্রথম ১০ দিন মহান রব্বুল আ’লামিনের একনিষ্ঠ ইবাদতে ব্যয় করার চেষ্টা করুন।

যিলহজ্জের এই ১০ দিনের প্রতি ঘন্টা, মিনিট এবং সেকেন্ডকে ফলপ্রসু করতে বিভিন্ন উপায় রয়েছে। এখানে কয়েকটি আলোচনা করা হলঃ

১- রোজা

খুব বেশি দিন হয়নি যে, রমজান মাস বিদায় নিয়েছে। তবুও আরও একবার, মুসলমানদের নিজস্ব উপকারের জন্য রোজা রাখার একটি দুর্দান্ত সুযোগ এসেছে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম যিলহজ্জর প্রথম নয় দিন বিশেষত আরাফাতের দিন রোজা রাখতেন এবং অন্যদেরকেও উৎসাহিত করতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এর স্ত্রী হাফসা(রাযিঃ) বর্ণনা করেছেন যে, “নবীজী যিলহজ্জের প্রথম নয় দিন, আশুরার দিন এবং প্রতি মাসে তিন দিন এবং প্রতি মাসের প্রথম সোমবার ও দুই বৃহস্পতিবার রোজা রাখতেন।” (আবু দাউদ)

আপনার পরিবারের সদস্যদেরকে আপনার সাথে রোজা রাখার জন্য উত্সাহিত করুন এবং আপনার মুসলিম বন্ধু ও প্রতিবেশীদের সাথে শেয়ার করার জন্য বিশেষ খাবার তৈরি করুন। মনে রাখবেন, যিলহজ্জের প্রথম ১০ দিনের মধ্যে সৎকর্মগুলি বহুগুণে বাড়ানো হয়, তাই আপনি যতটা সম্ভব চেষ্টা করুন।

২- আল্লাহর স্মরণ

একজন মুসলিমের জিহ্বা সর্বদা তার পালনকর্তার স্মরণে মশগুল থাকা উচিত। আপনি হাইওয়ে দিয়ে গাড়ি চালাচ্ছেন বা মুদি দোকানের লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন বা যেই অবস্থাতেই আছেন না কেন, পরাক্রমশালী আল্লাহকে যতটা সম্ভব আপনার স্মরণে রাখুন।

যতক্ষণ সম্ভব তাকবীর (আল্লাহু আকবার), তাহমিদ (আলহামদুলিল্লাহ) এবং তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) পাঠ করতে থাকুন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “এ দশ দিনের তুলনায় অন্য কোন সময় আল্লাহর নিকট এতটা মর্যাদা পূর্ণ নয় বা তাতে আমল করা এতটা পছন্দনীয় নয়। সুতরাং এ দিনগুলোতে তোমরা অধিক পরিমাণ তাহলীল (লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ), তাকবীর (আল্লাহু আকবার) ও তাহমীদ (আলহামদুলিল্লাহ) পাঠ কর।” (মুসনাদ আহমদ) 

যিলহজ্জের এই ১০ দিন মসজিদ, বাড়ি, এমনকি অফিসে আল্লাহকে স্মরণ করার সময়, পুরুষদের দৃঢ় কণ্ঠে উচ্চস্বরে তাকবীর বলার কথা হাদিসে এসেছে, কিন্তু মহিলাদের এর বিপরীত আচরণ করতে হবে, তাদেরকে শান্ত স্বরেই তাকবীর বলতে হবে। সর্বশক্তিমান আল্লাহ তা’আলার স্মরণে আপনার ঘরের অতি কনিষ্ঠ সদস্যটিকেও নিযুক্ত করুন এবং তাদেরকে যিকিরের পাশাপাশি তিলাওয়াত করতেও উত্সাহিত করুন।

৩- ওমরাহ বা হজ্জ পালন করা

এ বছর এই মূল্যবান সুযোগটি বেশিরভাগ মানুষই পাচ্ছেন না। তবে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছু ঠিক করে দিবেন। তবে যারা হজ্জ ও ওমরাহ করার সুযোগ পাচ্ছেন তারা এটিকে অনেক বড় গণিমত মনে করে প্রতিটা মুহুর্তকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন, একটি কবুল হজ্জের সবচেয়ে ছোট পুরষ্কার হল জান্নাত।

৪- কুরবানি

ঈদের দিন হযরত ইবরাহিম আ’লাইহিস সালাম ও তাঁর প্রিয় পুত্র ইসমাইল আ’লাইহিস সালামের কুরবানির ঘটনার স্মরণে ও সম্মানে আল্লাহ তা’আলা সকল সামর্থ্যবান ঈমানদারদের জন্য কুরবানী করাকে ওয়াজিব সাব্যস্ত করেছেন। ঈদের দিন এটিই আল্লাহর দৃষ্টিতে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ আমল।

এজন্য, একটি মানসম্পন্ন পশুতে আপনার অর্থ ব্যয় করুন এবং আপনার সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝে মাংস বিতরণ করুন। যারা কুরবানি করার নিয়ত করেছেন তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত হল, তাঁরা নখ, গোঁফ ও দেহের অবাঞ্চিত লোম কাটা থেকে এই দশ দিন বিরত থাকুন। এই কাজটি আপনাকে একটি কুরবানির সমতুল্য সওয়াব দান করবে।

সুতরাং, যিলহজ্জের মহিমান্বিত এই ১০টি দিনকে কাজে লাগাতে আপনি আপনার সামর্থ্যমত যথাসাধ্য চেষ্টা করুন।