যুবকদের প্রতি রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের উপদেশ

141449 © Leo Lintang | Dreamstime.com

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “পাঁচটি বিষয় আসার পূর্বেই পাঁচটি বিষয় থেকে সুবিধা গ্রহণ করো- বৃদ্ধ হবার পূর্বেই তারুণ্য-যৌবনকাল থেকে সুবিধা গ্রহণ করো; অসুস্থ হবার পূর্বেই সুস্বাস্থ্য থেকে সুবিধা গ্রহণ করো; দরিদ্রতা এসে যাবার পূর্বেই সম্পদের সুব্যবহার করো; ব্যস্ততা এসে যাবার পূর্বেই অবসর সময়কে কাজে লাগাও এবং মৃত্যু এসে যাবার পূর্বেই ‘জীবন’ নামক এই নিয়ামতের সঠিক ব্যবহার করো।” (হাকিম)

যৌবনে কঠোর সংগ্রাম

যৌবনকাল হলো সংগ্রামের সময়, যৌবনকাল হলো এমন একটি সময় যে সময়ে আল্লাহর পথে সচেষ্ট হয়ে নিজেকে উৎসর্গ করা যায়! এই সময়ে তোমার কাঁধে বেশী দায়িত্বের বোঝা চাপেনি। কারণ সম্ভবত তুমি একা অথবা তোমার একটি স্ত্রী এবং সন্তান আছে। আগামীতে, সময় অতিবাহিত হবার সাথে সাথে তোমার দায়িত্ব আরও বাড়বে, দুনিয়ার সমস্যাগুলো তোমাকে ঘিরে ধরবে। তুমি তোমার পরিবার, সন্তান-সন্ততি এবং আত্মীয় স্বজনের সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করবে। এই সব কাজ গুলো করতে তোমার অনেকটা সময় ব্যয় হয়ে যাবে।

যারা এখন যৌবন বয়সে রয়েছ, তাদের উচিত নিজেকে সংগ্রামী এবং আত্মত্যাগী হিসেবে গড়ে তোলা। আমরা যদি তাদেরকে দেখি যারা আল্লাহর দ্বীনকে প্রথম বিজয়ী করেছিলেন, তাহলে আমরা দেখব তাদের অধিকাংশই ছিল যুবক। প্রকৃতপক্ষে, তাদের তিন-চতুর্থাংশ বা চার-পঞ্চমাংশের বয়স ছিল বিশ বছরের নিচে। তারা এমনটি করতে পেরেছিলেন, কারণ যৌবন কালই হলো আল্লাহর পথে প্রচেষ্টা এবং আত্মত্যাগের সময়। কেউ যদি বদর, মুতা প্রভৃতি যুদ্ধের দিকে খেয়াল করে তাহলে তরুণ-যুবক ছাড়া আর কাউকে খুঁজে পাবে না।

সাহাবীদের অনেকাংশই ছিলেন যুবক

আনাস বিন মালিক(রাযিঃ) বলেন- রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সাহাবীদের নিয়ে মদীনাতে আসলেন তখন আবু বকর ছাড়া কারও মাথার চুল সাদা ছিল না আর তিনিই দাঁড়িতে মেহেদী দিতেন। তখন আবু বকর(রাযিঃ) এর বয়স ছিল ৫১ বছর এবং উমর(রাযিঃ) এর বয়স ছিল ৪১ বছর। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিজরত করেছিলেন তার নবুওয়াতের তের বছর পর। সুতরাং যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর দাওয়াত প্রচার করেছিলেন এবং আবু বকর যখন ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন তখন তার বয়স ছিল ৩৮ বছর এবং অন্যান্যদের বয়স ছিল ১৫ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। এছাড়াও আরও কিছু ছোট ছোট ছেলেমেয়েও ছিল।

কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীন প্রত্যেক যুবককে একটি নির্দিষ্ট প্রশ্ন করবেন। “হাশরের ময়দানে কারও দুই পা ততক্ষণ পর্যন্ত তার জায়গা থেকে নড়বে না যতক্ষণ পর্যন্ত তাকে চারটি বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবেঃ তার জীবন সম্বন্ধে এবং জীবনের প্রতি সে কেমন ব্যবহার করেছে সে সম্বন্ধে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে; তার যৌবনকাল সম্বন্ধে এবং কিভাবে, কোন পথে তা ব্যয় করেছে সে সম্বন্ধে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে; তার জ্ঞানের সদ্ব্যবহার করেছে কিনা সে ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে; সে কোন পথে অর্থোপার্জন করেছে এবং কোন পথে তা ব্যয় করেছে সে সম্বন্ধে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।”

যৌবনকালকে হেলায় ফেলো না

আল্লাহ তা’আলা প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার জীবন সম্বন্ধে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। এরপরও তিনি প্রত্যেক ব্যক্তিকে দ্বিতীয় প্রশ্নটি করবেন আর দ্বিতীয় প্রশ্নটি হলো তার যৌবনাবস্থা সম্পর্কে। যদিও যৌবনকাল জীবনেরই একটি অংশ। তারপরও আল্লাহ তা’আলা যৌবনকাল সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। আল্লাহ তা’আলা কি কোনো চিন্তাভাবনা, কোনো যুক্তি, কোনো কারণ ছাড়াই অনেক কিছুর মধ্যে যৌবনকাল সম্পর্কে প্রশ্ন করার বিষয়টিকে বেছে নিলেন?

“তিনি আল্লাহ যিনি তোমাদেরকে (অসহায়) দুর্বল অবস্থায় সৃষ্টি করেছেন, দুর্বলতার পর দিয়েছেন শক্তি, শক্তির পর আবার দিয়েছেন দুর্বলতা ও বার্ধক্য। তিনি যা ইচ্ছে করেন সৃষ্টি করেন। তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞানী, সবচেয়ে শক্তিধর।” (আল কুরআন-৩০:৫৪)

আল্লাহ তা’আলা সেই সব যুবকদেরকে যারা যৌবনকাল থেকেই আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পন করেছে তাদেরকে কিয়ামতের দিন তাঁর আরশের নিচে ছায়া প্রদান করবেন, যখন অন্য কোন ছায়া থাকবে না।

তাই, হে যুবক ভাইয়েরা,
তুমি তোমার জীবনের সর্বোৎকৃষ্ট সময়ে রয়েছো। এই সময়টাই হলো প্রচেষ্টার সময়, উদ্যোগী হবার সময়, এই সময়টাই হলো ইবাদত করার সময় এবং এই সময়টাই হলো অপর ভাইকে ইসলামের দিকে আহ্বান করার সময়। এই সময়টাই হলো গতিময়তার সাথে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে কর্মতৎপর হবার সময়। তাই এখন তোমার অবশ্যিক দায়িত্ব হলো ইসলামের দিকে ধাবিত হওয়া, ইসলামকে জানা, ইসলামকে বাস্তবায়ন করা, মেনে চলা এবং ইসলামের দিকে মানুষকে ডাকা। যদি এই সুযোগ অতিক্রান্ত হয়ে যায়, তাহলে এমন সুবর্ণ সুযোগের আর কখনও পুনরাবৃত্তি ঘটবে না।