SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

যে কারণে রাসূল (সাঃ)-এর উপর ওহী নাযিল বন্ধ হয়েছিল

ইসলামে রূপান্তর ২৬ ডিসে. ২০২০
জানা-অজানা
ওহী নাযিল

একজন প্রকৃত মুমিন এ কথা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ তা’আলা সর্বজ্ঞ, সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। তিনি যা চান, তারই প্রতিফলন ঘটে। কোনো কাজে তাঁকে বাধ্য করার মত কেউ নেই। এবং তিনি কোনো কিছু করতে বাধ্যও নন। তাই তো তিনি মানবজাতিকে উপদেশ দিয়েছেন যেন তারা ভবিষ্যতে কোনো কিছু করার ইচ্ছা পোষণ করলে অথবা কোনো কিছু অর্জন করার জন্য মনস্থ করলে বিষয়টি সম্পাদন হওয়া না পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর ইচ্ছার উপর নির্ভর করে এবং ‘ইনশাআল্লাহ’ বলে।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলার ইতিবাচক প্রভাব

কারণ একমাত্র আল্লাহই বান্দার পূর্বাপর সকল বিষয় সম্পর্কে পরিপূর্ণ ওয়াকিবহাল। বান্দা যদি আল্লাহর উপর ভরসা করে, তবে তিনি বিষয়টি বান্দার জন্য মঙ্গলজনক হলে তা সম্পাদন করে দেন আর অকল্যাণকর হলে এর থেকে তাকে দূরে সরিয়ে রাখেন।

‘ইনশাআল্লাহ’ বলার দ্বারা কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ছাড়া নেতিবাচক কোনো প্রভাব পড়ে না। নেতিবাচক প্রভাব ‘ইনশাআল্লাহ’ মুখে উচ্চারণ না করার ক্ষেত্রেই পড়ে। আর ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দটি অতীত বা বর্তমান বিষয়ের ক্ষেত্রে নয়; বরং কেবল ভবিষ্যত সম্পর্কিত বিষয়েই বলতে হবে।

কোনো কাজের জন্য কারও সাথে ওয়াদা করলে প্রত্যেক মুমিনের ‘ইনশাআল্লাহ’ বলা উচিত। কেননা আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতিত কোনো ওয়াদাই পূরণ হওয়া সম্ভব নয়। তাই আল্লাহ তাঁর প্রিয় হাবিবকে এ ব্যাপারে নির্দেশ দিয়ে বলেন,

“‘ইনশাআল্লাহ’ (যদি আল্লাহ ইচ্ছা করেন) বলা ব্যতিত আপনি কোনো কাজের বিষয়ে বলবেন না যে, সেটি আমি আগামী কাল করব।” (আল কুরআন-১৮:২৩-২৪)

এ আয়াত নাযিলের প্রেক্ষাপট হিসেবে একটি শিক্ষণীয় ঘটনা তাফসীরের কিতাবসমূহে বর্ণিত হয়েছে।

মহানবী (সাঃ)-এর সত্যতা পরীক্ষা

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াতের সত্যতা পরীক্ষা করার জন্য একবার মক্কার কুরাইশ নেতৃবৃন্দ নযর বিন হারেস এবং উকবা বিন আবু মু’ঈতকে মদীনার ইহুদী আলেমদের কাছে পাঠালো।

তারা মদীনায় গিয়ে ইহুদী আলেমদের কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলো। তারা ইহুদি আলেমদেরকে বলল, ‘আপনারা তো তাওরাতের ইলমের অধিকারী। আমাদের গোত্রের একজন নবুওয়াতের দাবি করছে। আমরা তার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে এসেছি। আমাদেরকে তার সম্পর্কে এমন কিছু বিষয় শিখিয়ে দিন, যার দ্বারা আমরা তাঁকে পরীক্ষা করতে পারি।”

তাদের কথা শুনে ইহুদী আলেমরা বললো, “তোমরা তাঁকে তিনটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে।

১) তাকে ঐ সমস্ত যুবকদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবে, যারা বহুদিন পূর্বে দ্বীন পালনের জন্য পলায়ন করেছিল (আসহাবে কাহাফ) । তাদের কি অবস্থা হয়েছিল?

২) তোমরা তাকে আল্লাহর এক মুমিন বান্দা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবে, যিনি পূর্ব ও পশ্চিমের সকল দেশ ভ্রমণ করেছিলেন (যুলকারনাঈন)। তার ঘটনাটা আসলে কি ছিলো?

৩) তোমরা তাঁকে রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবে যে এটি কি?

সে যদি তোমাদের প্রশ্নের সঠিক জবাব দিতে পারে, তাহলে বুঝে নিবে সে একজন সত্য নবী। আর তোমরা তার অনুসরণ করবে। আর যদি সে উত্তর দিতে না পারে, তবে মনে করবে সে একজন মিথ্যুক।”

ওহী নাযিল বন্ধ

এই প্রশ্নগুলো নিয়ে তারা মক্কার কুরাইশদের নিকট ফিরে আসল। অতঃপর তারা সবাই মিলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট গমন করল এবং সেই তিনটি প্রশ্ন তাকে জিজ্ঞাসা করল। তাদের প্রশ্ন তিনটি শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আগামীকাল আমি তোমাদের প্রশ্নগুলোর উত্তর দিব।” এ ওয়াদা দিতে গিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম ‘ইনশাআল্লাহ্’ শব্দটা বলতে ভুলে গিয়েছিলেন। একথা শুনে কাফেররাও আগামীকাল উত্তর পাওয়ার ওয়াদা নিয়ে প্রস্থান করল।

কিন্তু, ওয়াদা করার সময় ভুলবশত ‘ইনশাআল্লাহ’ না বলার দরূন সেদিন থেকে শুরু করে ১৫ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরও এ ব্যাপারে কোনো ওহী নাযিল হল না। এ সময়ের মধ্যে জিবরাঈল(আঃ)-ও আগমন করেননি। মুশরিকরা এরপর তাঁর নবুওয়াত নিয়ে ঠাট্টা শুরু করে দিল।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামও খুব চিন্তায় পড়ে গেলেন। তিনি কি হল ভাবতে লাগলেন আর আল্লাহর পক্ষ থেকে উত্তরের অপেক্ষায় রইলেন।

অবশেষে ১৫ দিন পর সূরা আল-কাহাফ নাযিল করে আল্লাহ তা’আলা উপরে উল্লেখিত আয়াতসহ আসহাবে কাহাফ, যুলকারনাঈন ও রূহ বিষয়ে বিভিন্ন রহস্যময় তথ্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামকে জানিয়ে দিলেন।

একটু চিন্তা করুন! রাসূলের মত ব্যক্তিত্ব ‘ইনশাআল্লাহ’ না বলার কারণে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়ে ১৫ দিন পর্যন্ত ওহী নাযিল বন্ধ ছিল! আর আমরা অহরহ ‘ইনশাআল্লাহ’ না বলে কত ওয়াদা করে ফেলছি। আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক বুঝ দান করুন। আমীন