যে প্রেক্ষাপটে নবীজি (সাঃ)-এর জন্ম ও বেড়ে ওঠা (পর্ব ২)

পর্ব- ০২

দাদা আবদুল মুত্তালিব মারা যাওয়ার পরে চাচা আবু তালিব তার অভিভাবকত্ব গ্রহণ করলেন। যদিও চাচা গোত্র প্রধান এবং ব্যবসায়ী ছিলেন তার পরেও নির্মম বাস্তবতার শিকার এই এতিম বালক লেখাপড়ার কোনো সুযোগই পেল না। স্বল্প পারিশ্রমিকের বিনিময়ে রুক্ষ মরুভূমিতে রাখাল হিসাবে মেষ, ছাগল, উট, ঘোড়া চড়াতেন। ছোটবেলা থেকেই প্রাণীদের সাথে তার সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বের রুপ নেয়। তাই সব ধরনের প্রাণী তার আওয়াজ ইঙ্গিত এর ভাষা বুঝত। সমবয়সী চাচা ও বন্ধু হামজা দুর্ধর্ষ শিকারি হলেও তিনি কখনো প্রাণী শিকার এর অংশ নেননি। ফলে প্রাণীদের ভালোবাসো তিনি পেয়েছে প্রতিটি সংকটকালে।

রুক্ষ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো কিশোরকে সে-কালে বাণিজ্যযাত্রায় সাথে নেয়া হতো না। কিন্তু স্বাবলম্বী হওয়ার অদম্য আগ্রহে তিনি চাচা আবু তালিবের সাথে সিরিয়ার পথে বাণিজ্য কাফেলায় অংশ নিলেন মাত্র ১২ বছর বয়সে। পথে বুসরার কাছে খ্রিষ্টান দরবেশ বাহিরা এই বাণিজ্য কাফেলার সবাইকে আমন্ত্রণ জানালেন তার আস্তানায়। বালককে পশুপালের দেখভালের দায়িত্ব দিয়ে সবাই আমন্ত্রণে সাড়া দিতে গেলেন। বাহিরা তখন জিজ্ঞেস করলেন, কাফেলার আরেকজন কোথায়? তখন এই বালককে সামনে উপস্থিত করা হলো। তিনি বালককে দেখেই তার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে শনাক্ত করলেন। তিনি আবু তালিবকে বললেন, অনেক বড় ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে এই বালকের জন্যে। আমাদের কিতাবে বর্ণিত কিছু লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি তার মধ্যে। অতএব একে নিয়ে আপনি সিরিয়া যাবেন না। রোমান ও ইহুদিরা যদি তাকে শনাক্ত করতে পারে তবে তার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে, তার ক্ষতি করবে। আবু তালিব তার কথা শুনে একজন দাসের সাথে মক্কায় ফেরত পাঠালেন বালককে। আসলে এই বালকের সুরক্ষায় তিনি আজীবন কখনো কোনো ত্রুটি করেন নি।

কোরাইশ ও কায়েস গোত্রের লড়াইয়ে মুহাম্মদ কোরাইশদের পক্ষ অবলম্বন করলেন।

কায়েস গোত্র মক্কায় অনুষ্ঠিত বার্ষিক তীর্থমেলায় আগতদের মক্কার উপকণ্ঠে উত্যক্ত ও লুটপাট শুরু করল। দুই গোত্রের মধ্যে পর পর চার বছর লড়াই চলল।

ফুজ্জার যুদ্ধ নামে পরিচিত এ লড়াইয়ে কোরাইশরা বিজয়ী হলো। তবে ভবিষ্যতে শান্তি বজায় রাখার জন্যে কোরাইশদের উদ্যোগে ‘হিলফুল ফুজুল’ চুক্তি স্বাক্ষরিত হলো।

তিনি লড়াইয়ে সরাসরি অংশ না নিলেও তরুণ যুবকদের নিয়ে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেন। শান্তি বজায় রাখা ছাড়াও-

১. পথিক ও তীর্থযাত্রীদের জানমাল হেফাজত

২. গরিব দুস্থদের সাহায্য

৩. মজলুমের সহযোগিতা

৪. জালেমকে মক্কায় আশ্রয় না দেয়ার বিষয়ে বিবদমান উভয়পক্ষই একমত হলো।

শান্তিচুক্তি সম্পাদনের সময় বয়স্কদের পেছনে নীরবে যে দুজন তরুণ বসেছিলেন তাদের একজন হচ্ছেন তিনি আর অপরজন তার সারাজীবনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু আবু বকর।

অন্যায় ও জুলুমের বিপক্ষে তরুণ বয়স থেকেই তিনি ছিলেন অহিংস পন্থায় প্রতিকার প্রয়াসী।