যৌবন আল্লাহ প্রদত্ত বিশেষ নেয়ামত, একে বিফলে যেতে দেবেন না

ID 166076793 © Alexandra Barbu | Dreamstime.com
Fotoğraf: ID 166076793 © Alexandra Barbu | Dreamstime.com

আমরা সকলেই উপহার পছন্দ করি – তা কোনো প্রিয়জনের কাছ থেকেই হোক অথবা আমাদের প্রিয় কোনো দোকান থেকে সাধারণ কোনো পুরস্কার কিংবা বোনাস, যাই হোক না কেন।

আমাদের অনুভূতি আরও দ্বিগুণ হয় যখন এই উপহারটি বিশেষ কোনো অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দেওয়া হয়, যেমন ঈদ বা গ্রাজুয়েশন অথবা কেবল ধন্যবাদস্বরূপ।

আপনি যত বেশি সময় এগুলির প্রশংসা করতে পারেন, তত এই স্মৃতিগুলো সমগ্র জীবনব্যাপি স্থায়ী হয়। বেশিরভাগ সময় আপনি উপহারকে এমনরূপে চিন্তা করেন যাকে ছোঁয়া যাবে বা পরিমাপ করা যাবে। কিন্তু সবসময় এমনটি হয় না। কিছু উপহার রয়েছে জা অনুভব করতে হয়। তার উপলব্ধি আসল।

আপনি যে উপহারগুলো ছুঁয়ে দেখতে পারেন না সেগুলো কেমন?

“অতঃপর তিনি তাকে সুষম করেন, তাতে রূহ সঞ্চার করেন এবং তোমাদেরকে দেন কর্ণ, চক্ষু ও অন্তঃকরণ। তোমরা সামান্যই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর” (আল কুরআন-৩২:৯)

প্রকৃতির মুক্ত উপহারগুলো কেমন?

আপনি এগুলোকে ওভাবে বিবেচনা নাও করতে পারেন, কিন্তু আপনি যদি এই নেয়ামতগুলোকে উপহার হিসেবে বিবেচনা না করেন তবে এগুলোকে আর কি ভাববেন।

আমাদের জন্য জীবন সবচেয়ে বড় নিয়ামত। কারণ প্রত্যেকটি নতুন জীবনই জীবনের প্রথম বছর বা কয়েক বছর পার করতে পারে না।

এরপর রয়েছে ইসলামের নিয়ামত, যা দ্বারা আপনি আপনার জীবনকে সুন্দর ও সুখময় করে তুলতে পারেন। আপনি যত বেশি পরিমাণে ইসলামে প্রবেশ করবেন ততই আপনি এই উপহারের মর্ম উপলব্ধি করতে পারবেন।

এরপর সুস্থতার নিয়ামতের কথা না বললেই নয়। আপনি শেষবার কবে অসুস্থ হয়েছেন তা মনে পড়ে? তখন আপনার অনুভূতি কেমন ছিল? এমন অনেক মানুষ আছেন যারা স্বাস্থ্যহীনতায় ভুগছেন – তা শারীরিক হোক বা মানসিক। এবং একারণে স্বাস্থ্যবান ব্যক্তি যা উপভোগ করেন তা থেকে তারা বঞ্চিত থেকে যান।

যৌবনের উপহার

নবীজী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের একটি হাদিস থেকে আমরা জানতে পারিঃ

“পাঁচটি অবস্থার সন্মুখীন হওয়ার পূর্বেই তোমরা সেগুলোর যথাযথ মূল্যায়ন করোঃ বার্ধক্যের পূর্বে যৌবনের, অসুস্থতার পূর্বে সুস্থতার, অসচ্ছলতার পূর্বে সচ্ছলতার, ব্যস্ততার পূর্বে অবসরের এবং মৃত্যুর পূর্বে জীবনের” (হাকেম, শু’আবুল ঈমান)

জীবনের এই সময়কালটি এত মূল্যবান যে, বার্ধক্যে পৌঁছার আগেই আমাদের উচিত প্রাজ্ঞতার সাথে এই সময়কালটি অতিবাহিত করা।

আপনি কেন এমন মনে করেন?

মানুষ কীভাবে ভ্রূণের পর্যায় থেকে বৃদ্ধ বয়সে শারীরিক, মানসিক এবং জ্ঞানগতভাবে বিকশিত হয় তা খুবই আকর্ষণীয়।

যৌবনে আমরা এমন অনেক কিছুই করি যা শারীরিক বা মানসিক অবক্ষয়ের কারণে আগামী কোনো সময় থেকে আর করতে পারব না; যদিও আমরা যৌবনে মর্যাদাবোধ করি এবং মনে করি এই সময়টা আরও দীর্ঘায়িত হোক।

তারুণ্যের এই উপহারটি আমাদেরকে অবশ্যই স্বীকৃত পন্থায় এবং বুদ্ধিমত্তার সাথে ব্যবহার করতে হবে।

মেধা থেকে শুরু করে আধ্যাত্মিক এবং আর্থিক সকল সু্যোগ-সুবিধা যৌবনে আপনার জন্য উন্মুক্ত থাকে। সুতরাং, আসুন আমরা এই সময়টিকে যথার্থরূপে মূল্যায়ন করি।

এটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

৬৫ বছরের অধিক পর্যন্ত পরিবারের সদস্য বা প্রতিবেশীদের সাথে অতিবাহিত করুন, অবসরপ্রাপ্ত হোন বা কাজে থাকুন, এবং জীবনের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার বিষয়গুলি নোট করে রাখুন।

এর ভিতর আপনি দেখবেন ২০, ৩০ বছর বয়স থাকাকালীন আপনি সবচেয়ে বিস্ময়কর অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন-সেটি ইতিবাচক হোক বা নেতিবাচক।

আপনার যৌবন সত্যই খুব বিস্ময়কর!

যৌবনের মূল্য বুঝুন এবং বুদ্ধিমত্তার সাথে সময়কালটি অতিবাহিত করার চেষ্টা করুন। যেমন বলা হয়ে থাকে “দাঁত থাকতে দাঁতের মূল্য বুঝুন”।

আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আজই পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। উমরাহ ও হজ্জের নিয়তে অর্থ জমানো শুরু করুন। আপনার চিন্তা চেতনাকে আরও প্রশস্ত করুন এবং অলসভাবে বা অনর্থক কাজে সময় কাটানো থেকে বেঁচে থাকুন।

মনে রাখবেন জীবনের প্রতিটি দিনই আপনার জন্য উপহার স্বরূপ এবং আপনার প্রতিটা সৎ গুনাবলিও আপনার জন্য উপহার স্বরূপ। সুতরাং আপনার সময়কে ভাগ করুন এবং ভালো কাজে সময় অতিবাহিত করার জন্য পরিকল্পনা করুন।

আপনার যৌবন একটি উপহার, একটি নিয়ামত এবং একটি চিহ্ন – এটি উপভোগ করুন!

আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনে এবং আল্লাহর স্মরণে এই সময়কালটি উপভোগ করুন।

“এখন আমি তাদেরকে আমার নিদর্শনাবলী প্রদর্শন করাব পৃথিবীর দিগন্তে এবং তাদের নিজেদের মধ্যে; ফলে তাদের কাছে ফুটে উঠবে যে, এ কুরআন সত্য। আপনার পালনকর্তা সর্ববিষয়ে সাক্ষ্যদাতা, এটা কি যথেষ্ট নয়?” (আল কুরআন-৪১:৫৩)