SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

রজব মাসে রোজা রাখার হুকুম রয়েছে কি?

সিয়াম ১৬ ফেব্রু. ২০২১
মতামত
রজব মাসে রোজা
Photo by Bedis ElAcheche from Pexels

রজব মাস হারাম মাসসমূহের মধ্যে একটি। যে হারাম মাসসমূহের ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেছেন, “আসমান-যমীন সৃষ্টির দিন থেকেই আল্লাহর কিতাবে (লওহে মাহফুজে) মাসের সংখ্যা হল বার। তার মধ্যে চারটি নিষিদ্ধ মাস। এটা হল সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন। কাজেই, ঐ সময়ের মধ্যে নিজেদের উপর কোনো যুলুম করো না। মুশরিকদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মকভাবে যুদ্ধ করো, যেমনভাবে তারা তোমাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মকভাবে যুদ্ধ করে। জেনে রেখ, আল্লাহ অবশ্যই মুত্তাকীদের সাথে আছেন।” (আল কুরআন-৯:৩৬)। আয়াতে উল্লেখিত হারাম মাসগুলো হচ্ছে- রজব, যিলক্বদ, যিলহজ্জ ও মুহররম।

আবু বকরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “এক বছর হয় বার মাসে। এর মধ্যে চার মাস- হারাম (নিষিদ্ধ)। চারটির মধ্যে তিনটি ধারাবাহিকঃ যিলক্বদ, যিলহজ্জ, মুহররম ও আরেকটি হল রজব মাস; যেটি জুমাদাল উখরা ও শাবান মাসের মধ্যবর্তী।”

এ মাসগুলিকে ‘হারাম’ আখ্যায়িত করা হয় দু’টি কারণেঃ

১) এ মাসগুলোতে যুদ্ধ-বিগ্রহ হারাম হওয়ার কারণে। তবে শত্রু যদি প্রথমে যুদ্ধের সূত্রপাত করে তবে সেটি ভিন্ন ব্যাপার।

২) এ মাসগুলোতে হারাম বা গুনাহের কাজে লিপ্ত হওয়া অন্য মাসে লিপ্ত হওয়ার চেয়ে বেশি গুনাহ।

তাই আল্লাহ তা’আলা এ মাসগুলোতে গুনাহে লিপ্ত হওয়া নিষিদ্ধ করেছেন। উপরে উল্লেখ করা হয়েছে যেখানে আল্লাহ বলেছেন, “তোমরা এই মাসসমূহে নিজেদের উপর যুলুম করো না।” যদিও এ মাসগুলোর ন্যায় অন্য যে কোনো মাসেও গুনাহে লিপ্ত হওয়া নিষিদ্ধ; তদুপরি এ মাসগুলোতে গুনাহে লিপ্ত হওয়া অধিক মারাত্মক ও চরম ধৃষ্টতা।

কিন্তু বিশেষ কোনো ফযিলত বা সওয়াবের আশায় রজব মাসে রোজা রাখা বা রজব মাসের কিছু অংশে রোজা রাখার ব্যাপারে কোনো সহিহ হাদিস বর্ণিত হয়নি। কিছু কিছু মানুষ রজব মাসের বিশেষ ফজিলত রয়েছে মনে করে এ মাসের বিশেষ কিছু দিনে যে রোজা রাখে, তাদের এ ধরণের বিশ্বাসের কোনো ভিত্তি ইসলামী শরিয়তে নেই।

কেন রজব মাসে বেশি রোজা রাখা মুস্তাহাব ?

তবে হারাম মাসসমূহে (রজব একটি হারাম মাস) অন্য মাসের তুলনায় কিছু বেশি রোজা রাখা মুস্তাহাব মর্মে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে হাদিস বর্ণিত হয়েছে। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “হারাম মাসগুলোতে রোজা রাখো; এবং রোজা ভঙ্গও করো” (আবু দাউদ)

এ হাদিসটি যদি সাব্যস্ত হয় তবে হারাম মাসে রোজা রাখা মুস্তাহাব বা নফল প্রমাণিত হবে। অতএব, যে ব্যক্তি এ হাদিসের ভিত্তিতে রজব মাসে রোজা রাখে এবং অন্য হারাম মাসেও রোজা রাখে এতে কোনো অসুবিধা নেই। তবে শুধুমাত্র রজব মাসকে বিশেষ মর্যাদা দিয়ে রোজা রাখা সঠিক হবে না।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) রজব মাসের রোজা রাখা সম্পর্কে মাজমা’ঊল ফাতওয়া গ্রন্থে বলেন,

“পক্ষান্তরে রজব মাসে রোজা রাখা সংক্রান্ত সবগুলো হাদিসই দুর্বল; বরং কোনো কোনো হাদিস তো মাওযু (জাল ও বানোয়াট)। ওলামায়ে কেরামগণ এর কোনোটির উপরই নির্ভর করেন না। ফযিলতের ক্ষেত্রে যে মানের দুর্বল হাদিস বর্ণনা করা যায় এগুলি সে মানেরও নয়। বরং এ সংক্রান্ত বেশিরভাগ হাদিসই মাওযু (বানোয়াট) ও মিথ্যা।

মুসনাদে আহমাদ ও অন্যান্য হাদিস গ্রন্থে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয় সাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি হারাম মাসসমূহে রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এটি চারটি হারাম মাসের ব্যাপারেই এসেছে। বিশেষভাবে রজব মাসের ব্যাপারে নয়।”

রজব মাসে রোজা-নামায 

ইমাম ইবনুল কাইয়্যূম (রহঃ) বলেছেন, “রজব মাসে অতিরিক্ত সওয়াব ও ফযিলতের আশায় রোজা রাখা ও নফল নামায পড়ার ব্যাপারে যে কয়টি হাদিস বর্ণিত হয়েছে তাঁর সব কয়টিই মিথ্যা। (অর্থাৎ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এগুলির বর্ণনা প্রমাণিত নয়)”

ইবনে হাজার (রহঃ) রজব মাসের ফজিলত সম্পর্কে বলেছে, “এ মাসে রোজা রাখা বা এ মাসের বিশেষ বিশেষ দিনে রোজা রাখার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো কিছু হাদিসে বর্ণিত হয়নি। অথবা এ মাসের বিশেষ কোনো রাত্রিতে নামায পড়ার ব্যাপারে সহিহ কোন হাদিসও নেই।”

শাইখ সাইয়্যেদ সাবেক (রহঃ) “ফিকহুস সুন্নাহ’ গ্রন্থে বলেছেন, “অন্য মাসগুলোর উপর রজব মাসের বিশেষ কোনো ফযিলত নেই। তবে এটি হারাম মাসসমূহের একটি। এ মাসে রোজা রাখার বিশেষ কোনো ফযিলত কোনো সহিহ বা গ্রহনযোগ্য হাদিসে বর্ণিত হয়নি। বিশেষ যে কয়টি বর্ণনা পাওয়া যায় এগুমির কোনটিই দলিল হিসেবে গ্রহণ করার উপযুক্ত নয়।”

উপরোক্ত আলোচনা থেকে আশা করা যায় যে, পাঠক বুঝতে পেরছেন, রজব মাসের ২৭ তারিখ হোক (যেটি আমাদের সমাজে মিরাজের রাত্রি নামে প্রচলিত) বা অন্য যেকোনো দিন হোক, সেদিন সবিশেষ মর্যাদা দিয়ে বা বিশেষ সওয়াব ও ফযিলতের আশায় সালাত আদায় করা ও সিয়াম পালন করা বিদআত। অর্থাৎ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর কোনো সাহাবী থেকে এটি প্রমাণিত হয়।

আল্লাহ আমাদেরকে দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি করা থেকে হেফাজত করুন। আমীন।