SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

রজব মাস থেকেই প্রস্তুত হতে হবে রমজানের জন্য

উৎসব ১৪ ফেব্রু. ২০২১
ফোকাস
রজব মাস
Photo by Konevi from Pexels

রজব হল আরবি বর্ষের ৭ম মাস। রজব মাসের পূর্ণ নাম ‘আর রজব আর মুরাজ্জাব’। রজব শব্দের অর্থ সম্ভ্রান্ত, প্রাচুর্য্যময়, মহান। মুরাজ্জাব শব্দের অর্থ সম্মানিত। অর্থাৎ, রজবে মুরাজ্জাব অর্থ হলো প্রাচুর্যময় সম্মানিত মাস।

সম্মানিত চারটি মাসের মধ্যে অন্যতম হলো রজব মাস। বাকি তিনটি মাস হলো যিলক্বদ, যিলহজ্জ্ব ও মহররম। রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ তা’আলা আসমান-জমিন সৃষ্টি করার দিন থেকেই বছর হয় বারো মাসে। এর মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত। আর সেগুলি হল যিলক্বদ, যিলহজ্জ্ব, মহররম এবং ‘রজব’, যা জুমাদাল উখরা ও শাবানের মধ্যবর্তী।”

ইসলামের দৃষ্টিতে রজব মাসের বিশেষ তাৎপর্য ও গুরুত্ব রয়েছে। কুরআন-সুন্নাহর আলোকে এ মাসের বিশেষ কিছু তাৎপর্য এবং এ মাসের করণীয় ও বর্জনীয় কিছু বিষয় নিম্নে বর্ণিত হলঃ

রজব মাস-এ দু’আ কবুল হয়

আল্লাহ তা’আলা বিশেষ কিছু রাত ও দিনে তাঁর বান্দাদের দু’আ ব্যাপকভাবে কবুল করে থাকেন। এগুলির মধ্যে পাঁচটি রাত অন্যতম। আবদুল্লাহ ইবনে উমর(রাযিঃ) বলেন, “এমন পাঁচটি রাত আছে যেগুলোতে আল্লাহ তা’আলা বান্দার দু’আ ফিরিয়ে দেন না। জুম’আর রাত, রজবের প্রথম রাত, শাবানের ১৫ তারিখের রাত এবং দুই ঈদের রাত।’ (বায়হাকি)

কায়েস ইবনে উবাদা(রাযিঃ) বলেন, “রজবের ১০ম তারিখে মহান আল্লাহ বান্দার দু’আ কবুল করে থাকেন।” (কুরতুবি)

রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম রজব ও শাবান মাসব্যাপী এ দু’আটি বেশি বেশি পাঠ করতেন, “আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রজাবা ওয়া শা’বান, ওয়া বাল্লিগনা রমাদ্বান”

অর্থ: হে আল্লাহ! রজব ও শাবান মাস আমাদের জন্য বরকতময় করে দিন এবং আমাদেরকে রমজান মাস নসিব করুন। (বুখারি)

এ মাসে বিশেষ বা নির্ধারিত কোনো আমল নেই

ইসলামী শরিয়তের পক্ষ থেকে এ মাসের জন্য নির্ধারিত বিশেষ কোনো নামাজ, রোজা বা বিশেষ কোনো আমলের হুকুম দেওয়া হয়নি। তাই মনগড়া আমল করে এ মাসের ফজিলত ও বরকত নষ্ট করা যাবে না। রজব মাসের বরকত ও ফজিলত হাসিল করার জন্য অন্য মাসে পালনীয় ফরজ ইবাদতগুলো যথাযথভাবে পালন করতে হবে। রমজানের প্রস্তুতিতে বেশি বেশি নফল ইবাদত করতে হবে।

মহিমান্বিত মাসগুলোতে, বিশেষ করে রজব মাসে সতর্ক থাকতে হবে; যেন নিজের ওপর কোনো ধরনের জুলুম না হয়। অর্থাৎ, কোনো গুনাহ, পাপাচার বা অন্যায়-অপরাধ না হয়ে যায়। আর সবচেয়ে বড় জুলুম হচ্ছে শিরক করা। তাই এ মাসে শিরক সহ সকল গুনাহের ব্যাপারে খুব সতর্ক থাকতে হবে।

রজব মাস-এর রোজা

নফল রোজা রাখা অনেক ফজিলতপূর্ণ একটি আমল। তবে এ মাসে রোজা রাখার আলাদা কোনো ফজিলত হাদিসে বর্ণিত হয়নি। ইসলামী শরিয়ত কর্তৃক রোজা রাখার ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ দিনগুলো ছাড়া যেকোনো দিনই নফল রোজা রাখা যায়। তবে রজবে বিশেষ ফজিলতপূর্ণ মনে করে রোজা রাখা সুন্নত নয়। এ মাসে রোজা রাখাকে সুন্নত ও মুস্তাহাব মনে করাও ঠিক নয়।

রজবের ২৭ তারিখে রোজা রাখা

অনেক সমাজেই প্রচলিত আছে যে, ২৭ রজবে রোজা রাখা অনেক ফজিলত। অনেকের বিশ্বাস, এ দিনের রোজার ফজিলত এক হাজার রোজার সমান। অথচ এ ব্যাপারে সহিহ ও গ্রহণযোগ্য কোনো বর্ণনা হাদিসের কিতাবে পাওয়া যায় না। আল্লামা ইবনুল যাওযি, হাফেজ যাহাবি, তাহের পাটনি, আবদুল হাই লৌখনবি(রহঃ) প্রমুখ প্রখ্যাত হাদিসবিশারদ সহ অনেকেই এ রোজার ফজিলতকে ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলেছেন।

রজবে কুসংস্কার নয়

ইসলামপূর্ব জাহেলি যুগে রজব মাসে মুশরিকদের মধ্যে বিভিন্ন প্রথা প্রচলিত ছিল। তারা দেবতা-প্রতিমার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু জবাই করত। এটাকে তারা ‘আতিরা’ নাম দিয়েছিল। রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এই শিরকি প্রথাকে নির্মূল করেছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন, “দ্বীন ইসলামে ‘ফারা’ অর্থাৎ, উট বা বকরির প্রথম বাচ্চা প্রতিমার উদ্দেশ্যে জবাই করার কোনো বিধান নেই এবং ‘আতিরা’ও নেই।” অর্থাৎ রজব মাসে প্রতিমার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু জবাই করার কোনো প্রথা নেই।” (বুখারি)

রমজানের প্রস্তুতি

রজব মাস ও শাবান মাস হলো রমজান মাসের প্রস্তুতি। রমজান মাসে যেহেতু ইবাদতের সময়সূচির পরিবর্তন হয়, তাই সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে হবে। রমজান মাসের শেষ দশকে অতীব গুরুত্বপূর্ণ আমল ইতি’কাফ রয়েছে। তাই আগে থেকেই তার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। রমজান মাসকে সামনে রেখে অনেক মুনাফালোভী ব্যবসায়ী পণ্যে ভেজাল মেশানো শুরু করে ও মূল্যবৃদ্ধি করে। সমাজ থেকে এগুলো রোধ করতে হবে। রমজান মাসে এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড করা অত্যন্ত গর্হিত ও ঘৃণিত কাজ। গুনাহ সব সময়ই দুনাহ কিন্তু পবিত্রতম সময়ে বা পবিত্রতম স্থানে গুনাহ করা আরও কঠিন এবং সীমালঙ্ঘন। কুরআনে আল্লাহ বারবার বলেছেন, “তোমরা সীমালঙ্ঘন করো না।” এবং তিনি আরও বলেছেন, “আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদেরকে পছন্দ করেন না।”

সুতরাং, রজব ও শাবান মাস থেকেই নেক আমল বৃদ্ধি ও গুনাহ বর্জনের মাধ্যমে রমজানের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।