রমজানের তিনটি ঐতিহাসিক ঘটনা

dreamstime_xs_9062451
Ramadan menjelang waktu subuh © Hemin Xylan Mahzan | Dreamstime.com

রমজান মাসের গুরুত্ব সমগ্র মুসলমান জাতির কাছে অসামান্য। প্রতিটি মুসলমানের এই রমজান মাস পালন ফরজ, এই মাস পরীক্ষা নেয় একজন মুসলমানের ঈমানের, আত্মনিয়ন্ত্রণের ও আল্লাহের ইবাদতের। এই সময় অসংখ্য শিক্ষা লাভ করা যায়, আল্লাহের করুণা পাওয়া যায় এবং গুণাহর পাহাড় থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

এই রমজানের শেষ দশটি দিনে রয়েছে সবচেয়ে পবিত্রতম একটি রাত যার ওসিলায় মুক্তি পাওয়া সমস্ত নাপাক ও হারাম বস্তুর থেকে। এই রাতের ইবাদতে জান্নাত লেখা থাকে। এই রাতেই পবিত্র কোরআনকে আসমান থেকে পৃথিবীতে নাজিল করা হয়।

এই বিশেষ মাসে ঘটে গেছে বহু ঐতিহাসিক ঘটনা যা সমগ্র মুসলমান সম্প্রদায়ের জন্য গর্ব ও অহংকারে।

এখানে সেই ধরণেরই কিছু ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।

বদরের যুদ্ধ

আমরা প্রত্যেকেই জানি এই ঐতিহাসিক যুদ্ধের কথা। এই যুদ্ধে মাত্র ৩১৩ বীর মুসলমান সৈনিক নিরস্ত্র হয়ে কাফিরদের সাথে যুদ্ধ করেছিল। ছিল না কোনো শিরস্ত্রাণ অথবা বর্ম, আল্লাহ তাআলার নাম নিয়ে তারা খালি হাতে শুধু গাছের ডাল নিয়ে যুদ্ধ করেছিল। এই ভয়াবহ যুদ্ধে কাফির দের পরাজিত করেছিল মুসলমানরা। এই যুদ্ধে আল্লাহ আকাশ থেকে হাজার হাজার ফেরেস্তাদের পাঠিয়ে সাহায্য করেছিলেন মুসলমানদের। এই যুদ্ধে কাফিরদের মধ্যে আবু জাহেল, শায়েবাদের মতো মোট ৭০ জন প্রাণ হারায়। মুসলমানদের মধ্যে ১৪ জন বীর সৈনিক শাহাদাত পেয়েছিলেন।

এই যুদ্ধ হয়েছিল ৬২৪ খ্রীষ্টাব্দে, ২য় হিজরির ১৭ রমজানের দিনে বদরের মাঠে।

মক্কা জয়

সমগ্র মুসলমান জাতির জন্য সবচেয়ে গর্বের দিন অষ্টম হিজরির ২০ ও ২১ রমজান। এই সময়েই রাসূল (সা:) ও সাহাবা-এ-কিরাম শত্রুদের থেকে মক্কা উদ্ধার করেন। সেই সময় মুশরিকরা কাবা ঘরে ৩৬০টি মূর্তি রেখেছিল। সমস্ত মূর্তিগুলিকে অপসারণ করে আল্লাহর পবিত্র ঘরকে পবিত্র করা হয়।

নাখলার মূর্তি অপসারণ

অষ্টম হিজরিতেই রাসূল (সা:) হজরত খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রা:)-এর নেতৃত্বে একদল সৈন্য পাঠান নাখলায়। সেখানে কাফিররা একটা বিশালাকার মূর্তির পূজা করত। উজ্জা নামক এই মূর্তিকে অপসারণ করে তিনি ঘোষণা করেন যে ভবিষ্যতে কেউ আর এর পূজো করবে না।

এছাড়াও ঐতিহাসিক তাবুকের যুদ্ধের বেশ কিছু অংশ নবম হিজরির রজব মাসে সংঘটিত হয়।

১১ হিজরির রমজান মাসে নবীজি (সা:) প্রিয়পুত্রী ফাতিমা (রা:) জান্নাতবাসী হন