রমজানের পরেও কিভাবে হেদায়াতের পথে অবিচল থাকবেন

anis-coquelet-LanJEVFzxPw-unsplash
Tokyo Camii, Japonya. Fotoğraf: Anis Coquelet-Unsplash

এই রমজান আমাদের জন্য শেষ হয়ে গেছে। আমরা জানি যে, আমরা প্রতিবছর যা বলি, কোয়ারেন্টাইনের কারণে আমাদের পছন্দনীয় সেরকম অনেক আমলই আমরা এই বিশেষ মাসে করতে পারিনি। আমদের পরিবার-পরিজন,বন্ধুমহল এবং সমাজের সবাইকে নিয়ে আমরা একত্রে ইফতারের আয়োজন করতে পারিনি। মসজিদে তারাবিহের সালাতও আদায় করতে পারিনি। এমনকি আমাদের শহর বা গ্রামের সবার সাথে মিলে একত্রে ঈদের সালাতও আমরা আদায় করতে পারিনি । এটি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি পার্থিব ছিল এবং অবশেষে সব দিনগুলি একই রকম ছিল।

তাই হ্যাঁ, এই রমজানটি অনেক আলাদা ছিল। এ কারণে, এটি আমদের হতাশা ও দুঃখের কারণ হতে পারে। কিন্তু এতকিছুর পরও এর মানে এই নয় যে, এই মাসে কোনো রহমত ছিল না।

এটা এমন একটি মাস যেটাতে লাইলাতুল ক্বদর ছিল এবং ইনশাআল্লাহ আমরা আশা রাখি যে, করোনাভাইরাসজনিত কারণে হতাশা বা উদ্বেগ, একাকীত্ব, চাকরি চলে যাওয়া ইত্যাদির কারণে যারা কঠিন পরিস্থিতিতে রোজা রেখেছিলেন তাদের জন্য পুরস্কার আরও বেশি হতে পারে।

এছাড়া, রমজান এখনও আমাদের “(আমলের)পুনঃস্থাপন করার মাস”। এটি নিজেদের আমলকে আরও উন্নত করার এবং তাকওয়া (আল্লাহর ভয়) অর্জনের একটি মাস। বিশ্বব্যপি মহামারী চলুক বা না চলুক এই মাসটি সবসময়ের জন্য একই রকম।

রমজানে আল্লাহ আমাদেরকে গুনাহ থেকে বিরত থাকতে, অতিরিক্ত ইবাদতে লিপ্ত হতে এবং আমাদের চরিত্রের উন্নতি সাধন করার জন্য এক অনন্য সুযোগ দিয়ে থাকেন। সুতরাং, ঈদ আসার পরে যদি আমাদের সমস্ত কঠোর পরিশ্রমকে আমরা নষ্ট করে ফেলি তাহলে এটি খুবই লজ্জার একটি বিষয় হবে।

এখন যেহেতু শয়তান পুনরায় মুক্তি পেয়ে ফিরে আসছে, তাই আমাদের পুরানো অভ্যাস ও প্রলোভন যাতে ফিরে না আসে সেজন্য আমাদেরকে আগের চেয়ে আরও কঠোরভাবে সতর্ক হতে হবে।

এমনকি বছরের অন্য সময়ের তুলনায় রমজানে আমাদের মাঝে আমলের অনেক স্পৃহা জাগ্রত হয়। সামনে পথ চলার জন্য বিষয়টি আমাদেরকে মনে রাখতে হবে। রমজান আমাদেরকে যে বিশেষ সুরক্ষা দেয় তা আগামী বছর (রমজান) আসা পর্যন্ত আমাদের কাছে আর থাকবে না, যার অর্থ এখন আমলের সাথে জুড়ে থাকা আমাদের জন্য অনেকটাই কঠিন হবে।

নিজের শক্তিকে অবমূল্যায়ন করবেন না

আমি আর আপনি যদি রমজানে হারামের প্রতি আমাদের প্রলোভনকে প্রতিহত করতে পারি, তবে এর অর্থ রমজানের বাইরেও হারাম থেকে বেঁচে থাকতে আমরা সক্ষম। যদি আমরা রমজানে আমাদের ভাল অভ্যাসগুলির বিকাশ ঘটাতে পারি, তবে এর অর্থ রমজান শেষ হওয়ার পরেও ভাল অভ্যাসগুলিকে আমরা ধরে রাখতে সক্ষম। রমজান আমাদেরকে কোনো যাদুকরী শক্তি প্রদান করে না। আপনি যদি দেখতে পান যে, এই মাসে আপনি একজন ব্যক্তি এবং মুসলিম হিসাবে উন্নতি সাধন করতে পেরেছেন তবে এর অর্থ হলো, আপনার মধ্যে যোগ্যতা রয়েছে এবং রমজান কেবল আপনাকে পরিবর্তনের সূচনা ঘটানোর জন্য প্রস্তুত হতে সাহায্য করছে।

শুধুমাত্র মুখে না বলে কিভাবে আমরা এটা কাজে পরিণত করব? রমজানে আমরা সাধারণত এমন অনেক কাজ করি যা আমরা অন্য সময় হয়ত করি না।

আপনি রমজান মাসটি কিভাবে অতিবাহিত করেছেন তা একটু ভাবুন এবং সাধারণত যে সকল কাজ আপনি করেন না কিন্তু এখন করেছেন সেগুলোকে আপনি খুঁজে বের করুন। আপনি কি আপনার গুরুত্বহীন কাজগুলোকে বাদ দিয়েছেন? যদি তাই হয়, তাহলে ঐ কাজটির পরিবর্তে আপনি কোন কাজটি শুরু করেছেন? আপনি কি গান শোনা ছেড়েছেন? এর বদলে আপনি কোন কাজটি শুরু করেছেন? এভাবে আপনার রমজানের প্রত্যেকটি কাজ সম্পর্কে ভাবুন এবং নিজেকে প্রশ্ন করুন, “কিভাবে আমি এই বদ অভ্যাসটিকে ছেড়েছি এবং এর বদলে কোন কাজটি আমি শুরু করেছি?” অথবা “কিভাবে আমি অতিরিক্ত কিছু আমল করের শক্তি, সাহস ও সময় পেয়েছি এবং কিভাবে রমজান চলে যাওয়ার পরেও আমি এই আমলগুলিকে বাকি রাখতে পারি?” রমজান চলে যাওয়ার পরে সব বিষয়ই পরিবর্তন হয়ে যাবে এবং যথারীতি জীবনচালনা পুনরায় শুরু হবে, তবে এর অর্থ এই নয় যে আমরা এই মাস থেকে কিছুই শিখতে পারিনি এবং এই পরিবর্তনগুলিকে একটু হলেও নিজেরদের জীবনে ধরে রাখতে পারব না ।

তরুণদের জন্য একটি পরামর্শ

তরুণদের জন্য রমজানের বাইরে ভাল অভ্যাসগুলি বজায় রাখা বিশেষত কঠিন মনে হতে পারে, কারণ রমজান একটি সামাজিক(সমষ্টিক) সমর্থন প্রদান করে। এই রমজানের মতো  প্রত্যেক রমজানেই বেশিরভাগ মানুষ শারীরিকভাবে সুস্থ থাকে কারণ তারা পূর্ব থেকেই রমজানের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নেয় যা সকলকে আমলের উপর অবিচল থাকতে সাহায্য করে।  আরেকটা বিষয়, আপনার ভাল পথে চলা, আপনি ভাল মানুষের সহচার্য্যে কতটা থাকেন তার উপরও নির্ভর করে। তাই আপনি যদি কোনো আদর্শ বিচ্যুত বন্ধুর কারণে ঈমানের উপর অবিচল থাকতে না পারেন, তাহলে এখনই সময়, আপনি কোনো আদর্শবান মানুষকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করুন যে আপনাকে সৎ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করবে।

হেদায়াতের পথে চলার ক্ষেত্রে (অথবা হেদায়াতের পথের সন্ধান পেতে) আমাদের সবার অনন্য চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। তবে একমাত্র রমজানই আমাদের সেই পথে চলার একমাত্র সুযোগ নয়। আমরা যদি এই মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকি তবে আমরা আমাদের ভাল অভ্যাসগুলি বজায় রাখতে এবং রমজান শেষ হওয়ার পরেও ভুল পথে পরিচালিত হওয়ার প্রলোভন থেকে দূরে থাকতে পারব ইনশাআল্লাহ।