রমজানে স্পেশ্যাল ঘরকন্না টিপস

কয়েকদিন পরই শুরু হচ্ছে মাহে রমজান। এ মাসে জীবনযাপন অন্য রকম। এর মধ্যে রয়েছে করোনার থাবা। প্রত্যেক বছর  বিশ্বের সকল মুসলিম রমজান আসার পূর্বে নানা ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করে । সারা বিশ্বে পরে যায় সাজ সাজ রব ।  কিন্তু এ বছরের রমজানের প্রস্তুতি হয়ত আগের সকল রমজান থেকেই আলাদা কেন না এখন আমরা কোভিড-১৯ এর প্রকোপে গৃহবন্দী । সুতরাং, এখন প্রশ্ন জাগে এই কোভিড-১৯ এর ক্রান্তিকালে আপনি কি আপনার রমজান প্রস্তুতি নিয়ে ভেবে দেখেছেন ?

নিম্নলিখিত কিছু টিপস আপনাকে এই রমজান ২০২০ এ বুদ্ধিমত্তার সাথে শপিং এবং গেরস্থালি চালাতে সাহায্য করবে ।

  • রমজানে খাবার নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করা আমাদের অভ্যাস। রোজা আমাদের নমনীয় হতে শিক্ষা দেয়। এ জন্য খাবারদাবারে এ বছর সবার সংযমী হওয়া উচিত। এমনিতেই করোনার প্রভাবে নিম্ন আয়ের মানুষ খাদ্যসংকটে আছে। তাদের কথাও মাথায় রাখতে হবে। আপনার খাবার এর উপর ভিত্তি করে একটি লিস্ট তৈরি করুন এবং সেই অনুযায়ী বাজার করুন।  শুধুমাত্র সেইটুকু বাজার করুন যা এই রমজানে আপনার না হলেই নয় । মনে রাখবেন আমদের অনেকের এই প্রবণতা রয়েছে যা প্রয়োজন নয় সেটাও কিনে ফেলা । আমরা এই কাজটি করা থেকে নিজেদের বিরত রাখব ।
  • রোজায় গৃহিণীদের বেশি পরিশ্রম হয়। রান্নাঘরের রুটিন বদলে যায়। এ জন্য আগে থেকেই রান্নাঘর রোজার মাসের উপযোগী করে সাজিয়ে নিন। গোছানোর কাজটি করা থাকলে রোজায় কাজের চাপ কম হবে। বাসায় যদি গ্যাসের অসুবিধা থাকে তবে আগেই আলাদা একটি সিলিন্ডার গ্যাস এনে রাখতে পারেন। প্রয়োজনের সময় কাজে দেবে। রান্নাঘর থেকে অপ্রয়োজনীয় উপকরণ এখনই সরিয়ে ফেলুন। এবার নিন বিশেষ পদক্ষেপ। রান্নাঘরসহ বাড়ির অন্য ঘরও করে নিন জীবাণুমুক্ত। কুসুম গরম পানিতে ডিটারজেন্ট গুলিয়ে সঙ্গে কয়েক ফোঁটা জীবাণুনাশক মিশিয়ে মুছে ফেলতে হবে পুরো ঘরসহ অন্য তৈজস ও আসবাব।
  •  বাজেট তৈরি করুন এবং অতিরিক্ত জিনিসগুলো বাদ দিন, রমজানের জন্য আপনি যে বাজেট নির্ধারণ করেছেন তার সাথে মিল রেখে একটি তালিকা তৈরি  করুন । আপনার তালিকা অনুযায়ী বাজার করুন এবং কোনও ধরনের অতিরিক্ত আইটেম কেনা থেকে নিজেকে বিরত রাখুন ।
  • রোজায় ইফতার ও সাহিরর মেন্যু ঠিক করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সারা মাসের সাহরি ও ইফতারে কী কী দরকার তার একটি তালিকা করে নিন। এরপর সে অনুযায়ী কেনাকাটার কাজটা আগেভাগেই সেরে ফেলুন।
  • ফাষ্ট ফুড খেতে বাইরে যাবেন না। এটা আপনার শরীরের জন্য যেমন ক্ষতিকর ঠিক তেমনি এটা আপনার বাজেট  এর উপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে । সেই অর্থে ঘরোয়া খাবারের জুড়ি নেই । ঘরের খাবার যেমন আপনার শরীর এর জন্য ভালো তেমনি এটা আপনার অর্থ সাশ্রয়ে সাহায্য করবে ।
  • রোজায় এমন সব খাবার খাবেন যেগুলো আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। ইফতারে খাওয়ার জন্য খেজুর রাখুন। খেজুরের পুষ্টি উপাদান সারা দিন রোজা রাখার পর আপনাকে চাঙ্গা করতে সাহায্য করবে। রাতের খাদ্যতালিকায় বেশি করে সবজি রাখুন। ভিটামিন ও মিনারেলসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে পুরো রমজান। ইফতারে বিভিন্ন ফলের জুসও উপকার দেবে। দুপুরবেলা আমরা যেসব খাবার খাই সে একই ধরনের খাবার ইফতারের মেন্যুতে রাখতে পারেন। এতে ভালো এনার্জি পাবেন। রাতের খাবারটা হালকা রাখার চেষ্টা করুন। সেহরিতে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবারকে বেশি প্রাধান্য দিন। রোজায় বেশি বেশি সুপ খেতে পারেন। এটা আপনাকে হাইড্রেটেট রাখবে।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে গর্ভবতী মায়েরাও রোজা রাখতে পারবেন। তবে তাদের গর্ভস্থ শিশুর পুষ্টির জন্য ইফতারে, ইফতারের এক ঘণ্টা পরে, রাতের খাবারে এবং সাহরিতে অল্প অল্প করে খেতে হবে। গর্ভবতী মায়েদের খেজুর, কলা, মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, আয়রন ও ফাইবার এবং ক্যালসিয়াম জাতীয় খাবার খেতে হবে।
  • রোজায় শরীরচর্চা করবেন কি না এ নিয়েও অনেকে দ্বিধায় ভোগেন। কিছু নিয়ম মেনে রোজা রেখেও শরীরচর্চা করা যায়। তবে রোজা রেখে দিনের বেলায় অধিক হাঁটা বা কায়িক পরিশ্রম না করাই ভালো। ইফতারের এক ঘণ্টা পর বা তারাবির পর ব্যায়াম করুন। এখন যেহেতু বাইরে বের হওয়া মানা এ জন্য হাঁটা বা ব্যায়ামের পর্বটি ঘরে বা ছাদে সীমাবদ্ধ রাখুন।