রমযানের পর কিভাবে আমলের উপর ইস্তিকামাত থাকবেন?

আকীদাহ ১৫ এপ্রিল ২০২১ Contributor
আমলের উপর ইস্তিকামাত
Photo : Dreamstime

রমযান আসবে আবার চলে যাবে, এটাই নিয়ম। আল্লাহ যাদের তাওফিক দিয়েছেন, তারা রমযানের সিয়াম পালন করছেন। তবে রমযানের সিয়াম পালন করলেই যে দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় বিষয়টি এমন নয়। রমযান থেকে শিক্ষা নিয়ে রমযানের পরবর্তী সময়েও আমাদেরকে আমলের উপর ইস্তিকামাত থাকতে হবে। এবং সে আলোকে নিজের জীবন সাজাতে হবে। রমযানের পরেও কিভাবে আমলের উপর ইস্তিকামাত থাকা যায় সে সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোকপাত করা হল-

আমলের উপর ইস্তিকামাত: নিজের আমল নষ্ট করা চলবে না

রমযান মাসে মুমিন-মুসলমানরা সিয়াম পালনের পাশাপাশি তারাবিহ আদায়, যিকির-আযকার ও কুরআন তেলাওয়াতসহ বিভিন্ন সৎ আমলে নিজেদেরকে ব্যস্ত রাখেন। গোনাহের কাজ থেকে নিজেদেরকে দূরে রাখার চেষ্টা করেন। কিন্তু রমযান মাস চলে গেলে অনেকেই গাফিলতির দরুণ এসব আমল থেকে দূরে সরে যায়। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা’আলা বলেন, “তোমরা কখনও সেই নারীর মতো হয়ো না, যে অনেক পরিশ্রম করে নিজের জন্য কিছু সুতা কাটল, কিন্তু পরে তা নিজেই টুকরো টুকরো করে ছিঁড়ে ফেলল…” (আল কুরআন-১৬: ৯২)

বাল’আম বাউরার মত না হওয়া

বাল’আম বাউরার নাম আমরা হয়ত অনেকেই জানি। সে ছিল বনি ইসরাঈলের একজন বিখ্যাত বুজুর্গ। সে ঈমানের স্বাদ গ্রহণ করেছিল, কিন্তু পরে আবার কুফরের পথে ফিরে যায়। সে হিদায়েতের বিনিময়ে ভ্রষ্টতা ও মাগফিরাতের বিনিময়ে আজাব ক্রয় করে। তার ব্যাপারে আল্লাহ বলেন, “(হে মুহাম্মদ!) তুমি তাদের কাছে (এমন) একটি মানুষের কাহিনী (পড়ে) শোনাও, যার কাছে আমি (নবীর মাধ্যমে) আমার আয়াতসমূহ নাজিল করেছিলাম, সে তা থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে, অতঃপর শয়তান তার পিছু নেয় এবং সে সম্পূর্ণ গোমরা লোকদের দলভূক্ত হয়ে পড়ে।” (আল কুরআন-৭: ১৭৫)

শয়তানকে ভয় করা

রমযান মাসের পর শয়তানকে আবার পুর্বের ন্যায় ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু আল্লাহ আমাদের জানিয়েছেন যে, শয়তানের ষড়যন্ত্র দুর্বল। যে আল্লাহকে আঁকড়ে ধরবে আল্লাহ তাকে শয়তানের ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করবেন। শয়তানের লক্ষ্য হলো মানুষকে গোনাহের কাজে জড়িয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করানো। তাই শয়তান সর্বদা চায়, মুমিনদের রমযানের আমলগুলো কিভাবে ধ্বংস করা যায়। কিন্তু শয়তানের এসন ফাঁদে পা দেওয়া চলবে না।

এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, “শয়তান হচ্ছে তোমাদের শত্রু, অতএব তোমরা তাকে শত্রু হিসেবেই গ্রহণ করো; সে তার দলবলদের এ জন্যেই আহ্বান করে যেন তারা (তার আনুগত্য করে) জাহান্নামের বাসিন্দা হয়ে যেতে পারে।” (আল কুরআন-৩৫: ৬)

আমলের উপর ইস্তিকামাত: সালাত পরিত্যাগ না করা

রমযান মাসে অধিকাংশ মুসলমানই জামাতের সঙ্গে সালাত আদায় করেন। রমযানের পরও এই উত্তম অভ্যাসটি ধরে রাখতে হবে। কেননা সালাত হচ্ছে জীবন ও মরণে আলো। সালাত পরিবার ও সম্পত্তিতে বরকত হিসেবে কাজ করে। যার সালাত ঠিক, তার সব আমল ঠিক। সালাতে যত্নবান হওয়া প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, “তোমরা সালাতে (গভীরভাবে) যত্নবান হও, (বিশেষ করে) মধ্যবর্তী সালাত এবং তোমরা আল্লাহর জন্যে বিনীতভাবে দাঁড়িয়ে যাও।” (আল কুরআন-২: ২৩৮)

এছাড়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয় কিয়ামতের দিন বান্দার সকল আমলের মধ্যে প্রথমে তার সালাতের ব্যাপারে হিসাব নেওয়া হবে। যদি তা ঠিক থাকে তাহলে সে সফলকাম ও কামিয়াব হবে। আর যদি তা ঠিক না থাকে তাহলে সে ব্যর্থ ও ধ্বংস হবে।” (মুসনাদে আহমাদ)

আমলের উপর ইস্তিকামাত: কুরআন তেলাওয়াত পরিত্যাগ না করা

যারা শুধু রমযানে কুরআন তেলাওয়াত করে আর বাকী বছর তা পরিত্যাগ করে- তাদের দলভূক্ত হওয়া চলবে না। রমযানের বাইরেও নিয়মিত কুরআন তেলাওয়াত করতে হবে। প্রত্যেকের উচিত দিনের কোনো একটি সময় নির্দিষ্ট করা, যে সময়ে অল্প করে হলেও কুরআন তেলাওয়াত করা যায়। সম্ভব হলে অর্থ ও তাফসিরসহ কুরআন পাঠ করা। এক কথায় তাদের দলভূক্ত হওয়া যাবে না, যাদের ব্যাপারে আল্লাহ তা’আলা তার নবীর ভাষায় বলেছেন, “সেদিন রাসূল বলবে, হে মালিক! অবশ্যই আমার জাতি এই কোরআনকে (একটি) পরিত্যাজ্য (বিষয়) হিসেবে গ্রহণ করেছিল।” (আল কুরআন-২৫: ৩০)

শাওয়াল মাসের সিয়াম পালন করা

রমযান মাসের পর শাওয়াল মাসের রোযা পালনের ফজিলতের কথা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। আবু আইয়ূব আনসারী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি রমযান মাসে সিয়াম পালন করল, অতঃপর শাওয়াল মাসের ৬টি সিয়াম পালন করল তাহলে সে যেন পুরো বছর রোযা রাখল।” (মুসলিম)

পুরো বছর রোযার হিসাব হলো- রমযানের রোযা দশ মাসের জন্য। কেননা, প্রতিটি ভালো কাজ দশ গুণ। আর ৬ দিনের রোযা ৬০ দিন সমান অর্থাৎ ২ মাস। সুতরাং পূর্ণ এক বছর হচ্ছে। তাই এই সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত নয়। আর এই ৬টি রোযা ঈদুল ফিতরের পরে যে কোনো ৬ দিন রাখলেই যথেষ্ট।

শেষ কথা হল, রমযানের শিক্ষা সারা বছর কাজে লাগিয়ে আমলের উপর ইস্তিকামাত থাকতে হবে। কারণ, যে ভালো আমল করবে সে ভালো ফল পাবে। আর যে মন্দ আমল করবে, সে মন্দ পরিণাম ভোগ করবে।