রমযান ও রোযা বিষয়ক ১৫ টি হাদিস

সিয়াম Contributor
ফোকাস
dreamstime_xxl_77063996
© Korarit Panmisap | Dreamstime.com

পবিত্র রমযান মাস রহমত ও বরকতে পরিপূর্ণ। সারা বছরের মধ্যে মুসলিমরা প্রায় অধিকাংশই এই এক মাস রোযা পালনের মাধ্যমে নিজেদের আত্মিক উন্নতির পাশাপাশি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য চেষ্টা করে থাকে।

আল্লাহর কালাম (কুরআন) ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণী (হাদিস) থেকে আমাদের এ চেষ্টায় আমরা সর্বোচ্চ অনুপ্রেরণা পেতে পারি। সুতরাং রমযানে কুরআন-হাদিস অধ্যয়নে কিছু সময় বের করে নেওয়া আমাদের সকলের কর্তব্য।

রমযানে আমাদের প্রায় সবারই কিছু না কিছু কুরআন তেলাওয়াত ও অধ্যয়ন হয়। সে তুলনায় আমাদের হাদিস অধ্যয়ন খুবই কমই হয়। কিন্তু ইসলাম সম্পর্কে নির্দেশনার বিষয়ে কুরআনের পরপরই হাদীসের অবস্থান। সুতরাং, কুরআনের পাশাপাশি হাদিস অধ্যয়নেও আমাদের যথাযথ মনোযোগ দেওয়া উচিত।

নিম্নে রোযা সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের ১৫টি হাদিস উল্লেখ করা হলো।

হাদিস নং – ১

আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “রমযান মাস যখন শুরু হয়, তখন জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানকে শিকলে বন্দী করা হয়।” (বুখারী ও মুসলিম)

হাদিস নং – ২

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “রমযানে উমরা পালনের সওয়াব হজ্জ্ব পালনের সমান।” (বুখারী ও মুসলিম)

হাদিস নং – ৩

আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আদম সন্তানের প্রত্যেক সৎকর্মের ধরণ অনুসারে তাকে দশ থেকে সাতশত গুণ প্রতিদান দেওয়া হয়। কিন্তু রোযা একমাত্র এর ব্যতিক্রম। এর প্রতিদান স্বয়ং আল্লাহ নিজে দিবেন।

রোযাদারের জন্য দুইটি আনন্দের মুহূর্ত রয়েছে; একটি হল যখন সে ইফতার করে এবং অপরটি হল যখন সে তার প্রভুর সঙ্গে একান্তে মিলিত হয়। আর রোযাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিশকের সুগন্ধের চেয়েও অধিক প্রিয়।” (বুখারী)

হাদিস নং – ৪

আবু আইয়ুব আনসারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি রমযানের রোযা রাখল এবং এরপর শাওয়াল মাসে আরও ছয়টি রোযা রাখলো, সে যেনো সারা বছরই রোযা রাখল।” (মুসলিম)

হাদিস নং – ৫

আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “রোযা হল ঢালস্বরূপ; সুতরাং তোমাদের কেউ যখন রোযা রাখবে তার না উচিত হবে নিজেকে অশালীন কথার সাথে জড়ানো আর না উচিত হবে রাগে কণ্ঠস্বরকে উচু করা। কেউ যদি তার সাথে ঝগড়া করতে আসে বা তাকে অপমান করে, সে যেনো তাকে বলে দেয়, ‘আমি রোযাদার’।” (মুসলিম)

হাদিস নং – ৬

আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “পাঁচ ওয়াক্ত সালাত তাঁর পরবর্তী ওয়াক্তের সালাত পর্যন্ত, এক জুম’আর সালাত তাঁর পরবর্তী জুমার সালাত পর্যন্ত এবং এক রমযান থেকে তাঁর পরবর্তী রমযানের মধ্যবর্তী সময়ের মধ্যে গুনাহসমূহের জন্য কাফফারা স্বরূপ। যদি ব্যক্তি ঐ সময়ের মধ্যে কোনো কবীরা গুনাহ করা থেকে বিরত থাকে।” (বুখারী)

হাদিস নং – ৭

আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি রমযান মাসে আন্তরিকতার সাথে রোযা রাখে এবং এবং আল্লাহর কাছ থেকে এর প্রতিদানের আশা রাখে, তার অতীতের গুনাহসমূহকে মাফ করে দেওয়া হয়।” (বুখারী ও মুসলিম)

হাদিস নং – ৮

আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি রমযানের রাতে ঈমান ও প্রতিদানের আশা নিয়ে (নফল) সালাত আদায়ের জন্য দাঁড়াবে, তার অতীতের গুনাহসমূহকে মাফ করে দেওয়া হবে।” (নাসাঈ)

হাদিস নং – ৯

আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “লাইলাতুল কদরের রাতে যে ব্যক্তি ঈমান ও প্রতিদানের প্রত্যাশা নিয়ে (নফল) সালাত আদায়ের জন্য দাঁড়াবে, তার অতীতের গুনাহসমূহকে মাফ করে দেওয়া হবে।” (নাসাঈ)

হাদিস নং – ১০

আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহকে সন্তুষ্টির জন্য একদিন রোযা রাখবে, আল্লাহ তাকে জাহান্নামের আগুন থেকে সত্তর বছরের দূরত্বে নিয়ে যাবেন।” (বুখারী ও মুসলিম)

হাদিস নং – ১১

উসমান ইবনে আবুল আস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “রোযা জাহান্নামের আগুনের বিরুদ্ধে ঢালের মত কাজ করে।” (নাসাঈ)

হাদিস নং – ১২

আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিন রোযা ও কুরআন বান্দার পক্ষ থেকে আল্লাহর কাছে শাফায়াত করবে।

রোযা বলবে, “হে আমার রব! আমি তাকে দিনের বেলা খাদ্য ও অন্যান্য চাহিদা থেকে বিরত রেখেছিলাম। সুতরাং, তার জন্য আমার শাফায়াত কবুল করুন।”

কুরআন বলবে, “হে আমার রব! আমি তাকে রাতের বেলা ঘুম থেকে বিরত রেখেছিলাম। সুতরাং, তার জন্য আমার শাফায়াত কবুল করুন।”

বান্দার জন্য তাদের উভয়ের শাফায়াত কবুল করা হবে।” (মুসনাদে আহমাদ)

হাদিস নং – ১৩

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেছেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন সকলের চেয়ে অধিক দানশীল এবং রমযানে তার এ দানশীলতা আরও বেড়ে যেতো যখন জিবরাইল (আঃ) তার সাথে সাক্ষাত করতেন।” (বুখারী)

হাদিস নং – ১৪

আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম রমযানে বছরের অন্য সময়ের তুলনায় বেশি ইবাদত করতেন এবং রমযানের শেষ দশরাতে ইবাদতের পরিমাণ আরও বেড়ে যেতো।” (মুসলিম)

হাদিস নং – ১৫

আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতি রমযানে দশদিন ইতিকাফ করতেন। যে বছর তিনি ইন্তেকাল করেন, সেই রমযানে তিনি বিশদিন ইতিকাফ করেন। (বুখারী)

Enjoy Ali Huda! Exclusive for your kids.
Enjoy Ali Huda! Exclusive for your kids.
Enjoy Ali Huda! Exclusive for your kids.