রমযান মাসের ফজিলত ও বৈশিষ্ট্য-এর বর্ণনা

উৎসব ২২ এপ্রিল ২০২১ Contributor
ফিচার
রমযান মাসের ফজিলত
Photo : Dreamstime

আরবি মাসসমূহের মধ্যে রমযান অন্যতম বরকতময় ও মর্যাদাপূর্ণ মাস। এ মাসের গুরুত্ব ও বৈশিষ্ট্য অপরিসীম। এ মাসে আল্লাহ তাঁর বান্দার উপর যে অনুগ্রহ করেন দুনিয়ার কোনো সম্পদের সঙ্গে তার তুলনা চলে না। রমযান মাসের ফজিলত ও  অনন্য বৈশিষ্ট্য হল, বালেগ ও সুস্থ মুসলিমদের জন্য এ মাসজুড়ে রোযা পালন করা ফরজ।

রমযান মাসের ফজিলত ও বৈশিষ্ট্যঃ কুরআন নাজিলের মাস

রহমতের বার্তাবাহী মাস রমযানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, এটি পবিত্র কুরআন নাজিলের মাস। রমযানের এক সম্মানিত রাত লাইলাতুল ক্বদরে আল্লাহ তা’আলা উম্মতে মুহাম্মাদির জীবন পরিচালনার বিধান হিসেবে মহাগ্রন্থ আল-কুরআন নাজিল করেছেন। একাধিক আয়াতে বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে।

“রমাযান হল সেই মাস- যার মধ্যে কুরআন নাযিল করা হয়েছে লোকেদের পথ প্রদর্শক এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট বর্ণনারূপে এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে।” (আল কুরআন-২: ১৮৫)

“আমি একে (কুরআনকে) নাজিল করেছি লাইলাতুল-ক্বদরে।” (আল কুরআন-৯৭: ১)

জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়ার মাস

রমযান মাসে রোযার সম্মানে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। মানুষ যাতে এ মাসের বরকত লাভ করতে পারে সেজন্য শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে রাখা হয়।

হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন রমযান আসে তখন জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়, আর জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানদেরকে আবদ্ধ করে রাখা হয়।” (বুখারি, মুসলিম)

এ বৈশিষ্ট্যের অন্যতম ফলাফল হল, রমযান মাসে মানুষ ইবাদত ও নেক আমলের দিকে বেশি তৎপর হয় এবং সব ধরণের মানুষকেই মসজিদমুখী হতে দেখা যায়।

রমযান মাসের ফজিলত ও বৈশিষ্ট্যঃ লাইলাতুল কদরের মাস

এ মাসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ‘লাইলাতুল ক্বদর’। এই মহিমান্বিত রাতটি হাজার মাস ইবাদতের চেয়েও উত্তম। এ রাতে কুরআনুল কারিম নাজিল করা হয়েছে বলে এ রাতের মাহাত্ম্য এত বেশি। রমযানের শেষ দশকের যে কোনো একটি বেজোড় রাত ‘লাইলাতুল ক্বদর’।

আল্লাহ তাআলা বলেন, “আমি একে (কুরআনকে) নাজিল করেছি লাইলাতুল ক্বদরে। আপনি কি জানেন কি লাইলাতুল ক্বদর কী? লাইলাতুল ক্বদর হল এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। (আল কুরআন-৯৭: ১-৩)

এছাড়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “রমযানে এমন একটি রাত রয়েছে যা এক হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। যে ব্যক্তি এই রাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হল, সে মূলত সকল কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত হল।” (নাসাঈ)

দু’আ কবুল ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির মাস

রমযান মাসের দু’আ আল্লাহ তা’আলা কবুল করে নেন এ মর্মে হাদিসে এসেছে, “রমযান মাসে প্রত্যেক মুসলমান আল্লাহর সমীপে দু’আ করে। আর তা কবুল হয়ে যায়।” (মুসনাদে আহামদ)

রমযান মাসকে তিন দশকে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে শেষ দশক হলো জাহান্নাম থেকে নাজাত বা মুক্তির মাস। হাদিসে এসেছে, আল্লাহ তা’আলা রমযানের প্রতি রাত ও দিনে অসংখ্য মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তির পরওয়ানা জারি করেন এবং প্রতিটি রাত ও দিনের বেলায় প্রত্যেক মুসলমানের দু’আ ও মোনাজাত কবুল করে থাকেন।” (মুসনাদে আহামদ)

মনে রাখবেন, রমযান পাওয়ার পরও যারা নিজেকে গুনাহ থেকে মুক্ত করে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করতে পারল না, তাদের ধিক্কার জানিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “ঐ ব্যক্তির নাক ধূলায় ধুসরিত হোক, যার কাছে রমযান মাস এসে চলে গেল; অথচ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করিয়ে নিতে পারল না।” (তিরমিযী)

নেক কাজের প্রতিদান বেড়ে যাওয়ার মাস

রমযান মাসে নেক কাজের প্রতিদান বহুগুণে বাড়িয়ে দেওয়া হয়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি রমযান মাসে কোনো নফল ইবাদত করল, সে যেন অন্য মাসের একটি ফরয আদায় করল। আর যে ব্যক্তি রমযানে কোনো ফরয আদায় করল, সে যেন অন্য মাসের সত্তরটি ফরয আদায় করল।”

রোযাদারের বিশেষ সম্মানের মাস

রমযান মাসের রোযা পালনকারীদের জন্য রয়েছে বিশেষ সম্মান। জান্নাতের একটি দরজা শুধু রমযানের রোযা পালনকারীদের জন্যই নির্ধারিত। এ দরজা দিয়ে অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। এ দরজাটির নাম ‘রাইয়্যান’।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “জান্নাতের একটি দরজা আছে যার নাম ‘রাইয়্যান’। কিয়ামতের দিন শুধু রোযাদারগণ এ দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তারা ব্যতিত অন্য কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশের সুযোগ পাবে না। ঘোষণা করা হবে- রোযাদারগণ কোথায়? তখন তারা দাঁড়াবে। তারা জান্নাতে প্রবেশের পর সে দরজা বন্ধ করে দেয়া হবে। আর কেউ তাতে প্রবেশের সুযোগ পাবে না।” (বুখারি)

এ ছাড়াও রমযান মাসের অনেক ফজিলত ও মর্যাদা রয়েছে। আল্লাহ তা’আলা মুসলিম উম্মাহকে রমযানের ফজিলত ও বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলো যথাযথভাবে পালনের তাওফিক দান করুন। রমযানের রহমত, বরকত, মাগফিরাত ও নাজাত লাভে ভূষিত করুন। আমিন।