রাগ নিয়ন্ত্রণ করবেন কীভাবে?

ID 31369531 © Palinchak | Dreamstime.com

জীবনে রাগ করেনি এমন মানুষ পৃথিবীতে খুঁজে পাওয়া খুবই মুশকিল। এক সাহাবি হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে অল্প কথায় কিছু নসিহত করুন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, রাগ বর্জন করো। সাহাবি কয়েকবার বললেন, আরও নসিহত করুন। প্রত্যেকবারই রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, রাগ বর্জন করো। -বোখারি শরীফ

রাগের কারণে আমাদের জীবনের নানা রকম সমস্যা হয়ে থাকে। অনিয়ন্ত্রিত রাগ মারাত্মক ক্ষতিকারক। কেউ কেউ বলে থাকেন রাগ হচ্ছে একটি বারুদের গুদামের মত। একবার বিস্ফোরিত হলে আশেপাশের সব কিছুকে ধ্বংস করে দেয়। মানুষ যখন রাগান্বিত হয় তখন তিনি তার বিবেক ও নৈতিক শিক্ষা ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে সবচেয়ে বেশি। ফলে তার দ্বারা যেকোনো অপরাধ বা খারাপ কাজ সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

ইসলাম ধর্ম রাগ নিয়ন্ত্রণ করার নির্দেশ দিয়েছে। ইসলাম মনে করে রাগ মানুষকে জ্ঞান বিবেক ও ধর্মের পথ থেকে দূরে সরিয়ে নেয়। এই রাগের কারণে মানুষের আচার-আচরণ ও চিন্তায় নেতিবাচকতা পরিলক্ষিত হয়। সুতরাং এটা স্পষ্ট যে রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কারণ রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে আমরা নিজেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হব।

রাগ নিয়ন্ত্রণের বিশ্বনবীর বেশ কিছু উপদেশ রয়েছে। তিনি বলেনঃ “ওই ব্যক্তি বীরপুরুষ নয় যে অন্যকে ধরাশায়ী করে; বরং সেই প্রকৃত বীর যে রাগ বা ক্রোধের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।” (বুখারি, মুসলিম ও মিশকাত)।

রাগের কারণে মানুষ নির্দয় এবং অত্যাচারমূলক ঘটনা ঘটিয়ে ফেলে। এবং পরবর্তীতে যার জন্য সে লজ্জিত হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে কঠিন মূল্য দিতে হয় এর জন্য। মানুষ স্বাভাবিক অবস্থায় একজন আরেকজনকে ক্ষমা করে দেয়া যতটা সহজ, রাগের সময় ক্ষমা করে দেয়াটা ততটাই কঠিন। বরং এর চাইতেও কঠিন। যারা প্রকৃত মুসলমান তারা রাগের সময় রাগকে নিয়ন্ত্রণ করে অন্যকে ক্ষমা করে দেয়। এ বিষয়ে মহান আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ “ ক্রোধান্বিত হলেও (রাগ দমন করে) ক্ষমা করে। “ (সুরা শুরা: আয়াত ৩৭)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষকে তার নিজের রাগ থেকে সব সময় নিজেকেই রক্ষার ব্যাপারে তাগিদ দিয়েছেন। বর্তমান সময়ে বিভিন্ন অসুখ থেকে সুস্থ হওয়ার জন্য চিকিৎসকরা এবং ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিগণ যে সকল উপদেশ দিয়ে থাকেন রাগ থেকে নিজেকে দূরে রাখা বা রাগ নিয়ন্ত্রণ করার কথা তার মধ্যে অন্যতম। কারণ রাগ এর দ্বারা মানুষের বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। যেমন উচ্চরক্তচাপ, ব্রেইন স্ট্রোক এবং হার্ট অ্যাটাক সহ বিভিন্ন ধরনের শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। অথচ রাগ নিয়ন্ত্রণ করে প্রশান্ত মনের অধিকারী হতে পারলেন নানা ধরনের জটিল রোগ থেকে আমরা মুক্ত থাকতে পারি।

রাগ বা ক্রোধ থেকে বেঁচে থাকতে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “রাগ বো ক্রোধ শয়তানের পক্ষ থেকে আসে। আর শয়তান আগুনের তৈরি। আর আগুনকে পানি দ্বারা ঠাণ্ডা বা নিভানো যায়। যদি কেউ রাগ বা ক্রোধান্বিত হয়; তবে তার উচিত অজু করে নেয়া।” (আবু দাউদ, মিশকাত)।

অন্য হাদিসে হজরত আবু যর গিফারি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যদি দাঁড়ানো অবস্থায় কেউ রাগান্বিত বা ক্রোধান্বিত হয়, তবে সে যেন বসে যায়। এতেও যদি তা প্রশমিত না হয় তবে সে যেন শুয়ে পড়ে।” (মুসনাদে আহমদ, তিরমিজি)।

একটি আদর্শ জীবন গঠনের জন্য, ইহকাল ও পরকালের শান্তি ও কল্যাণ লাভ করার জন্য রাগ ও ক্রোধ নিয়ন্ত্রণ করা অতীব জরুরী। রাগের যাবতীয় অনিষ্ট থেকে বেঁচে থাকার জন্য বিশ্বনবির ছোট্ট একটি হাদিসই যথেষ্ট। আর তা হলো- “রাগ মানুষের ঈমানকে নষ্ট করে দেয় যেমনিভাবে তিক্ত ফল মধুকে নষ্ট করে দেয়।” (বাইহাকি, মিশকাত) । মহান রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে রাত থেকে বেঁচে থাকার তৌফিক দান করুন।