রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনের নীতিমালা শক্তিশালী করেছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ

সেন্স Omar Faruque ০১-সেপ্টে.-২০১৯

২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনীতি সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞাপন প্রকাশে কঠোর হচ্ছে ফেসবুক। এরমধ্যে বিজ্ঞাপনদাতার পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বন্দুকের ব্যবহার কিংবা অভিবাসনের মতো রাজনৈতিক বা সামাজিক বড় কোনো ইস্যু ভিত্তিক বিজ্ঞাপন প্রচারের আগে বিজ্ঞাপনদাতাকে নাগরিকত্বের পরিচয় এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন এর প্রমাণ দিতে হবে।

সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে বিজ্ঞাপনদাতাদেরকে প্রতিষ্ঠানের টিন নম্বর এবং অন্যান্য সরকারি আইডি দিয়ে তাদের গোষ্ঠিগত পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনদাতাদের উদ্দেশে ফেসবুক ‘কনফার্মড অর্গানাইজেশন’ নামের একটি লেবেল চালু করেছে।

কিন্তু এই কঠোরতা সিস্টেমের অপব্যবহার থেকে বিরত রাখতে যথেষ্ট হবে কিনা তা স্পষ্ট নয়। যাচাইকৃত গোষ্ঠীর নাম “প্রদত্ত অর্থ প্রদানের মাধ্যমে” তালিকাভুক্ত করা হবে যেন তারা প্রকাশিত বিজ্ঞানকে অস্বীকার করতে না পারেন। ফেসবুক বলেছে, সরকারি নথির ভিত্তিতে এই তথ্যগুলো যাচাই করা হবে। নিশ্চিত বিজ্ঞাপনগুলোর জন্য দাবিনামা দেয়া হবে যার বিপরীতে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা যাবে।

অবশ্য ওই প্রক্রিয়াটি সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না, এমনটাই বলেছে ফেসবুক। জানিয়েছে বিজ্ঞাপন প্রকাশের জন্য কিছু কিছু ছোট কিন্তু বৈধ গ্রুপকে ওকালতনামা দেবে। ছোট ও তৃণমূল দল এবং স্থানীয় রাজনীতিকদেরও রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন চালানোর সুযোগ করে দেয়া হবে। এটাকে একটি ফস্কা গেড়ো হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। কেননা এই ফাঁক গলেই বদ কাজ সম্পাদনের সুযোগ থাকছে।

নিয়ম অনুযায়ী, যে বিজ্ঞাপনদাতার ট্যাক্স আইডি নাম্বার নেই, সরকারি ওয়েবসাইট বা ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের সাথে নিবন্ধন করে তারা একটি ঠিকানা, যাচাইযোগ্য ফোন নম্বর এবং ব্যবসায়িক ইমেইল প্রদান করে বিজ্ঞাপন পোস্ট করতেপারবেন। এই বিজ্ঞাপনদাতারা ‘সুনির্দিষ্ট’ কোনো পদবী পাবেন না । আগে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের একটি ঠিকানার প্রয়োজন ছিল । কিন্তু ধান্দাবাজরা এখনো ফোন নম্বর এবং ইমেল অ্যাড্রেস নিয়ে ধোঁকাবাজির পথ খুঁজে পাবেন ।

এ বিষয়ে এক ইমেইল বার্তায় ফেসবুকের পণ্য ব্যস্থাপক সারাহ শিফ বলেন, ‘আমরা স্বীকার করেছি যে টুলগুলি নিখুঁত হবে না। তবে ছোট সংস্থাগুলিকে দণ্ড না দিয়েই আমরা আমাদের প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহার রোধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ অনলাইন রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণের জন্য কোম্পানির আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন শিফ। তবে সমালোচকরা বলেছেন, ফেসবুকের আত্ম-নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা নিছক একটি উপায় যা কেবলমাত্র সরকারী কঠোর শৃঙ্খলাকে ধারণ করেছে মাত্র।

Source: The Independent, Bangladesh

Photo: Collected