রাজাকার তালিকায় মুক্তিযোদ্ধাদের নাম, খতিয়ে দেখছে সরকার

Uncategorized Tamalika Basu ১৬-ডিসে.-২০১৯

ঢাকা : মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ দেওয়ার পরও রাজাকারের তালিকাভুক্ত হওয়ায় বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার স্বজন ও সহযোদ্ধারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এটিকে চরম অসম্মান অভিহিত করে তারা বলছেন, গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধারা কীসের ভিত্তিতে এই তালিকাভুক্ত হলেন, সেই জবাবদিহি সরকারকে করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষকরাও বিস্ময় প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর ব্যাখ্যা দাবি করেছেন। কেউ কেউ এই তালিকা বাতিলের দাবি তুলেছেন।
তবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলছেন, একই নাম অনেকের থাকতে পারে। যারা চিহ্নিত মুক্তিযোদ্ধা তারা কেন তালিকাভুক্ত হবেন? সরকারি নথিতে যাদের তালিকা পাওয়া গেছে তাদের নামই বলা হয়েছে, নতুন করে কাউকে নথিভুক্ত করা হয়নি। একই নাম দেখে বিভ্রান্ত না হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
বাসদ নেতা ডা. মনীষা চক্রবর্তী ফেসবুকে লিখেছেন, ‘মানুষের জন্য নিঃস্বার্থ কাজ করার পুরস্কার পেলাম আজ। ধন্যবাদ আওয়ামী লীগকে। সদ্য প্রকাশিত রাজাকারদের গেজেটে আমার বাবা এবং ঠাকুমার নাম প্রকাশিত হয়েছে। আমার বাবা অ্যাডভোকেট তপন কুমার চক্রবর্তী একজন গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধা (ক্রমিক নং ১১২, পৃষ্ঠা ৪১১৩)। তিনি নিয়মিত মুক্তিযোদ্ধা ভাতাও পেয়ে থাকেন! আজ রাজাকারের তালিকায় তিনি ৬৫ নম্বরে আছেন।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমার ঠাকুরদা অ্যাডভোকেট সুধির কুমার চক্রবর্তীকে পাকিস্তানি মিলিটারি বাহিনী বাসা থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে। তিনিও ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃত। তার সহধর্মিণী আমার ঠাকুমা উষারানী চক্রবর্তীকে রাজাকারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’

রাজশাহী এলাকার রাজাকারের তালিকায় আছেন তিন জন আইনজীবী—অ্যাডভোকেট গোলাম আরিফ, অ্যাডভোকেট মহসীন ও অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম। এই নাম তিনটি দেখে এলাকায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। আওয়ামী লীগের নেতা, মুক্তিযোদ্ধাদের নাম কী করে তালিকায় এলো, সেই প্রশ্ন জনমনে। তালিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি স্তম্ভিত, বিস্মিত। এ ধরনের কিছু কী করে ঘটে? রাজশাহীতে গোলাম আরিফ নামে আর কোনও অ্যাডভোকেট আছে কি? অ্যাডভোকেট মহসীন, অ্যাডভোকেট সালামের নাম দেখেও আমি বিস্মিত।’ এক ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘অন্যভাবে সমাধান না হলে, আদালতে গিয়ে আইনের আশ্রয় নেব। সারা জীবন বাঙালি, দেশের জন্য লড়াই করেছি। এভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অধিকার রাষ্ট্রের নেই।’