SalamWebToday নিউজলেটার
সালামওয়েবটুডে থেকে সাপ্তাহিক নিবন্ধ পাওয়ার জন্য সাইন আপ করুন
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের সন্তান-সন্ততি (১ম পর্ব)

ইতিহাস ০৩ জানু. ২০২১
জানা-অজানা
সন্তান
Fotoğraf: ID 159006669 © Kristof Lauwers | Dreamstime.com

এ-বিষয়ে সকল জামানার অধিকাংশ ওলামায়ে কেরাম একমত যে, শুধু ইবরাহিম(রাযিঃ) ছাড়া রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের সকল সন্তান খাদিজা (রাযিঃ)-এর গর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হয়েছিলেন। ইবরাহিম(রাযিঃ)-এর জন্ম মারিয়া কিবতিয়াহ(রাযিঃ)-এর গর্ভ থেকে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের প্রথম সন্তান হলেন কাসেম। তারপর পর্যায়ক্রমে যয়নাব, রুকাইয়াহ, উম্মে কুলসুম, ফাতেমা(রাযিঃ)। এরপর জন্ম নিয়েছেন আবদুল্লাহ; অবশ্য তার জন্মকাল নিয়ে মতবিরোধ আছে। এরপর ইবরাহিম(রাযিঃ) মদিনায় জন্মগ্রহণ করেন। প্রত্যেকের পরিচয় নিম্নে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলঃ

কাসেম

তিনি রাসূলের প্রথম সন্তান। নবুওয়তের পূর্বেই তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার কারণেই নবীজির কুনিয়াত বা উপনাম হয়েছে আবুল কাসেম। তিনি কতদিন বেঁচে ছিলেন, তা নিয়ে মতপার্থক্য আছে। এর মধ্যে গ্রহণযোগ্য মত হল ১৭ মাস। রাসূলের সকল সন্তানের মধ্যে তিনিই সর্বপ্রথম মারা যান।

আব্দুল্লাহ

তিনি মক্কায় বাল্যকালেই মারা যান। তবে তার জন্ম কি নবুওয়তের পরে নাকি পূর্বে, এ নিয়ে মতপার্থক্য আছে। তবে বেশিরভাগ আলেমই নওবুয়তের পরে জন্ম হওয়ার মতকেই সহীহ বলেছেন। তার উপাধি ছিলো তাইয়্যিব(উত্তম) ও তাহির(পবিত্র)। তবে কারও মতে তাইয়্যিব ও তাহির নামে রাসূলের আরও ২জন পুত্র সন্তানের কথা বলেন। তবে গ্রহণযোগ্য মত হল এ দুটি আবদুল্লাহ(রাযিঃ)-এরই উপাধি।

যয়নাব

যয়নাব(রাযিঃ) রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের বড় মেয়ে। নবীজির ত্রিশ বছর বয়সকালে তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে খাদিজা(রাযিঃ)-এর ভাগ্নে আবুল আস ইবনে রবীর সাথে বিয়ে দিয়েছিলেন। এই বিয়েও হয় খাদিজা(রাযিঃ)-এর আগ্রহে। এর কারণ আবুল আসকে তিনি আপন সন্তানের মতই দেখতেন। বাণিজ্যে, সম্পদে ও বিশ্বাসে আবুল আস ছিলেন মক্কার একজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম নবুওয়তের সম্মানে ভূষিত হলে খাদিজা(রাযিঃ) ও তার সকল কন্যা তার ওপর ঈমান আনয়ন করেন; কিন্তু আবুল আস শিরকের ভিতরেই থেকে যান।

নবীজি সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম তার অন্য দুই কন্যা রুকাইয়া(রাযিঃ) ও উম্মে কুলসুম(রাযিঃ)-কে আবু লাহাবের দুই ছেলে উতবাহ ও উতাইবার সাথে বিবাহ দিয়েছিলেন। কিন্তু কুরাইশেদেরকে ঈমান আনয়নের জন্য দাওয়াত দিলে তারা বলল, তোমরা মুহাম্মদের সম্পৃক্ততা থেকে মুক্ত হয়ে যাও। তার মেয়েদেরকে তার কাছে ফিরিয়ে দাও এবং তাদের ভরণপোষণ নিয়ে তাকে ব্যস্ত থাকতে দাও। আবু লাহাবের ছেলেরা তাদের আহ্বানে সাড়া দেয় এবং মিলনের পূর্বেই তারা স্ত্রীদেরকে ত্যাগ করে।

এই বিচ্ছেদের মাধ্যমে আল্লাহ তা’আলা নবীজির মেয়েদেরকে উতবা ও উতাইবার হাত থেকে নিষ্কৃতি দিয়ে সম্মানিত করেন। তারা আবুল আসের কাছেও আসে এবং তাকেও বলে, তোমার স্ত্রীকে ছেড়ে দাও, পরিবর্তে তুমি কুরাইশের যে-মেয়েকে চাও, বিয়ের ব্যবস্থা করা হবে। আবুল আস জবাব দেয়, আল্লাহর কসম, আমি স্ত্রীকে ছাড়তে পারবো না এবং আমার স্ত্রীর পরিবর্তে কুরাইশের অন্য কোনো মেয়েকেও আমি চাই না। তাঁর এও অবিচলতার কারণে নবীজি তার প্রশংসা করতেন।

নবীজি সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম যয়নাব(রাযিঃ)-কে আবুল আসের কাছেই ফিরিয়ে দেন প্রথম বিয়ের ভিত্তিতেই এবং নতুন কিছুই আরোপ করেন নি। এভাবে এই সম্মানিত পরিবারটি আবার মিলিত হলো, যদিও তা বেশি দিন স্থায়ী হয় নি। দুই বছর পর অষ্টম হিজরিতে যয়নাব(রাযিঃ) ইন্তেকাল করেন। তিনি দুটি সন্তান জন্মদান করেন- আলী ও উমামা।

রুকাইয়া

নবীজির বয়স ৩৩ বছর তখন রুকাইয়া(রাযিঃ) জন্মগ্রহণ করেন। মক্কায় থাকাকালে উসমান ইবনে আফফান(রাযিঃ) তাকে বিবাহ করেন। আবু লাহাবের ছেলে উতবা মিলনের পূর্বেই তাকে ছেড়ে দিলে এই বিবাহ সংঘটিত হয়। তিনি তার স্বামীর সাথে দুইবার হিজরতের সৌভাগ্য অর্জন করেন, হাবশায় ও মদিনায়। তিনি উজ্জ্বল সৌন্দর্যের অধিকারী ছিলেন। নবীজি বদর যুদ্ধে যাত্রা করার প্রাক্কালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার সেবার জন্য উসমান(রাযিঃ)-কে রাসূল মদিনায় রেখে যান। এই অসুস্থতায়ই রুকাইয়া(রাযিঃ) মৃত্যুবরণ করেন। যায়েদ ইবনে হারেসা(রাযিঃ) এসেছিলেন তাদেরকে বদর যুদ্ধে জয়ী হওয়ার সুসংবাদ দিতে। কিন্তু এসে দেখেন, তার কবরের উপর মাটি সমান করা হচ্ছে। তার গর্ভে আব্দুল্লাহ নামে এক সন্তান জন্মগ্রহণ করেন। তার নামেই উসমান(রাযিঃ) উপনাম হয়েছিল ‘আবু আব্দুল্লাহ’। আব্দুল্লাহ(রাযিঃ) ছয় বছর বয়সে মারা যান। এরপর উসমান(রাযিঃ) তার ছেলে ‘আমর’-এর নামে ‘আবু আমর’ উপনামে গ্রহণ করেন।

উম্মে কুলসুম

উম্মে কুলসুম(রাযিঃ)-এর প্রকৃত নাম জানা যায় না। তিনি ‘উম্মে কুলসুম’ উপনামেই পরিচিত ছিলেন। রুকাইয়া(রাযিঃ)-এর ইন্তেকালের পর নবীজি তাকেও উসমান(রাযিঃ)-এর সাথে বিয়ে দেন। এটা ছিলো তৃতীয় হিজরির ঘটনা। উসমান(রাযিঃ)-এর স্ত্রী হিসেবেই তিনি আজীবন অতিবাহিত করেন। নবম হিজরিতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। নবীজি নিজে তার জানাযা পড়িয়েছেন এবং তার কবরের পাশে বসে দু’আ করেছেন। এসময় তাঁর চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরছিলো। দাফনের আগে তিনি সাহাবীদেরকে জিজ্ঞেস করেন, তোমাদের মধ্যে কি কেউ আছে যে গত রাতে সহবাস করে নি? আবু তালহা(রাযিঃ) বলেন, আমি আছি। নবীজি বলেন, তুমি কবরে নামো। আবু তালহা(রাযিঃ) তাঁর কবরে নামেন। নবীজির দুই মেয়েকে বিবাহ করার কারণে উসমান(রাযিঃ)-কে ‘যিন্নূরাইন’ বা দুই জ্যোতির অধিকারী উপাধি দেওয়া হয়। উসমান(রাযিঃ)-এর স্ত্রী থাকাকালে উম্মে কুলসুম(রাযিঃ_-এর কোনো সন্তান হয় নি।

 

(চলবে)