রূপকথার হীরামন

সৃজনশীল Omar Faruque ২৪-সেপ্টে.-২০১৯

রূপকথার গল্পের রাজকন্যা বা রানীদের খুব প্রিয় পাখি ছিল হীরামন। তারা এ পাখিকে পোষ মানিয়ে কথা বলতেন এবং খেলা করতেন। আর সেই পাখির দেখা মিলছে নওগাঁর বদলগাছীর কিছু এলাকায়।

বিশেষ করে সিলেট থেকে টেকনাফ পর্যন্ত যেসব বনাঞ্চল রয়েছে সেখানে হীরামন পাখি দেখা যায়। কিন্তু কয়েক বছর থেকে এদের এ উপজেলায় দেখা যাচ্ছে। আগস্টের শুরুতে এসে সেপ্টেম্বরের শেষে চলে যায়।

এটি স্থানীয় প্রজাতির পাখি। ঝাঁক বেঁধে বিচরণ করে। একাকী কিংবা জোড়ায়ও দেখা যায়। দেশে খুব একটা বড় ঝাঁকে দেখা যায় না। গড়ন স্লিম। মনোহরণকারী রূপ। দেখতে অনেকটাই ‘লাল-মাথা টিয়া’র মতো। পুরুষ পাখির আকর্ষণীয় চেহারা। সে তুলনায় স্ত্রী পাখি কিছুটা নিষ্প্রভ।

বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও দক্ষিণ আসাম, পাকিস্তান, উত্তর মিয়ানমার পর্যন্ত বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে। স্বভাবে হিংস্র। প্রজনন মুহূর্তে স্ত্রী পাখির হিংস্রতা বেড়ে যায় বহুগুণ। এ সময় অন্যরা কাছে ভিড়তে পারে না। ভালো পোষ মানে। শেখালে কথাও বলতে পারে। অনেক সময় খাঁচার দরজা খুলে দিলেও পালিয়ে যায় না। ক্রীড়ামোদী পাখি। খাঁচায় বন্দী অবস্থায় নানা কসরত দেখায়। খেলা করে এটা-সেটা নিয়ে। বল আকৃতির গোলাকার কিছু পেলে ঠোঁট দিয়ে ঠেলতে থাকে।

বলা যায় দিনের বেশির ভাগ সময় পার করে খেলাধুলা করেই। এর বাংলা নাম: ‘হীরামন’ ইংরেজিতে: ‘Blossom-headed parakeet (ব্লসম-হেডেড প্যারাকিট)। বৈজ্ঞানিক নাম: Psittacula roseata এরা ‘ফুলমাথা টিয়া’ বা ‘আসামের লালমাথা টিয়া’ নামেও পরিচিত। কেউ কেউ ‘পুষ্প কেশ টিয়া’ নামেও ডাকে।

এ পাখি দৈর্ঘ্যে কম-বেশি ৩০ সেন্টিমিটার। ওজন ৭৫-৮৫ সেন্টিমিটার। স্ত্রী-পুরুষ পাখির চেহারায় পার্থক্য আছে। পুরুষ পাখির কপাল, মাথা গোলাপি, মাথার পেছনের দিক ফ্যাকাসে নীল। ঘাড়ে কালো বলয়। পিঠ হলুদাভ সবুজ। ডানা সবুজ। ডানার গোড়ায় খয়েরি-লাল পট্টি। নীলাভ-সবুজ লম্বা লেজ। এর মধ্যে সবচেয়ে লম্বা পালকের প্রান্তরটি সাদাটে। দেহতল হলুদাভ-সবুজ। ওপরের  ঠোঁট ফিকে কমলা-হলুদ, নিচের ঠোঁট বাদামি। উভয়ের চোখের তারা হলুদাভ। পা সবজেটে।

অন্যদিকে স্ত্রী পাখির ধূসরাভ-নীল মাথা। ঘাড়ে কালো বলয় নেই। ঘাড়ের শেষ ভাগের বন্ধনী হলুদাভ-সবুজ। ঠোঁট ভুট্টার রঙের মতো। প্রধান খাবার শস্যবীজ, ছোট ফল, ফুলের পাপড়ি। পোষা পাখি বাদাম এবং দুধ-ভাত খায়। প্রজনন মৌসুম জুলাই থেকে আগস্ট। গাছের প্রাকৃতিক কোটরে বাসা বাঁধে। ডিম পাড়ে ৪-৫টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ২২-২৪ দিন।

Source:The Daily Bangladesh

Image: The Daily Bangladesh