রূপের খুঁত না ধরে অস্তিত্বের সৌন্দর্য খুঁজুন

Как одеваются мусульманки в разных странах
ID 136187463 © Roman Kosolapov | Dreamstime.com

জীবন বড়ো ক্ষুদ্র। আর এই ক্ষুদ্র সময়টুকুতেই আমাদের বিস্তর চাওয়া পাওয়া! যা পেয়েছি তার থেকে না পাওয়ার তৃষ্ণাটাই যেন বেশি। আচ্ছা এই না পাওয়াই আপনাকে বা আমাকে কোনো কৌশলে ফেলে দিচ্ছে না তো? যার সাথে আছেন, তার সাথে খুশী তো? যে পথ ধরে এগোচ্ছেন, সেই পথ চলাতে সুখী তো? কখনো যদি একটা সুযোগ আসে নিজের কিছু অংশের পরিবর্তন করার, করবেন তো? নিজের গায়ের রং থেকে শুরু করে চোখ, চুল, নাক, ঠোঁট নিয়ে কি আপনি খুশি নাকি নাকি দেহের রংটা আরেকটু ফ্যাকাসে বা চকচকে করা, চোখের পাশে দাগগুলো ওঠানো, বা আরেকটু যদি লম্বা হতে পারলে বেশি খুশি হতেন—কোনটা? কখনো রোগা হতে গিয়ে অপুষ্টির শিকার হচ্ছেন না তো?

এই প্রশ্নগুলো নিজেকে কখনো করেছেন নাকি না পাওয়ার পিছনে দিবারাত্র ছুটে চলে প্রশ্নটা করাই হয়ে ওঠেনি?

টিভি,ইন্টারনেট,মোবাইল বর্তমান বিজ্ঞাপনে ছেয়ে গেছে। নিজেকে আরো বেশি সুন্দর চকচকে করার জন্য তারা অনেক কিছু বলছে, চুলের রংও কি হবে সেটাও, কীভাবে ওজন কমানো যাবে, কোন পোশাকে আপনাকে সুন্দর লাগবে এসব ঠিক করে দিচ্ছে। তারা এসব করছে কারন তাদের প্রোডাক্ট বেশি বিক্রি হওয়ার জন্য, তারা কথা বেচে আপনাকে শিকার বানাচ্ছে। আপনি জেনেবুঝেও এর শিকার হচ্ছেন না তো? পৃথিবীতে থাকা লক্ষ লক্ষ মানুষ আছে যাদের প্রতিদিন দুবেলা পেটভরে খেতে পায় না, খিদের জ্বালায় চেচিয়ে কাঁদে কিংবা অনাহারে মরে যায় আর অপরদিকে কেউ কেউ নিজের নাক ঠোঁট এবং আলাদা চামড়ার জন্য প্লাস্টিক সার্জারি করাতে লক্ষ লক্ষ টাকা ঢালছে। বিজ্ঞাপনের করাল গ্রাসে নিজের অতিরিক্ত সৌন্দর্যতা বাড়াতে গিয়ে মনুষ্যত্বের জায়গাটা ঠিক আছে তো। কত ম্যাগাজিনে সুন্দর হওয়ার উপায় পড়ে অনেক বেশি সময় ও শক্তি খরচ করছি, যেগুলো অন্য কাজে খরচ করলে আরো ভালো হত। প্লাস্টিক সার্জারি অবধি সবাই অবশ্য যেতে পারে না, এর কারণ শুধু ভয় নয় টাকার কারণেও।

একটু সৎ হন। নিজেকে সুন্দর দেখতে চাওয়াটা খারাপ না কিন্তু কি চাই আর কি দরকার -এর পার্থক্যটা বোঝা দরকার। নিজেদের আয়ত্তে রাখা উচিত। আপনাকে তো তারা জিন্স কিনতে বলবেই, কোন ট্র্যাকসুটটা ভালো লাগবে, চুলের কোন স্টাইলটা আপনাকে মানাবে -এগুলো তো বলবেই কারন এটাই তাদের কাজ।

কিছু মানুষ যারা প্রতিনিয়ত আমাদের এই চাহিদার সুযোগ নিতে চাইছে এবং আমাদের নানান প্রোডাক্ট দিয়ে মনে সন্দেহর সৃষ্টি করছে। সেইসব মানুষগুলো যাদের পৃথিবীতে কিছুই নেই, তাও তারা হাসছে। তাদের সেই হাসিমুখগুলোর দিকে তাকিয়ে আমরা আমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়েই খুশী ও সুখে থাকার চেষ্টা করি, ওটাই তো আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড়ো উপহার। প্রত্যেক দিনের কিছুটা সময় আমরা আমাদের যা কিছু ভালো সেগুলো নিয়ে ভাবি, সমস্ত ব্যস্ততার মাঝে নিজেকে একটু জায়গা করে দিই। ভাবুন তো আপনি সকালে উঠে কত ভালো খাবার খাচ্ছেন, ঠিক ওই সময় কত মানুষ অভুক্ত। আপনার কত সুন্দর পোশাক আছে কিন্তু কত মানুষের পড়ার মতো একটাও পোশাক নেই।

একমুহুর্ত ভাবুন তো,কত লক্ষ লক্ষ মানুষ আছে যাদের জন্য কোনো ব্র্যান্ড নেই, কসমেটিক যারা কোনোদিনও ব্যবহার করেনি। একজন অন্ধ মানুষ যে কোনোদিন চোখের ব্যবহারই করার সুযোগটুকু পাইনি তারকাছে নীল, বাদামি চোখের কোনো মূল্যই নেই, যে মানুষ হাঁটতেই পারেনা তার কি যায় আসে কোন জুতো কী ব্র্যান্ড এর, যে মানুষের ক্যান্সারে চুল উঠে গেছে তার কি যায় আসে চুলের রং নিয়ে। ভেবে দেখুন, এদের থেকে তো আপনি অনেক ভাগ্যবান।

পবিত্র কোরানের শেষ সুরায় বলা হয়েছে শয়তানের কথা, যে মানুষের কানে ফিসফিস করে বলে তারা ভালো নয়। কী মনে হয় সবচেয়ে উন্নত জাতি মানবজাতির সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ আপনাকে তৈরি করার সময় কোনো ভুল করেছে? সৃষ্টিকর্তাকে বিচার করার  ক্ষমতা আমাদের নেই, তবে তিনি যা করেছেন তা সথিকভাবেই করেছেন সে বিষয়ে কোনো প্রশ্নই ওঠেনা।

আদামের গল্পটা মনে আছে, আদামের কানে শয়তান যেমন ফিসফিস করে বলেছিল –এক্ষেত্রেও ঠিক সেরকম। প্রত্যেক মানুষেরই কোনো না কোনো কারণে সৃষ্টি। আমাদের প্রতিটা সূর্যোদয় আমাদের জন্য শুভ। আমরা নিজের প্রাপ্তিটুকু নিয়েই একটু সন্তুষ্ট থাকি। নিজেকে আয়নার সামন দেখুন, দেখবেন নিজেরটুকু নিয়ে কতটা ভালো আছেন। আপনার যা আছে তাই যথেষ্ট। কারোর জন্য নিজেকে সুন্দর করে তোলা বন্ধ করে নিজেকে ভালোবাসুন, আল্লাহকে ভালবাসুন।