লকডাউনে খুদেদের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নতিতে কী করণীয়

শিশু ১৩ মে ২০২০ Contributor
লকডাউনে খুদে
Portrait of happy muslim family with kids enjoy riding bicycle outdoor in the beach

পৃথিবী জুড়ে এখন শুধু করোনার ভয়ংকর চিত্র। পৃথিবীর অন্দরে কান পাতলে শোনা যায় মানুষের অসহায়তা এর আওয়াজ, সভ্যতার এত বছর পরও মানুষ আজও প্রকৃতির কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছে। এ থেকে মুক্তির উপায় অর্থাৎ কোনো ভ্যাকসিন বা ওষুধ  আবিষ্কার হয়নি। তাই মানুষকে বাধ্য হয়ে গৃহবন্দী থাকতে হচ্ছে এবং শারীরিক দুরত্ব বজায় রাখতে হচ্ছে কোনো পথ না পেয়ে। লকডাউনের মানুষের সুবিধার থেকে অসুবিধা হচ্ছে প্রবল।

এই অবস্থায় প্রতিটি মানুষ  মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ছে কিন্তু  সবথেকে বেশি প্রভাবিত  শিশুমন। লকডাউনে শিশু মনকে আটকে রাখা যায় না।সে ছুটে বেড়াতে চায় তাই প্রতিটি  বাবা মার চিন্তার বিষয় তার বাচ্চার মানসিক স্বাস্থ্য। শিশুমন বৃদ্ধির সময় তাকে আটকে রাখতে হচ্ছে যখন সেটা খুব সচেতনতার সঙ্গে প্রতিটি বাবা মা পর্যবেক্ষণে রেখেছে। বয়স এর সাথে মনের অবস্থা বুঝতে হবে যেমন একটি পাঁচ বছরের বাচ্চা যা চাইবে দশ বছরের বাচ্চটি সেই একই জিনিস চাইবেও না বুঝবেও না। সারাদিন তাদের সাথে থেকে তাদের প্রকৃতি সম্পর্কে অনেকটা জ্ঞান বাড়িয়ে নিতে পারবে।

লকডাউনে শিশু থেকে কিশোরদের সমস্যাঃ

বয়স অনুযায়ী  প্রতিটি বাচ্চার মানসিক অবস্থা পরিবর্তন হয়। শিশু মন পরিণত হতে শুরু করলে মানসিকতা পাল্টাতে শুরু করে। বাড়িতে থাকা চার থেকে সাত বছরের বাচ্চাকে এই ভয়ানক পরিস্থিতিতে খুব যত্ন করে রাখতে হবে এরা নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন নয়, তারা বাইরে বেরাতে যেতে চাইবে। কিন্তু তাদের এই অবস্থা সম্পর্কে কিছু বিশেষ বলার দরকার নেই তারা ভয় পেতে পারে । তাদের সাথে খেলার ছলে সারাদিন মিশতে হবে বারবার হাত ধুয়ে  দিতে হবে, দূরত্ব বজায় রেখে আদর করতে হবে কাউকে জরিয়ে ধরতে দেবেন না। এর থেকে একটু বড়ো বয়সের বাচ্চা সাত থেকে দশ বছরের বাচ্চার মানসিক অবস্থা বেশ আলাদা তাদের সাথে কথা বলতে হবে যেহেতু তারা তাদের স্বাস্থ্য পরিবারের অন্যান্য  ব্যাক্তির স্বাস্থ্য নিয়ে যথেষ্ট বেশি রকম চিন্তা করবে। কথা বললে আপনারা বুঝতে পারবেন তারা কতটা ভুয়ো খবর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে চিন্তা করছে। এই সমস্ত বাড়িতে বৃদ্ধ ঠাকুমা দাদু তাদেরকেও নিয়ে চিন্তার  বিষয়, ওদের সাথে দিনগুলো উপভোগ করুন ,বোঝান গুজব থেকে দূরে রাখুন।

বাচ্চা আর একটু বড়ো হলে বিষয়গুলো আবার পাল্টে যায়।  তাদের অনলাইন  ক্লাস  চলছে লকডাউনে,  ভবিষ্যত  নিয়ে তারা যথেষ্ট বেশি চিন্তিত। তাদের অবসর সময়টাতে সিনেমা খেলা গান এসব নিয়ে গল্প করুন কারণ এরা সবথেকে বেশি এদের স্কুল সহপাঠী বাইরের পরিবেশটা মিস করছে। একটা রুটিন তৈরি করা ভালো এদের জন্য নিয়ম করে টিভি দেখা, একটু শরীরচর্চা এবং যতটা পারা যায় করোনাভাইরাস থেকে নিজেকে দূরে রাখার জন্য নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বলতে হবে। প্রাপ্তবয়স্কদের মতে,বাচ্চারা এখন প্রতিটা মুহুর্ত লড়ে যাচ্ছে। আমাদের বিশ্বের বর্তমান প্রতিচ্ছবিটা পিতামাতা হিসেবে না একজন ভালো বন্ধু হিসেবে বোঝাতে হবে।

বাবা মার মতামত আর ছেলেমেয়েদের মতামত এখন মেলা দায়। বতর্মানে বেশিরভাগ বাচ্চা ও কিশোর কিশোরীরা তাদের বাবা মার চেয়ে বেশি প্রযুক্তিগত জ্ঞানী। পরিবারের ঐক্যটা যেন হারিয়ে গিয়েছিল এই যুগে। তারা একে অপরকে সময় দেয়নি,কিন্তু করোনার জোরে এখন সবাই গৃহবন্দি। এই জেনারেশনের বাবা মা তাদের কর্মব্যস্ততায় ছেলে মেয়েকে সময়তো দিতই না, বুঝতেও চায়নি তাদের ছেলেমেয়েরা কি চায়!

কী করবেন? কী করবেন না?

কিন্তু সময় এসেছে একে অপরকে বোঝার। করোনা নামক মহামারীতে বড়োরাই ভীত। বাচ্চাদের মনে এর প্রভাবটা মোটেই ভালো না। লকডাউনে ছেলেমেয়ের মধ্যে আতঙ্ক না ছড়িয়ে,তাকে অনেকটা দূরে সরিয়ে নিয়ে সময় দিন যাতে তারা ডিপ্রেশনে চলে না যায়। অ্যালবাম দেখান বা ছেলেবেলার গল্প শোনান,তাতে আপনার পুরানো স্মৃতিও জাগরিত হবে,সাথে সাথে আপনার বাচ্চারাও একটু আনন্দ পাবে। তাদের ভালোলাগাটাকে গুরুত্ব দেওয়া; একসাথে কোনো নতুন খাবার বানানো,কিছু হাতের কাজ করা।

বেশিরভাগ বাবা মা তাদের বাচ্চাদের পাঠ্যবই এর বাইরে বের করতেই চায়না,এখন তো অনেকটা সময় আছে তাদের নতুন চেতনার বিস্তার করা। পাঠ্যবই এর বাইরে যে একটা অন্য জগৎ আছে, সেই জগৎ সম্পর্কে তাদের পরিচয় অনেকটাই কম। কবিদের জীবনী,কিছু কবিতা পাঠ,গান বাজনা,আঁকা ইত্যাদি নিয়ে একটু ডুবিয়ে দিন আপনার ছেলেমেয়েদের;দেখবেন তাদের মানসিকতার কতটা পরিবর্তন ঘটেছে।হয়তো এই বদলটা আপনার সঙ্গে তার বন্ধনটা আরো দৃঢ় করে দেবে।বাচ্চার প্রাপ্তিতে আপনারও কিছুটা পাওয়া হয়ে যাবে।অর্থের পিছনে যে সুখের সন্ধান মেলেনি, তা হয়তো আপনার ওই শিশুটি আপনাকে দিয়ে দেবে। এই আতঙ্কের সময় একটু ভয়ের পাল্লা সরিয়ে মন খুলে হাসতে পারা যাবে।