লক্ষ্যে পৌঁছাতে পাঁচ উপায়

missing mountaineer
ID 14520478 © Dan Briški | Dreamstime.com

কঠিন পথে অনেক বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে এগোলে তবেই বড় কিছু করা যায়, আমাদের মধ্যে এই ধারণাই প্রচলিত আছে এবং এটি সত্য। এমন কোনো কাজ পৃথিবীতে নেই যেখানে একজন কুঁড়ে বা অলস ব্যক্তি শ্রেষ্ঠতার সাথে করতে পারবে। সফল হতে গেলে চাই পরিশ্রম, আবার এটাও দেখতে হবে যে পরিশ্রম যেন পন্ডশ্রম না হয়ে যায়।

অনেকেই উৎসাহিত হয়ে একটি কাজ করতে শুরু করে তিনমাস বা ছয়মাস কিংবা একবছর পরে উদ্যোমহীন হয়ে কাজটি ছেড়ে দেন। এরকম হাজারো উদাহরণ আছে, আপনি যদি তাদের সাথে কথা বলেন তাহলে কেউ কিন্তু বলবেনা যে “আমি পরিস্থিতির কাছে হার মেনেছি”, প্রত্যেকেই কোনো না কোনো অজুহাত দেখাবে। কিন্তু আসলে তারা সফল হওয়ার যোগ্য নয় কারণ স্বপ্ন সবাই দেখে, তাকে বাস্তবে পরিণত করতে গেলে তবেই দেখা যায় কার কত দম। এই স্বপ্নের উড়ানের জন্য চাই অফুরন্ত জ্বালানী, চাই মোটিভেশন। আজ আপনাদের বলবো এমন কিছু উপায় যা আপনাকে মোটিভেট করবে আপনার লক্ষ্যে পৌছাতে।

লক্ষ্যমাত্রার সুপরিকল্পিত নকশা

নিজের লক্ষ্যমাত্রার একটি সুপরিকল্পিত নক্সা তৈরি করুন। মাথার মধ্যেই রাখতে পারেন নক্সাটা আবার খাতায় কলমেও করতে পারেন, আমি বলবো খাতায় করুন।প্রথমে ঠিক করুন আপনি কী চান। এরপর নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন তা কতদিনের মধ্যে চাই আপনার বা আপনার হাতে কতদিন সময় আছে। এদুটো হলো একেবারে প্রাথমিক শর্ত সফলতার পথে।

যখন আপনার কাছে সময়সীমা নির্দিষ্ট হলো তখন ভাবুন আপনার প্রথম পদক্ষেপটি কী হওয়া উচিত তারপর নিজের লক্ষ্য গুলিকে একে একে বছর-মাস-সপ্তাহ-দিনে ভাগ করুন।

কোনো পরিস্থিতিতেই হাল ছাড়বেন না

একমাত্র আপনি জানেন আপনার দুর্বলতা কী। তাই আপনিই পারবেন নিজের দুর্বলতাকে কাটিয়ে উঠতে। যখন জীবনের কোনো একটা পথে বেরিয়ে পরবেন তখন জেনে রাখুন, আঘাত আসবে।  হয়তো সে আঘাত অপ্রত্যাশিত জায়গা থেকেও আসতে পারে কিন্তু আসবেই। গতে বাঁধা জীবন ছেড়ে বেরিয়ে আসাটা সব সময় কঠিন। কারন হেরে যাওয়াটা জেতার থেকে অনেক সহজ। নিজেকে যেকোনো পরিস্থিতির জন্য তৈরি রাখুন। আর একটা কথা ভালোভাবে চিন্তা করে নিন যে কাজটা আপনার কাছে কতটা প্রয়োজন, কতটা ত্যাগ করতে রাজি আছেন ওই লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য।

নতুন নতুন জিনিস জানুন এবং শিখুন

জ্ঞানের কোনো বিকল্প নেই, আপনার অর্জন করা জ্ঞান আপনার সুপারপাওয়ার। আপনি একজন ছাত্র/ছাত্রী হন অথবা ব্যবসায়ী মনে রাখবেন জানার কোনো শেষ নেই। এই অতি আধুনিক প্রযুক্তির যুগে যত কম জানবেন তত পিছিয়ে পরবেন। গত কুড়িবছরের কথাই ভাবুন পড়াশোনা, চাকরি বা ব্যবসা প্রতিটি ক্ষেত্রে যে বিপুল ডিজিটালাইজেশন এসেছে তাতে পুরোনো ধারনাগুলোই বদলে গেছে। এ বাজারে টিকে থাকতে গেলে প্রতিটা নতুন আপডেটকে মাথায় রাখতে হবে।

নিজে নিজেকে মোটিভেট করুন

দুটো লেখা পড়ে বা একটা বক্তৃতা শুনে মোটিভেশন পাওয়া যায় না। হয়তো আধঘন্টার জন্য আপনার ‘অ্যাড্রনালিন রাশ’ হবে কিন্তু তার বেশি কিছু না। আমি বলছি না যে ওগুলো পড়া বা শোনা উচিত নয়, অবশ্যই করুন। কিন্তু শেখার আগ্রহ নিয়ে পড়ুন, নতুন নতুন দৃষ্টিভঙ্গি খুঁজে বের করুন কিন্তু ভুলেও ভাববেন না ওই লেখাটা বা ওই বক্তার একটি বক্তৃতা আপনার জীবন বদলে দেবে।

মোটিভেশন আসে নিজের ভিতর থেকে, আপনার কাজ হলো সেই ‘কারণ’টাকে খুঁজে বের করা যেটা আপনাকে কাজ করতে বাধ্য করবে, রাতের পর রাত ঘুমোতে দেবে না এমন একটা ‘কারণ’ চাই আপনার।

নিজের আবেগকে এনার্জিতে রূপান্তর করুন

মানুষ আবেগপ্রবণ জীব। আবেগের তাড়নায় মানুষ এমন অসমসাহসিক কাজ করতে পারে যা দেখলে চমকে যেতে হয়। আপনারও কি সেরকম কোনো আবেগের জায়গা আছে যা আপনাকে দিয়ে অবিশ্বাস্য কাজ করিয়ে নিতে পারে? থাকলে কাজে লাগান সেই আবেগের জায়গাকে। আপনার কি ছোটোবেলা দারিদ্রের মধ্যে কেটেছে বা কাটছে? তাহলে সেটাকেই নিজের জ্বালানী বানিয়ে নিন। অথবা কোনো বিষয়ে কি আপনি বরাবর খারাপ? তাহলে নিজের দুর্বলতাকে সক্ষমতায় পরিণত করুন।

এভাবেই আবেগ থেকে যে এনার্জি আর মোটিভেশন পাবেন তা আপনাকে পৌঁছে দেবে সেই কাঙ্খিত লক্ষ্যে।