লাইলাতুল ক্বদরকে সর্বোচ্চ কাজে লাগানোর জন্য সেরা পরামর্শ

The night of destiny - card. In Arabic it is called Laylat AL-Qadr. A blessed night of Ramadhan when Quran was revealed. Laylat AL-Qadr is also known as night of decree or power. Vector illustration

আল্লাহ এই রাতগুলির মধ্যে সম্ভবত সময়ের সবচেয়ে বড় নেয়ামতটি রেখেছেন, যা আমরা মুসলিম হিসাবে পেয়েছিঃ তা হল লাইলাতুল ক্বদর।

লাইলাতুল ক্বদরের এক রাতের চেয়ে বেশি বরকতময় এমন কোনো সময়সীমা আর নেই। এই রাতটিই হলো সর্বোচ্চ চূড়া, যা বছরের সকল সময়সীমার রাণী। বছরের কোনো রাতই এই রাতের মত এত অধিক বরকতময় ও পবিত্র নয়।

আল্লাহ তা’আলা লাইলাতুল ক্বদর সম্পর্কে সূরা দুখানে একাধিক আয়াত উল্লেখ করেছেন। (আল কুরআন-৪৪: ১-৬)

লাইলাতুল ক্বদর সম্পর্কে কুরআনের দুটি সূরায় আলোচিত হয়েছে: সূরা আদ-দুখানের কিছু অংশে এবং সম্পূর্ণ সূরা আল-ক্বদর ব্যাপি।

সূরা আদ-দুখানের শুরুতে মহান আল্লাহ তা’আলা কসম খেয়ে বলেছেন:

হা-মীম। শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের। আমি একে নাযিল করেছি এক বরকতময় রাতে। নিশ্চয় আমি সতর্ককারী।

এ রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থির করা হয়।

আমার পক্ষ থেকে আদেশক্রমে, আমিই (রাসুল) প্রেরণকারী।

আপনার পালনকর্তার পক্ষ থেকে রহমতস্বরূপ। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। (আল কুরআন-৪৪: ১-৬)

লাইলাতুল ক্বদরে আল্লাহ তা’আলা সকল বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ওলামায়ে কেরামগণ বলেন, প্রকৃতপক্ষে এই রাতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না বরং আগামী বছরের সিদ্ধান্ত গুলো ঘোষিত হয়। আর এটি ঘোষিত হয় ফেরেশতাদের মাঝে।

লাইলাতুল ক্বদরে আগামী বছরের জন্য সকলের তাকদীর ঘোষিত হয়। ফেরেশতাদের মাঝে বিভিন্ন কাজ ভাগ করে দেওয়া হয়। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেছেন,

” এমনও হতে পারে যে, লাইলাতুল ক্বদরে কেউ হয়ত তার বিছানা প্রস্তুত করছে, কিন্তু সে এটা জানে না, ঘোষণা এসে গেছে যে, সে এই বছর মারা যাবে।”

ঐদিন আল্লাহর সিদ্ধান্ত এমনই ঘোষণা করা হবে এবং সে মারাও যাবে, কিন্তু সে তো অন্যমনস্ক হয়ে আছে এবং সেদিনও সে আল্লাহর ইবাদত করছে না।

সুতরাং মুল বক্তব্য এটিই যে, যেহেতু এটি (তাকদীর) ঘোষণার সময়, তাই আমাদের উচিত এই সময়টি আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন থাকা।

একটি বোনাস

আল্লাহ তা’আলা এই উম্মাহকে লাইলাতুল ক্বদর দান করেছেন, আগের কোন উম্মাহকে লাইলাতুল ক্বদর দেওয়া হয়নি। এটি একটি হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে, যার সূত্র পুরোপুরি বিশ্বস্ত নয়, তবে হাদিসের ধারণাটি সহিহ।

কিছু সাহাবীরা(রাযিঃ) নবীজীকে বললেনঃ

“ইয়া রাসুলাল্লাহ! কুরআন আমাদেরকে পূর্ববর্তী বিভিন্ন  সম্প্রদায়ের ঘটানা বলেছে যে, তারা ৯৫০ বছর পর্যন্ত বেঁচে ছিল, যেখানে আমরা কেবল ৬০-৭০ বছর বয়সই বেঁচে থাকি। তাহলে কীভাবে আমরা তাদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারি?”

আল্লাহ তা’আলা এর প্রেক্ষিতে এই উম্মাহকে লাইলাতুল ক্বদরের মত বরকতময় এক রাত দান করেন। যে রাতের ইবাদত আপনাকে পুরো জীবনের ইবাদতের চেয়েও আরো অনেক বেশি দান করবে।

আমরা সকলেই জানি যে এক হাজার মাস ৮৩ বছরেরও বেশি সময় হয় এবং আমাদের মধ্যে কে আছে যে ৮৩ বছর একটানা ইবাদত করতে পারবে? এমনকি যদি আমরা ৮৩ বছর বেঁচেও থাকি, তবে এর অর্ধেক সময় ঘুমিয়ে এবং অর্থ উপার্জনে, আর এক তৃতীয়াংশ সময় এই সেই করে অনর্থক কাজে নষ্ট করব। আমরা আসলে আমাদের মোট সময়ের ৫% এরও কম সময় ইবাদত করি।

তবে আমরা যদি লাইলাতুল ক্বদরে ইবাদত করি তাহলে আমরা একটি অকল্পনীয় বোনাস পাই। তা হলো একটানা ৮৩ বছর ইবাদতের নেকি যদি আমরা এই একটি রাত আল্লাহর ইবাদত করি!

কুরআনের ভাষায়ঃ

“আমি একে নাযিল করেছি এক মহিমান্বিত রাতে।

মহিমান্বিত রাত সম্পর্কে কি আপনি জানেন?

(এই মহিমান্বিত রাত হল) লাইলাতুল ক্বদর, যা এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।

এই রাতে প্রত্যেক কাজের জন্যে ফেরেশতাগণ ও রূহ (জিবরাঈল) অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশে।

এটিই প্রশান্তি (যা এই রাতে নাযিল হয়), যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে”। (আল কুরআন-৯৭)

আল্লাহ তিনবার “ক্বদর” শব্দটি উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ যখন কোন শব্দ পুনরাবৃত্তি করেন, তখন তা এর গুরুত্ব ও নেয়ামতের পরিচয় দেয়। যখনই “ওয়া মা আদরাকা” (অর্থঃ এবং আপনি কি জানেন) বাক্যাংশটি উল্লেখ করেন তখন তা সেই জিনিসটির মাহাত্মতার পরিচয় দেয়। এখান থেকেই আপনি বুঝে নিন যে, এটি কত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

এর অর্থ, আপনি যা কল্পনা করছেন তার থেকেও এই রাতের গুরুত্ব অনেক বেশি, কারণ আল্লাহ আপনাকে এই রাতের গুরুত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছেন!