শরীরকে ডিটক্স করতে সঙ্গে রাখুন ভেষজ পানি

dose-juice-sTPy-oeA3h0-unsplash
Fotoğraf: Dose Juice-Unsplash

সুস্থ থাকতে হলে বিশুদ্ধ পানির কোনো বিকল্প নেই। প্রতিদিন কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ গ্লাস একজন সুস্থ সবল মানুষের বিশুদ্ধ পানি পান করা উচিত। আর এই পানির সাথে কিছু কিছু উপাদান মেশালে তা অধিক পুষ্টিকর এবং সাথে সাথে শক্তিবর্ধক হয়ে যায়। তখন একে বলে ডিটক্স ওয়াটার বা ডিটক্স পানি। আর পানি একইসাথে সুস্বাদু এবং অধিক স্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে। প্রাকৃতিক এমন অনেক উপাদান আছে যাতে স্বাদ ও গন্ধে এর পাশাপাশি রয়েছে পুষ্টি ও রোগ সারানোর ক্ষমতা। এসব মিলিয়ে মিশিয়ে পানি পান করলে বাড়বে প্রতিরোধ ক্ষমতা। তাজা ফল, সবজি ও ভেষজ উপাদান টুকরো করে কেটে স্বাভাবিক তাপমাত্রায়, হালকা গরম বা শীতল পানিতে নির্দিষ্ট সময় ভিজিয়ে রেখে এই মিশ্রণ তৈরি করা হয়।

● এই পানি পানের ফলে দেহ সতেজ ও শীতল থাকে।

● দেহের ভেতর থেকে বিষাক্ত পদার্থ ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বের করে দিতে সহায়তা করে।

● শরীরের কোষগুলোর নিষ্কাশনের সাহায্য করে এবং খাবার হজমে সহায়তা করে শরীরের হজম প্রক্রিয়াকে সুস্থ ও স্বাভাবিক করে।

● যকৃৎ ও ত্বকের জন্য ডিটক্স পানি উপকারী। প্রদাহ কমাতেও এটি সহায়ক।

● চিনির প্রতি আগ্রহ কমিয়ে রুচি বাড়ানোর জন্য এই পানি অত্যন্ত কার্যকরী।

● ফল ও সবজির ভিটামিন, খনিজ ও অন্যান্য গুণ থাকলেও এতে ক্যালরি বেশি থাকে না।

● উদ্বেগ ও বিষণ্নতা কমাতেও উপকারে আসে ডিটক্স পানি।

উপকারী ও জনপ্রিয় কিছু ভেষজ পানি

● আমলকী, হরতকী ও বহেড়া : এক চামচ শুকনো আমলকী, হরতকী ও বহেড়া নামে তিনটি ফলের চূর্ণ এক গ্লাস পানিতে সারা রাত ভিজিয়ে সকালে খালি পেটে খেলে পেট পরিষ্কার হয়।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণের জন্য এই মিশ্রণ প্রদাহ কম রাখে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ও ফ্লু ঠেকাতে ভালো কাজ করে।

● আদা ও লেবু : এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে এক ইঞ্চি পরিমাণ আদাকুচি ও আধখানা লেবুর রস মিশিয়ে খালি পেটে পান করুন।

● দারুচিনির গুঁড়ো ও চামচ : উষ্ণ পানিতে গলা ব্যথার প্রকোপ কমে। গরম পানিতে এক চিমটি দারুচিনির গুঁড়ো ও এক চামচ মধু মিশিয়ে খেলে স্বাদ-গন্ধের যেমন উন্নতি হয় তেমনি উপকার পাওয়া যায়।

● লেবু ও পুদিনা পাতা : ১৫ থেকে ২০টি পুদিনা পাতা, পাতলা করে কাটা লেবুর ৫ বা ৬টি টুকরো বা আধখানা লেবুর রস ৫০০ মিলিলিটার পানিতে ভিজিয়ে ফ্রিজে রেখে দিন। সকালে খালি পেটে বা দিনে দুই থেকে তিনবার পান করতে হবে।

● মেথি : এক চামচ মেথি শুকনো কড়াইয়ে ভেজে গুঁড়ো করে নিন। এখন এক গ্লাস পানি মিশিয়ে সকালে খালি পেটে খেলে ডায়াবেটিস, ক্ষতিকর কোলেস্টেরল ও এলডিএলের প্রকোপ কমে। প্রদাহ কমে বলে বাড়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও হজমও ভালো হয়।

● লেবু, শসা ও পুদিনা পাতা : ৮ কাপ পানিতে একটি আধখানা লেবুর রস ও ওই পরিমাণ লেবু কুচি করে কেটে মিশিয়ে দিতে হবে। তারপর আধখানা শসা কুচি করে ৭টি পুদিনা পাতাসহ ওই পানিতে দিয়ে ২–৩ ঘণ্টা রেখে পান করুন।

● মৌরি : এক গ্লাস পানিতে এক চামচ মৌরি সারারাত ভিজিয়ে রেখে সকালে ছেঁকে খান। নয়তো এক গ্লাস পানি ফুটিয়ে তাতে এক চামচ মৌরি দিয়ে ঢাকা দিয়ে রাখুন ২-৩ মিনিট। তার পর ছেঁকে চায়ের মতো খান। স্বাদ বাড়াতে অল্প লেবুর রস ও এক চামচ মধু মিশিয়ে খেতে পারেন।এই পানীয় পেট ফাঁপা, গ্যাস, বদহজমের উপসর্গ কমায়। এ ছাড়া উচ্চরক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের প্রকোপ কমায়।

● আপেল, দারুচিনি : ১ লিটার পানিতে একটি আপেল স্লাইস করে কেটে এক টেবিল চামচ দারুচিনি দিয়ে কয়েক ঘণ্টা রেখে ঘুমানোর আগে পান করলে শরীরের চর্বি কমে ও বিপাকক্রিয়া ভালো হয়।

● জিরে ও মধু : ১ চা চামচ সাদা জিরে, দেড় কাপ পানি, আধ চা চামচ মধু নিন। কড়াইতে জিরে হালকা করে ভেজে দেড় কাপ পানি দিয়ে ৩ থেকে ৪ মিনিট ফোটান। ঠাণ্ডা হলে ছেঁকে পানিটা খেয়ে নিন। এতে ওজন কমবে ও হজম শক্তিও বাড়বে।

● চিয়া সিড ও লেবু : আধ চা–চামচা চিয়া সিড এক কাপ পানিতে এক ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখলে যে জেল তৈরি হবে, তাতে এক চা–চামচ লেবুর রস ও আরও পানি মিশিয়ে নেড়ে পান করুন। এতে তন্তু বা আঁশ থাকায় কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।

এ ছাড়া স্ট্রবেরি, কমলা, সাইট্রাস ফলের খোসা, জাম্বুরা, বিট ইত্যাদি ব্যবহার করে ভেষজ পানি তৈরি করা যায়।