শরীরকে পুষ্টি যোগায় ভালো ঘুম

b
Rüyalarınızın hayra çıması dileğiyle... Fotoğraf: Jonathan Borba-Unsplash

রাতের ভালো ঘুম আপনার স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। আসলে এটি  খাওয়া ও অনুশীলন করার মতোই গুরুত্বপূর্ণ এবং স্বাস্থ্যকর। এটি শরীরে খাদ্যের মতোই পুষ্টি জোগায়। দুর্ভাগ্যক্রমে, এমন অনেক কিছুই আছে যা আমাদের এই প্রাকৃতিক ঘুমের ধরনগুলিতে হস্তক্ষেপ করে বারোটা বাজিয়ে দেয়। বেশিরভাগ মানুষ এখন আগের তুলনায় অনেক কম ঘুমায়, তাই ঘুমের গুণগুলোও ঘুমের সাথে সাথেই আমাদের শরীর থেকে হারিয়ে যাচ্ছে।

কম ঘুম শরীরের ওজনের সাথে সরাসরি যুক্ত

দুর্বল ঘুম এর কারনে ওজন বৃদ্ধি পায়। ঠিকঠাক ভাবে ঘুমান  যে সমস্ত লোকেরা  তাদের চেয়ে যারা কম ঘুমান তাদের  বেশি ওজনের ঝোঁক থাকে। প্রকৃতপক্ষে, অল্প ঘুমের জন্য স্থূলতারও  বৃদ্ধি ঘটে। ফলে অকালেই নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়। একটি বিস্তৃত পর্যালোচনা গবেষণায়, কম ঘুমানো  শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্কদের যথাক্রমে 89% এবং 55% স্থূলত্ব হওয়ার সম্ভাবনা বেশি ছিল। ঘুমের প্রভাবে যে ওজন বৃদ্ধি হচ্ছে সেটা হরমোন এবং ব্যায়াম এর  দ্বারা মধ্যস্থতা করা হয়।ফলে শরীরকে ভারসাম্য করা যায় অনেকটা। যদি আপনি ওজন কমাবার  চেষ্টা করেন তো ভালোভাবে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমান। কারন ঘুম আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ জরুরী।

যারা ভালো ঘুমায় তাদের  ক্ষেত্রে কম ক্যালোরি যুক্ত খাবার খাওয়ার প্রবনতা থাকে। ঘুম বঞ্চিত ব্যক্তিদের মধ্যে খিদে বেশি থাকে,ফলে বেশি পরিমাণ ক্যালোরি তারা খাচ্ছে।ঘুম না হওয়ার ফলে,ক্ষুধা হরমোনগুলির দৈনিক যে ওঠানামা সেটা ব্যহত হচ্ছে।ফলে এই হরমোনগুলিকে নিয়ন্ত্রন এ আনতে ঘুম অবশ্যই জরুরি।এই হরমোন গুলির মধ্যে রয়েছে ঘেরলিন নামক একটি হরমোন যা খিদে জাগায় আর লেপটিন নামক হরমোন খিদে কমায়।

ভালো ঘুম মস্তিষ্কের ক্রিয়াকলাপের বিভিন্ন দিক এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।বিভিন্ন দিক এর মধ্যে রয়েছে মস্তিষ্কের উপলব্ধি,ঘনত্ব,সৃষ্টিত্ব বা উৎপাদনশীলতা এবং কার্য সম্পাদন।মস্তিষ্কের এই কাজগুলো ঘুম না হওয়ার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে এবং অনেকটা নেতিবাচক হয়ে যায়। মেডিকেল ইন্টার্ন নিয়ে একটি গবেষণা বলে যে সমস্যা সমাধান এ দক্ষতা ও শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্ক প্রত্যেকের স্মৃতিশক্তি বাড়িয়ে তোলে এই ছোট্ট ঘুম।

ভালো ঘুম অ্যাথলেটিক পারফরম্যান্সকে সর্বাধিক করে তুলতে পারে

ঘুম বেশি হওয়ার ফলে অ্যাথলেটিকদের পারফরম্যান্স আগের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত।বাস্কেটবল  খেলোয়াড়দের নিয়ে একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে ঘুমের ফলে তাদের নিদ্রার গতি,যর্থাথতা,প্রতিক্রিয়ার সময় ও মানসিকভাবে সুস্থটা অনেক বেশি উন্নত। কম ঘুমানোর ফলে বয়স্ক মহিলারা অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়ছেন এবং তাদের কর্মক্ষমতাও কমে যাচ্ছে। তাই ঘুমটা পর্যাপ্তভাবে হওয়া দরকার। যাদের দুর্বল ঘুম তাদের হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।এছাড়াও স্বাস্থ্যের নানান ঝুঁকিপূর্ণ দিকে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।15 টি সমীক্ষার দ্বারা জানা গেছে যে রাতে 7 -8 ঘন্টা ঘুমের থেকে কম ঘুমানো লোকেদেরই এই হৃদজনিত সমস্যা ও স্ট্রোক এর সম্ভাবনা প্রবল।তাই দিনে 7-8ঘন্টা ঘুম অবশ্যই জরুরি।

কম ঘুম গ্লুকোজ বিপাক ও টাইপ 2 ডায়াবেটিসের ঝুঁকিকে প্রভাবিত করে

ঘুমের সীমাবদ্ধতা রক্তে শর্করাকে প্রভাবিত করে এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতা হ্রাস করে।অলবয়স্ক পুরুষদের গবেষণায় দেখা গেছে যে তারা পরপর কয়েকটা রাত মাত্র  4 ঘন্টা ঘুমিয়েছেন।এর ফলে তাদের ডায়াবেটিসের লক্ষন দেখা দিয়েছে।প্রতি রাতে 6 ঘন্টার কম ঘুমালে এই রোগটি আবশ্যক,তাই সতর্ক হোন।

খারাপ ঘুম হতাশার সাথে যুক্ত

মানসিকভাবে স্বাস্থ্যে  যে সমস্যা দেখা যায় তার কারন হল এই হতাশা। হতাশায় আক্রান্ত 90%মানুষ এই কম ঘুমের স্বীকার হন।দুর্বল ঘুমের আত্মহত্যার প্রবল ঝুঁকি থাকে এতে।অনিদ্রা বা স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো রোগ দেখা যায়।তাই হতাশা থেকে দূরত্ব বাড়াতে ঘুম প্রয়োজন।

ঘুম আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে উন্নত করে 

ঘুমের একটি ক্ষুদ্র ক্ষতি ইমিউন ফাংশানকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। দু’সপ্তাহের একটি বড় সমীক্ষা মানুষকে সর্দির ভাইরাসজনিত একটা ড্রপ দেন। পরে পর্যবেক্ষণ করেন যারা সাত ঘন্টার কম ঘুমান তাদের ঠান্ডা লাগার ধাত তিন  গুন বেশি ছিল। যদি আপনি প্রায়শই সর্দি তে আক্রান্ত হন তবে রাতে কমপক্ষে 8 ঘন্টা ঘুমানো আবশ্যক।রসুন খাওয়ার পাশাপাশি এটা দারুণ সহায়তা  করে।

কম ঘুম প্রদাহের সাথে যুক্ত 

কম ঘুম প্রদাহের সৃষ্টি করে এবং কোষের নানান ক্ষতি সাধন করে। দুর্বল ঘুম পাচনতন্ত্রের প্রদাহতেও খারাপ প্রভাব ফেলে।ফলে পেটৃর রোগ দেখা যায়।সমীক্ষায় দেখা গেছে,কম ঘুমানো লোকজন এর এই রোগের সম্ভাবনা বেশি।