SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি বুঝবেন কী করে?

স্বাস্থ্য ০৭ ফেব্রু. ২০২১
মতামত
ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি
Photo by Brooke Lark on Unsplash

ছোটবেলায় মোটামুটি আমরা সকলেই পড়েছি যে মানবদেহের পুষ্টির জন্য প্রয়োজন নানারকম ভিটামিন ও খনিজ দ্রব্য। এই খনিজ দ্রব্য অর্থাৎ আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ইত্যাদির মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় খনিজ হল ম্যাগনেশিয়াম। মানবদেহের অন্তত তিনশ জৈবরাসায়নিক প্রক্রিয়ার জন্য এই খনিজের প্রয়োজন। ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি আমাদের দেহে কাজ করার শক্তি উৎপন্ন হবে না, পেশী সংকোচন ঘটবে ভীষণভাবে। এমনকি রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না।

যদিও প্রাকৃতিক ভাবে প্রায় সব খাবারেই ম্যাগনেসিয়ামের উপস্থিতি রয়েছে। এমনকি নানা উপকারী সাপলিমেন্ট ও কিছু কিছু ওষুধে ( অ্যান্টাসিড জাতীয়) ম্যাগনশিয়াম পাওয়া যায়। তাও, এই খনিজের অভাব মানবদেহে প্রায়শই ঘটে থাকে। মজার ব্যাপার হল, এই ঘাটতির উপসর্গ এত কম যে অনেক সময় বুঝে ওঠা যায় না ঠিক কী কারণে শরীর বিগড়েছে। এই কারণেই ম্যাগনেশিয়াম ঘাটতিতে অনেকসময় ‘অদৃশ্য ঘাটতি’ বলে থাকেন ডাক্তাররা।

বরবটি, বিন থেকে শুরু করে বাদাম জাতীয় খাদ্য ছাড়াও ব্রাউন রাইস ও হোল হুইট ব্রেডে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম থাকে। এছাড়া সবুজ শাকসবজিতে অবধারিত ভাবে ম্যাগনেসিয়া পাওয়া যাবেই যাবে! অথচ তাও দক্ষিণ এশিয়া ও ইউরোপে সমীক্ষা করে দেখা গিয়েছে মানুষের মধ্যে এই খনিজটির ঘাটতি প্রচুর।

বিশেষ করে ব্রিটেনের ৭০ শতাংশ মহিলা এই ঘাটতিতে ভোগেন। একটি সম্পূর্ণ সুস্থ মানবদেহে ম্যাগনেসিয়ামের প্রয়োজন ২৫ গ্রাম, অথচ সেটুকুও থাকে না অনেক মানুষের শরীরে।

ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি-র কারণ

প্রাথমিকভাবে ধরে নেওয়া হয়েছিল যে সঠিক খাদ্যাভ্যাস না থাকার কারণে এই ঘাটতি দেখা যায় মানবদেহে। কিন্তু ম্যাগনেসিয়াম তো সাধারণত সব খাবারেই অল্পবিস্তর পাওয়া যায়। সুতরাং ডায়েটিশিয়ানরা গবেষণা শুরু করলেন সঠিক কারণের জন্য।

দেখা গেল, খাবারে ঠিকঠাক ভাবে এই খনিজ থাকলেও জীবনযাত্রার ও খাবারের ক্রমে কিছু ভুল থাকার কারণে শরীরের তা কাজে লাগছে না। উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, সোডা বা সফট ড্রিঙ্কে ফসফেট থাকে। এই ফসফেট পাকস্থলী ও ক্ষুদ্রান্ত্রে ম্যাগনেসিয়ামের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে কিডনির মাধ্যমে দেহ থেকে বেরিয়ে যায়। সুতরাং, সঠিক খাবার খেলেও তার সঙ্গে যদি সফট ড্রিঙ্ক বা সোডা খাওয়া হয় তাহলে ম্যাগনেসিয়াম কিন্তু আপনার দেহে পৌঁছচ্ছে না।

এরপর ধরা যাক কফি বা অন্যান্য ক্যাফিন সমৃদ্ধ খাবারের কথা। অতিরিক্ত কফি খেলে আপনার শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি হবেই। আমাদের কিডনি মূলত শরীর থেকে এই খনিজ নিষ্কাশন নিয়ন্ত্রণ করে। সেখানে ক্যাফিন কিডনির কার্যক্ষমতা ব্যাহত করে এই নিয়ন্ত্রণে বাধারর সৃষ্টি করে।

এছাড়া রিফাইনড চিনি শরীর থেকে প্রয়োজনীয় ম্যাগনেসিয়াম মূত্রের মাধ্যমে বের করে দেওয়ার জন্য দায়ী।

শরীরে ম্যাগনেসিয়াম কীভাবে শোষিত হয়?

খাবারের মাধ্যমে এই খনিজ আমাদের দেহে প্রবেশ করে। এরপর খাদ্যনালী ও পাকস্থলীতে এটি পাচিত হয়ে স্বাধীন ম্যাগনেসিয়াম অণু বা আয়নে পরিণত হয়। এই আয়ন আমাদের হাড় ও মজ্জার সঙ্গে সংযুক্ত হয়। শুধু তাই নয়, শরীরের বিভিন্ন বিপাক প্রক্রিয়ায় ম্যাগনেসিয়াম আয়ন অংশগ্রহণ করে সেই প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা বাড়িইয়ে দেয়।

আমাদের দেহের হার্ট, পেশী ও কিডনি ভীষণ ভাবে এই খনিজের উপর নির্ভরশীল।

শরীরে ম্যাগনেসিয়ামর মাত্রা এমনিতে মাপা ভীষণ কঠিন যেহেতু বেশিরভাগই হাড়ে ও মজ্জায় থাকে। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় সিরাম ম্যাগনেসিয়াম কনসেন্ট্রেশন পদ্ধতি।

ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি শরীরে কী কী উপসর্গ দেখা যায়?

শরীরের ম্যাগনেসিয়ামের অত্যন্ত ঘাটতি হলে রক্তবাহের মধ্যে রক্ততঞ্চন শুরু হয়। এই জমাট বাঁধা রক্ত হার্টে গিয়ে পৌঁছলে হার্ট অ্যাটাক বা করোনারি থ্রম্বোসিসের প্রবণতা বাড়ে। এছাড়া পেশীর উত্তেজনা বাড়ে ও অতিরিক্ত ঘাম হয়। এত বেশি পরিমাণ অ্যাড্রেনালিন হরমোন ক্ষরিত হয় যে পেশী কখনওই সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। এছাড়া কোলেস্টেরলের মাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যায়। ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে ইনসুলিন হরমোন সঠিকভাবে কাজ করতে না পারার কারণে টাইপ টু ডায়াবেটিসের প্রবণতা বাড়ে।

প্রাথমিকভাবে খিদে কম হওয়া, বমিভাব, অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা এই খনিজ অভাবের লক্ষণ হিসাবে পরিগণিত হয়। এর সঙ্গে সঙ্গে হাত পায়ে ঝিমঝিম ভাব, পেশী সংকোচন ও অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার প্রবণতাও দেখা যায়।

ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে এমন খাদ্যতালিকা

নিম্নলিখিত খাবারগুলো নিয়মিত সঠিক মাত্রায় ও সঠিক ক্রমে খেলে দেহে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি হয় না।

১। পালংশাক- এক কাপ

২। কুমড়া বীজ- ১/৮ কাপ

৩। ইয়োগার্ট বা দই- ১ কাপ

৪। আমন্ড বাদাম- ১ আউন্স

৫। ব্ল্যাক বিন- ১/২ কাপ

৬। অ্যাভোকাডো- মাঝারি মাপের একটা

৭। ডুমুর- ১/২ কাপ

৮। ডার্ক চকোলেট- ১ ব্লক

৯। কলা- মাঝারি মাপের একটা

সুতরাং, ভিটামিনের সঙ্গে নির্দিষ্ট পরিমাণ খনিজ যাতে আমাদের শরীরে প্রবেশ করে এ বিষয়ে খেয়াল আমাদেরই রাখতে হবে। সুস্থ শরীরই কিন্তু জীবনে আনন্দময় ভাবে বাঁচার অন্যতম একটি উপায়।