শান্তির ঘর জান্নাতে আপনাকে আমন্ত্রণ!

Как научиться отдыхать?

আল্লাহ তা’আলা চান যেন আমরা সকলেই জান্নাতে যেতে পারি এবং এজন্যই তিনি সেখানে আমাদের প্রত্যেকের জন্য একটি করে ঘর তৈরি করেছেন। সমস্ত মানুষকে স্বয়ং আল্লাহ আমন্ত্রিত করছেনঃ

“আর আল্লাহ শান্তি-নিরাপত্তার আলয়ের প্রতি আহবান জানান এবং যাকে ইচ্ছা সরলপথ প্রদর্শন করেন” (আল কুরআন-১০:২৫)

আমাদের স্বাধীন ইচ্ছা অনুযায়ী আমরা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাঁর নির্দেশনা অনুসরণ করে এই আমন্ত্রণটি গ্রহণ করতে পারি।

আপনি কি আল্লাহর আমন্ত্রণটি গ্রহণ করবেন?

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “ আল্লাহ বলেন, আমি আমার নেক বান্দাদের জন্য এমন নিয়ামত তৈরি করে রেখেছি, যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান যার কথা শোনেনি এবং কোনো মানুষের কল্পনায়ও যা আসেনি। তোমরা ইচ্ছা করলে (কোরআনের এ আয়াতটি) পাঠ করতে পারো। ‘কোনো মানুষই জানে না যে, তাদের জন্য কী নয়নপ্রীতিকর প্রতিদান লুকিয়ে রাখা হয়েছে’। (আল কুরআন-৩২:১৭) (বুখারী)

দারুস সালাম(শান্তির ঘর) কি?

দারুস সালামের আক্ষরিক অর্থ শান্তি, মঙ্গল বা সুরক্ষার বাড়ি বা আবাস।

ইসলাম অর্থ শান্তিতে প্রবেশ করা এবং আল্লাহর আদেশ ও নিষেধের সাথে মিলিত হওয়া বা আত্মসমর্পণ করা; একজন মুসলিম আল্লাহর কাছে নিজেকে আত্মসমর্পণ করে।

আল্লাহর অন্যতম সুন্দর নাম হচ্ছে আস-সালাম; তিনি প্রকৃত শান্তি ও সুরক্ষার একমাত্র উত্স ও দাতা।

ইসলামের অভিবাদন ‘আসসালামু আলাইকুম’ এর অর্থ মূলত: “তুমি আমার কাছ থেকে নিরাপদ; তোমরা আমার কাছ থেকে কোনো মন্দ পাবে না।” আল্লাহ তায়ালা বলেন, “তাদের জন্যেই তাদের প্রতিপালকের কাছে রয়েছে নিরাপত্তার গৃহ এবং তিনি তাদের বন্ধু তাদের কর্মের কারণে।” (আল কুরআন-৬:১২৭)

জান্নাত এমন এক স্থান যেখানে সকল কিছুতেই থাকবে সালাম(শান্তি), সমস্ত মন্দ, মিথ্যা কথা, কঠোরতা এবং নেতিবাচকতা থেকে মুক্ত! আল্লাহ বলেন, “তারা থাকবে, সুউচ্চ জান্নাতে। সেখানে শুনবে না কোন অসার কথাবার্তা। সেখানে থাকবে প্রবাহিত ঝরণা। সেখানে থাকবে উন্নত সুসজ্জিত আসন। এবং সংরক্ষিত পানপাত্র এবং সারি সারি গালিচা এবং বিস্তৃত বিছানো কার্পেট।” (আল কুরআন-৮৮:১০-১৬)

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তাদের মধ্যে কোনো মতভেদ বা বিদ্বেষ থাকবে না; তাদের অন্তর যেন হবে এক হৃদয়ের মত।” (বুখারী)

আল্লাহ বলেন, “তাদের অন্তরে যে ক্রোধ ছিল, আমি তা দূর করে দেব। তারা ভাই ভাইয়ের মত সামনা-সামনি আসনে বসবে।” (কুরআন, ১৫:৪৭)

জান্নাতের আমন্ত্রণ কীভাবে গ্রহণ করবেন: ৫টি পদক্ষেপ

১. আত্মসমর্পণ করুন

আপনি যদি পরিপূর্ণ ইসলামে প্রবেশ করেন তবেই আপনি শান্তি পাবেন। দুনিয়াতে এবং আখিরাতে।

“সেখানে তাদের জন্য থাকবে ফল-ফলাদি এবং থাকবে তারা যা চাইবে তাও। অসীম দয়ালু রবের পক্ষ থেকে বলা হবে, ‘সালাম’ (আল কুরআন-৩৬:৫৭-৫৮)

২. আল্লাহর নিকট ভালো চরিত্রের জন্য দু’আ করুন

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আমি ঐ ব্যক্তির জন্য জান্নাতের কিনারায় একটি ঘরের জিম্মাদারী নিচ্ছি, যে হকের উপর থেকেও ঝগড়া ছেড়ে দেয়, ঐ ব্যক্তির জন্য জান্নাতের মধ্যখানে একটি ঘরের জিম্মাদারী নিচ্ছি, যে ঠাট্টা বিদ্রুপের মধ্যেও মিথ্যা কথা বলে না আর ঐ ব্যক্তির জন্য জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তরে একটি ঘরের জিম্মাদারী নিচ্ছি, যে নিজের চরিত্রকে ভাল বানিয়ে নেয়।” (আবু দাউদ)

৩. তাকওয়ার জন্য দু’আ করুন

আল্লাহ বলেন, “আর যারা তাদের রবকে ভয় করেছে তাদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। অবশেষে তারা যখন সেখানে এসে পৌঁছবে এবং এর দরজাসমূহ খুলে দেয়া হবে তখন জান্নাতের রক্ষীরা তাদেরকে বলবে, ‘তোমাদের প্রতি সালাম, তোমরা ভাল ছিলে। অতএব স্থায়ীভাবে থাকার জন্য এখানে প্রবেশ কর’। (আল কুরআন-৩৯:৭৩)

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকওয়ার জন্য এই দু’আ করতেন, “আল্লাহুম্মা আ-তি নাফসী তাকওয়া-হা” (হে আল্লাহ! আমার অন্তরকে তাকওয়া দ্বারা পরিপূর্ণ করে দিন) (মুসলিম)

৪. ওযুর পরে কালিমায়ে শাহাদাত পাঠ করুন

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি পূর্ণভাবে ওযু করবে এবং কালিমা শাহাদাত পাঠ করবে, তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজাই খুলে দেয়া হবে। সে যেটা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করতে পারবে।” (মুসলিম)

৫. হেদায়াতের জন্য দু’আ করুন

দারুস সালামে প্রবেশ কেমলমাত্র আল্লাহর অপার করুণাতেই হতে পারে। তাই বারবার হেদায়াতের জন্য দু’আ করুন, ক্ষমা ভিক্ষা করুন।

আলী(রাযিঃ) বর্ণনা করেছেন, আল্লাহর রাসূল আমাকে এই দু’আটি পড়তে বললেন,  “আল্লাহুম্মা-দীনী ওয়া সাদ্দি-নী” (হে আল্লাহ! আমাকে সরল পথে পরিচালিত করুন এবং আমাকে সরল পথে অবিচল রাখুন) (মুসলিম)