শান্তির শর্ত: সালাম

Assalamualaikum-Warahmatullahi-Wabarakatuh

ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সালাম এক অন্যতম অত্যাবশ্যকীয় পূর্বশর্ত।

উচ্চারণ: আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহ্ মাতুল্লাহ্।

অর্থ: আপনার ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হউক।

সালাম দেয়া সুন্নত এবং সালামের জবাবে ‘ওয়া আলাইকুমুস সালাম’ বলা ওয়াজিব।

বর্তমান সর্বোচ্চ আধুনিকতার যুগেও সাদর সম্ভাষণের বেলায় সালামের চেয়ে উত্তম কোনো সম্ভাষণ শব্দ বা বাক্য আবিষ্কৃত হয়নি। হজরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘ওই ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার রহমতের সবচেয়ে বেশি নিকটবর্তী যে প্রথমে সালাম প্রদান করে।’

আল্লাহর রাসূল (সা.)-কে কোনো সাহাবি অনেক চেষ্টা করেও কোনোদিন আগে সালাম দিতে পারেনি। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, আগে সালাম প্রদানকারী গর্ব-অহঙ্কার হতে মুক্ত। সালাম হলো দুষ্ট ব্যধির প্রতিষেধক।

তিবরানী কিতাবে হজরত আবু হুরায়রাহ (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি দিনে-রাতে ২০ জন মুসলমানকে সালাম করবে অতঃপর ওইদিন যদি সে দুনিয়া থেকে বিদায় নেয় তবে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব।

সালামের সময় হাত উঠানো মূলতঃ কোনো ইসলামি প্রথা নয়-যদিও আজ মুসলমানেরা এটা রেওয়াজে পরিণত করেছে। বস্ততঃ এটা রাজশক্তির সশস্ত্র বাহিনীর সামরিক আদব ছিল। ইসলামে বরং মুয়ানাকার এবং মুসাফাহার বিধান এসেছে। যাতে পরস্পরের উভয় হাত ধরে বলতে হবে- ‘ইয়াগফিরুল্লাহু লানা ওয়ালাকুম।’

তবে সালামের সহিহ উচ্চারণ আমাদের সমাজে যেন আজ অনুপস্হিত। আধুনিকতার দৌড়ে কে কতো বিকৃত উচ্চারণ করতে পারে তা নিয়ে যেন চলছে প্রতিযোগিতা। যে উচ্চারণে আমরা সালাম দিচ্ছি, (যেমন সামাইকুম) নিজের অজান্তেই তার অর্থ হয়ে যাচ্ছে ভয়াবহ! কোনোটির অর্থ: ‘আপনার ধ্বংস হউক বা আপনার মৃত্যু হউক।’

আল্লাহ তায়ালা বলেন,

হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের গৃহ ব্যতীত অন্য গৃহে প্রবেশ করো না, যে পর্যন্ত আলাপ-পরিচয় না কর এবং গৃহবাসীদেরকে সালাম না কর। এটাই তোমাদের জন্যে উত্তম, যাতে তোমরা স্মরণ রাখ।’

আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’ হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ বলেন,

‘তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা পরিপূর্ণ ঈমানদার হতে পারবে না। আর ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা পরিপূর্ণ ঈমানদার হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি তোমরা একে অপরকে ভালোবাসবে না, আমি কি তোমাদেরকে এমন একটি জিনিস বাতলে দেব, যা করলে তোমরা পরস্পর পরস্পরকে ভালো বাসবে? তারপর তিনি বললেন, তোমারা বেশি বেশি করে সালামকে প্রসার কর।’ (মুসলিম)

আমাদের সহিহ উচ্চারণে সালাম দিতে হবে। এই একটি আমলের মধ্য দিয়েই আল্লাহ চাহেতো শান্তি চলে আসতে পারে। এতে বহু বহু বরকত হবে ইনশাল্লাহ্।

Source: Daily Bangladesh.

Photo: Collected