শান্তি প্রতিষ্ঠার পাঁচ উপায়

dreamstime_xs_21300740

শান্তি ইসলামের একটি বৃহত্তম লক্ষ্য। আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পনের মাধ্যমে ইসলাম মানুষকে শান্তি অর্জনের জন্য উদ্বুদ্ধ করে। ভারসাম্য ও সমতা বজায় রেখে আধ্যাত্মিক উন্নতির সাথে সাথে এটি কার্যকর হয়।

আপনার পরিবার ও চারপাশের সকলের মাঝে তথা সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার আপনি নিচের পাঁচটি ধাপ অনুশীলন করতে পারেন।

১. সালাম দেওয়া

কারো সাথে সাক্ষাৎ হলে তাকে সালাম করুন। শুধু মুখে ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলাই যথেষ্ট। সালামের মত ক্ষুদ্রতর সম্ভাষণ আপনার চারপাশের মানুষের সাথে আপনার সম্পর্ককে সুদৃঢ়করনে সাহায্য করবে। পাশাপাশি এটি সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী ভূমিকা পালন করবে।

২. ইহসান

ইহসানের সাধারন অর্থই হল যে কোন কাজ করতে তার পেছনে একটি সৎ উদ্দেশ্য থাকা। এটি বিভিন্নভাবেই অর্জিত হতে পারে। আপনার সকল কাজে সততা এবং ন্যায়বিচার বজায় রেখে, আপনার স্বার্থহীন আচরনের মাধ্যমে, কারও কোন উপকার করে কোন প্রতিদানের প্রত্যাশা না করার মাধ্যমে আপনি ইহসান করতে পারেন। আপনার সামান্য অনুগ্রহমূলক কাজে আপনার চারপাশের সকলে উপকৃত হবে এবং সমাজে শান্তির প্রতিষ্ঠা হবে।

৩. শিশুদের তারবিয়্যাহ

আপনার থেকে শিক্ষা না পেলে আপনার সন্তানরা তাদের তারবিয়্যাহ বা ব্যক্তিগত চরিত্রের উন্নতি সম্পর্কে কিছুই জানবে না। আবার তারা যদি তারবিয়্যাহ সম্পর্কে কিছুই জানতে না পারে, তবে আজকের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে শান্তির গুরুত্ব তারা অনুধাবন করতে পারবে না।

শৈশবেই আপনার সন্তানকে ইসলামী শিক্ষা প্রদান করে তার ভিত্তিকে গড়ে দিন। সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য পরিণত বয়সে এই বাল্যশিক্ষা প্রভাব বিস্তারকারী ভূমিকা পালন করবে।

৪. পরিবারকে একত্রিত করুন

পারিবারিক সম্পর্কের থেকে বৃহত্তর কোন সম্পর্ক পৃথিবীতে নেই। পরিবারের সদস্যদের সাথে একসাথে আড্ডা, খাবার গ্রহন করা, একত্রে নামাজ আদায়, একত্রে যে কোন কাজ সম্পন্ন করা পরিবারের সদস্যদের মাঝে সম্পর্ককে দৃঢ় করে। পরিবারের সদস্যরা একত্রে কোন কাজ করলে এর মাধ্যমে তাদের মধ্যকার সম্পর্ক শক্তিশালী হয়। আর শক্তিশালী সম্পর্কের পরিবারই সমাজের শান্তি প্রতিষ্ঠার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

৫. সৎ প্রতিবেশী হওয়া

আপনার কাছ থেকে আপনার প্রতিবেশীই সর্বাধিক নিকটবর্তী। মুসলিম হোক কিংবা অমুসলিম, ইসলাম প্রতিবেশীর জন্য এক বিশেষ মর্যাদা নির্ধারন করেছে। প্রতিবেশীর সাথে সম্পর্ক বজায় রাখা, তার বিপদে সাহায্য করা এবং তার আনন্দে শরীক হওয়ার জন্য ইসলামে উৎসাহিত করা হয়েছে। ইসলামের এই শিক্ষা অনুসরনের মাধ্যমে একজন সৎ প্রতিবেশীতে পরিণত হওয়ার মাধ্যমে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বহুদূর অগ্রসর হওয়া যেতে পারে।