শিক্ষা-শিল্প-সংস্কৃতির ভরকেন্দ্র আল আন্দালুস

স্পেনে মুসলিম শাসনের উত্থান শুরু হয় মুসা বিন নুসায়ের স্পেন আক্রমণ করার পর থেকে। গোটা স্পেন জুড়ে মুসলিম ধর্ম ছড়িয়ে দেবার ইচ্ছা তিনি পূরণ করতে শুরু করেন ওই সময় থেকে। তিনি এই কাজের ভার দেন তারিক বিন জিয়াদকে । একসময় কৃতদাস থাকলেও, তারিক জিয়াদ হয়ে ওঠেন সম্রাট মুসার অত্যন্ত প্রিয়পাত্র এবং যুদ্ধের বিশ্বস্ত হাতিয়ার।

শিল্প ও সংস্কৃতির পীঠস্থান হয়ে ওঠা 

সেনাপতি তারেক বিন জিয়াদ স্পেনের দক্ষিণ প্রান্ত দিয়ে প্রবেশ করেন ৭১১ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল মাসে। একের পর এক যুদ্ধের মধ্যে দিয়ে তিনি মুসলিমদের জয় নিশ্চিত করে ফেলেন। জয়ের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে  মুসা বিন নুসায়ের-এর নেতৃত্বে মুসলিমরা ৭১২ খ্রিস্টাব্দে স্পেনকে উভয় প্রান্ত দিয়ে ঘিরে ফেলে। সেই সময় স্পেনের শিল্প ও সংস্কৃতির পীঠস্থান হয়ে উঠেছিল আল আন্দালুস। 

এই শহর প্রথম আব্দ-আল রহমানের অধীনে ছিল যিনি করডোবাকে তার স্বর্ণ যুগে নিয়ে গিয়েছিলেন শিক্ষা সংস্কৃতির দিক দিয়ে। তিনি চেয়েছিলেন শহরটিকে সব দিক থেকে সর্বোচ্চ স্থান দিতে তাই শুধু শিক্ষা, সংস্কৃতিতে থেমে থাকেননি প্রথম আব্দ আল রহমান ব্যাবসা, কৃষি ও উৎপাদনশীলতার বিষয়ে প্রভূত উন্নতি ঘটান। শহরের সবজায়গাতেই জলের ব্যাবস্থাও করে দেন এমনকি সৌন্দর্যায়ন করতে আধুনিক আলোও লাগান রাস্তার ধারে।

সাহিত্যচর্চার বর্তমান ধারা

করডোবার কেন্দ্রস্থলে তিনি একটি মসজিদ তৈরি করেন। ভিসিগোথ সেন্ট ভিনসেন্ট নামক চার্চটিকে মসজিদে পরিণত করতে বেশ বেগ পেতে আব্দ আল রহমানকে। আশেপাশের রোমান ভিলাগুলি থেকে প্রায় ৭৫০ পিলার নিয়ে আসেন কিন্তু চার্চের ছাদ এত উঁচু ছিল যে সেই পিলারের উপরে আবার ঢালাই দিয়ে উঁচু করতে হয়। আজও এই এটি টিকে আছে করডোবাতে, খ্রীস্টান এবং ইসলামিক ভাস্কর্য্যের অপূর্ব মেলবন্ধন দেখতে হলে এর চেয়ে ভালো জায়গা আর নেই।

এখনও প্রতি এপ্রিল মাসে বসে আন্দালুসের উৎসব। সেইসময় নেদারল্যান্ড থেকে বিশ্ব বিখ্যাত শিল্পীরা আসেন আন্দালুসের ইতিহাসের কথা বলতে তার সাথে থাকে আজকের আন্দালুসেরও গল্প। আন্দালুসের সংস্কৃতিচর্চার বিভিন্ন উদাহরন যা আজও পাওয়া যায় তার থেকে এখানকার সাহিত্যচর্চার কথা জানা যায়।   শহরের প্রকৃতিতে এক অদ্ভুত শান্তির আশ্বাস ফুটে ওঠে গানে, কবিতায় ও গল্পে। গিটারের আওয়াজ, কাহানের সুর শহরের উপর যেন প্রাণ আরোপ করে এই সময়টা। বিশ্ববাসীর কাছে এই শহর অন্য সন্মান পেয়েছে চিরকালীন ইতিহাসে। আন্দালুসের লাইব্রেরিতে থাকা চার লক্ষেরও বেশি বইয়ের সম্ভার  বিশ্ববাসীকে আজও বিস্মিত করে।