শিখে নিন ভিন স্বাদের মিষ্টান্ন করাচী হালুয়া

karachi halwa

মিষ্টিজাতীয় খাবারের প্রতি আমাদের প্রত্যেকেরই কম-বেশি আগ্রহ থাকে। কখনও সুজি, কখনও গাজর, কখনও আবার দুধ, ক্ষীর, চিনি সহযোগে প্রস্তুত বিভিন্ন মিষ্টিজাতীয় পদ খাবারের টেবিলে আলাদা এসেন্স এনে দেয়। কোনও কোনও মিষ্টি তৈরিতে ব্যবহার করা ড্রাই-ফ্রুটস একপ্রকার উপরি পাওনাও বটে।

হালুয়ার রকমসকম

বিভিন্ন মিষ্টিজাতীয় পদের নাম নিয়ে কথা বলার প্রসঙ্গে আজকে আমাদের প্রতিবেদনের মূল আলোচনার বিষয়ই হবে হালুয়া-পদটি। আমরা প্রত্যেকেই জানি হালুয়া একধরনের মিষ্টিজাতীয় পদ। আরবি ভাষায় হালুয়া শব্দটির অর্থ হল মিষ্টান্ন। বাংলাদেশ এবং ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে হালুয়া বিশেষভাবে জনপ্রিয়। রুটি, লুচির সঙ্গে হালুয়া খাওয়ার বিষয়টি যে বিশেষভাবে জনপ্রিয় সে কথা নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই।

সাধারণত আমরা হালুয়ার বিভিন্ন রকমের প্রকার পেয়ে থাকি। মূলত উপকরণের উপরে ভিত্তি করেই এমন নাম করা হয়ে থাকে, যেমন-গাজরের হালুয়া, সুজির হালুয়া, ক্ষীরের হালুয়া ইত্যাদি। সুজির হালুয়া প্রসঙ্গে আরও দু-একটা কথা বলে নেওয়া যেতে পারে। শুধুমাত্র ভারত এবং বাংলাদেশেই নয়, আফগানিস্তান, পাকিস্তান এবং ইরান সংলগ্ন প্রদেশেও মিষ্টির এই পদটি প্রস্তুত করা হয়ে থাকে। সাইপ্রাস, গ্রিস এবং তুরস্কের বিভিন্ন অঞ্চলেও সুজির হালুয়া খাওয়ার চল রয়েছে।

করাচী হালুয়ার উপকরণ এবং প্রণালী একেবারেই আলাদা।  আবার বোম্বে করাচী হালুয়া নামেও পদটি বিশেষভাবে জনপ্রিয়। এই হালুয়া নামেই লুকিয়ে রয়েছে পাকিস্তানের সঙ্গে একধরনের সংযোগসূত্র। আর আপনি যদি তুর্কি প্রদেশীয় খাবারের সঙ্গে সংযোগ খুঁজতে চান তাহলে কিন্তু এই দুইয়ের মধ্যে অবশ্যই যোগসূত্র পেতে পারেন অনায়াসেই। রন্ধনবিদের অনেকেই মনে করেন হালুয়া পদটি হল একধরনের পার্শিয়ান পদ। মূলত বণিক শ্রেণির হাত ধরেই এই পদটি পরবর্তী সময়ে পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলেও বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। 

করাচী হালুযার প্রচলন

করাচী হালুয়া সম্ভবত ১৮৯৬ সালের দিকে পাকিস্তানের করাচী শহরে প্রচলিত হয়, পরবর্তী সময়ে এই হালুয়া প্রস্তুতকারী ব্যক্তিরা বোম্বে বা অধুনা মুম্বইয়ে চলে এলে এর নাম হয় বোম্বে করাচী হালুয়া… এমনটা আবার মনে করেন অনেক রন্ধন ঐতিহাসিকেরাই। তবে এই নিয়েও নানা মত আবার উঠে আসে, অনেকে মনে করেন করাচী হালুয়া আরও অনেক বেশি পুরনো। সে যাই হোক করাচী হালুয়া তার উজ্জ্বল রং এবং বর্ণের জন্য, একইসঙ্গে এর লোভনীয় স্বাদের জন্য বিশেষভাবে জনপ্রিয় এমনটা বলতে পারি আমরা।

করাচী হালুয়া নিয়ে কথা বলা প্রসঙ্গে আমরা একবার এর বানানোর প্রক্রিয়াটিও দেখে নিতে পারি। বাড়িতেও বেশ সহজেই প্রস্তুত করা যাবে এই করাচী হালুয়া।

উপকরণ-

১. চিনি ৪ কাপ
২. সিরার জন্য পানি ৩ কাপ
৩.কর্ণফ্লাওয়ার ১ কাপ
৪. কর্ণফ্লাওয়ার গুলানোর জন্য পানি ২ কাপ
৫. ১চা চামচ: লেবুর রস
৬. গোলাপজল ২ চা-চামচ
৭. ফুড কালার যে কোনও
৮. বাদাম পছন্দমত ( কাজু, এমন্ড, চিনা বাদাম কুচি) ২ চামচ
৯. এলাচ ২-৩ টা
১০. ঘি ১ কাপ( প্রয়োজনে আর নিতে পারেন)

প্রণালী-

প্রথমে কর্ণফ্লাওয়ারের সঙ্গে ২ কাপ ঠান্ডা পানি দিয়ে গুলি রাখতে হবে। তারপর একটি ননস্টিকি পাত্রে চিনি ও ৩ কাপ পানি নিয়ে চুলায় বসিয়ে নাড়তে হবে।
পানির সাথে চিনি পুরোপুরি মিশে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। চিনির মিশ্রণ ফুটে উঠলে এতে এলাচ ছেড়ে দিন। একটু ঘন হয়ে আসলে এতে গুলানো কর্ণফ্লাওয়ার দিয়ে আবারও ভালোভাবে নাড়তে হবে। গ্যাসের আঁচ এসময় মাঝারি থাকবে। যখন মিশ্রণটি একটু ঘন হয়ে তলায় লেগে আসবে তখন লেবুর রস দিয়ে দিতে হবে। ক্রমাগত নাড়তে হবে।

মিশ্রণটি যখন আরো একটু ঘন হয়ে আসবে তখন এতে ফুড কালার দিয়ে নাড়তে হবে। ভালো ভাবে মিশিয়ে এতে একটু একটু করে ঘি দিতে আর নাড়তে হবে। এরকম করে পুরো ঘি দিতে হবে। এরপর বাদাম, গোলাপজল দিতে হবে। ক্রমাগত নাড়তে হবে এবং খেয়াল রাখতে হবে যেনো হাড়ির তলায় লেগে না যায়। যখন মিশ্রণটি থেকে তেল ছেড়ে দিবে এবং পাত্রের তলায় লাগবে না তখন বুঝতে হবে হালুয়া হয়ে গেছে।

এরপর একটি তলা সমান পাত্রে একটু তেল/ ঘি দিয়ে মেখে সমান ভাবে হালুয়া বিছিয়ে দিতে হবে। এরপর ফ্রিজে ২ ঘন্টা রেখেদিন। এইভাবেই সহজেই প্রস্তুত হয়ে যাবে করাচী হালুয়া। পছন্দ মত কেটে পরিবেশন করুন বোম্বে হালুয়া।

তথ্যসূত্র- বিভিন্ন ফুড ব্লগ, রেসিপি- Miti’s cooking studio.