শিশুকে কী বোঝাবেন দাম্পত্যে বিচ্ছেদ সম্পর্কে?

ID 151375313 © Volodymyr Tverdokhlib | Dreamstime.com
ID 151375313 © Volodymyr Tverdokhlib | Dreamstime.com

আজকের দিনে দাঁড়িয়ে বিচ্ছেদ এবং ভগ্ন পরিবার মুসলিম সমাজে প্রকট হয়ে উঠছে। এই ঘটনার প্রভাব কিন্তুপরিবারের ছোট সদস্যদের উপর পরোক্ষ ভাবে পড়ছে। বাবা মা-রা এই ব্যাপারে যথেষ্ট চিন্তিত কিন্ত তাদের প্রয়াস বিচ্ছিন্ন। ছেলে মেয়েরা তাদের থেকে অনেক দূরে চলে যাচ্ছে। আচার ব্যবহারের যে বিপুল পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে তা বেশি সময়ই তাদের বয়স অনুযায়ী কাম্য নয়। ছেলেমেয়েদের জীবনযাপন চরম উশৃঙ্খল হয়ে উঠছে পরিবারের এই ছোটো ভুল বোঝাবুঝির কারণে। তারা খেলা, পড়াশোনা সব কিছুতে অমনোযোগী হয়ে উঠে আসক্ত হয়ে পড়ছে অন্য জগতে। খুব অল্প বয়সে ড্রাগ, মাদক আসক্তি জনিত সমস্যা এখন খুব বেশি ভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।  

আমেরিকাতে বিচ্ছেদ সবচেয়ে বেশি দেখা যায় তবে এখন বাংলাদেশেও এর পরিমাণ বেড়েছে গতকয়েক বছর যাবত। ছেলেমেয়েদের কথা এই ধরনের কাজ করলে, তাদের এই ঝগড়া বাচ্চাদের ওপর কতটা মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে তা বলার নয়। এই সমস্যার সমাধান অনেক ভেবেচিন্তে বের করতে হবে, কারণ একটা ভুল পদক্ষেপ বাচ্চাদের জীবন আমূল পাল্টে দেয়।

ভেবে দেখুন একটা বাচ্চার বয়স যদি তিন, সাত, আট, দশ হয়, তারা কি করে বুঝবে যে বিবাহ বিচ্ছেদ কি? তাদের সম্পর্কে কতুটুকু ধারণা আছে, একটা বয়স তো চাই এটা বোঝার জন্য যে বাবা মা কেন এই বিচ্ছেদে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটুকু সময় তো পিতা মাতাকেই করে দিতে হবে।

অনেক বাবা বা মা যাদের বিচ্ছেদ হয়ে গেছে তাদেরকে মনে মনে বাচ্চাদের জন্য অসন্তুষ্ট দেখায়। যদিও এই অসন্তুষ্ট তার নিজের জন্য, তারা বাচ্চাদেরই দোষ দেয়, কিন্তু আদৌতেই দোষটা আসলে কাদের?

বাচ্চারা নাকি তাদের কথা শুনতে চায় না, সবসময় মুখে মুখে তর্ক করে। আচ্ছা ভেবে দেখেছেন কেন তারা এটা করে? কতটুকু সময় দেন তাদের? তারা বাচ্চা, আপনার মতো বোঝার ক্ষমতা তার নেই। তার মস্তিষ্ক পরিপূর্ণ হয়নি, তাহলে তাদের তো বোঝাতে হবে। বোঝানোর সময় কি আপনার আছে? ছেলেমেয়েকে সময় দিতে হবে, তারা কি চায় সেটা বুঝতে হবে আপনাকে। তাহলেই দেখবেন তারাও আপনার কথা শুনবে, ভালো ব্যবহার করবে। আপনিও তার ব্যবহারে হতাশ হবেন না।

একটি সন্তানের জীবনে বাবা মা সমান গুরুত্বপূর্ণ। একজন চলে গেলে যে শূন্যতা তৈরি হচ্ছে সেটা অন্যজনকেই মেটাতে হবে। একজনকেই দুজন হয়ে উঠতে হবে, তবেই আপনার সন্তান ভালো থাকবে এবং আপনাকেও ভালো রাখবে।

তাকে খোলামেলা জীবন যাপন এর সুযোগ দিন। শুধু ভুলটা আপনি শুধরে দিন। বন্ধুর মতো মিশুন, ছেলেমেয়েরা যাতে বন্ধুর মতো আপনার সাথে সবকিছু শেয়ার করতে পারে। নিজের ছেলেমেয়ে যদি সবকিছু ভাগ করে নেয় দেখবেন এর থেকে আনন্দ আর কিছুই নেই।

তাকে এটা বলুন আপনারা আলাদা থাকলেও দুজনের কাছেই যেতে পারে। অনেক বাচ্চারাই বিষাদগ্রস্ত বাবা মার কারণে হয়। আপনারা একে অন্যের সম্পর্কে নেতিবাচক কথা বলতে শুরু করেন। এটা কমবেশি সবাই করে। একদমই এটা করবেন না কারণ এটা ঠিক না। এতে তাদের মনের মধ্যে চাপের সৃষ্টি হয়।

বিচ্ছেদের ফলে একটা শিশুর জীবনের সবচেয়ে কাছের দুজন মানুষ আলাদা হয়ে গেলে, তারা যে কতটা সমস্যার মধ্যে পরে তা আমরা সবাই জানি। এরকম পরিস্থিতিতে অবশ্যই বাচ্চার কথাটা আগে ভাবুন।