SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

শিশুকে চা দেবেন কিনা? কতটুকু দেবেন?

শিশু ১৭ ফেব্রু. ২০২১
মতামত
শিশুকে চা
Photo by Tima Miroshnichenko from Pexels

সকলে মিলে বাড়িতে একসঙ্গে চায়ের আসর বসেছে, দারুণ জমে উঠেছে গল্প, সেইসময় আপনার কোলের পুঁচকে বায়না জুড়লো, আপনি যে কাপে করে যে গরম পানীয়টি খাচ্ছেন, সেটি তাকেও দিতে হবে! অগত্যা কী আর করা! আপনিও তাকে কাপে ঢেলে চা খেতে দিলেন। শিশুর চায়ের নেশা কিন্তু এভাবেই বড়দের হাত ধরেই শুরু হয়। অনেক বাড়িতেই দেখা যায়, আম্মি-আব্বু চা খেতে বসলে কোলের বাচ্চাটিকেও হয়তো আধকাপ চা আদর করে খেতে দেন তাঁরা। ছোট বাচ্চার চা খাওয়া আদৌ উচিত কিনা, বা খেলেও কতটা বা কী ধরনের চা সে খেতে পারবে বা কোন বয়স ঠিক চা খাওয়ার জন্য উপযুক্ত, চা খেলে কী কী ক্ষতি হয়, এই নিয়ে ধারণা থাকে না অনেকেরই। ফলে সন্তানের দাবিতে তাকে চা দিতে গিয়ে উলটে নিজেদের অজান্তেই সন্তানের ক্ষতি করে ফেলেন তাঁরা। আজকে তাই আমরা শিশুকে চা দেবেন কিনা বা দিলেও কতটুকু দেবেন, এইসমস্ত কিছু নিয়ে আলোচনা করব।

শিশুকে চা দেওয়া কি আদৌ প্রয়োজন?

মনে রাখবেন, চা বা কফি, যাই বলুন না কেন, তার মূল উপাদান কিন্তু ক্যাফেইন। এই ক্যাফেইন আমাদের স্নায়ুতন্ত্রকে উত্তেজিত করে এবং আমাদের রিফ্রেশড রাখে। ১০০ গ্রাম কফিতে এই ক্যাফেইনের পরিমাণ ৪০ মিলিগ্রাম এবং সমপরিমাণ চায়ে ক্যাফেইনের পরিমাণ ১১ মিলিগ্রাম। আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্সের মতে, এই ক্যাফেইন গ্রহণের পরিমাণ হওয়া উচিত—৫ মিলিগ্রামের কম (৪-৬ বছরের শিশুদের জন্য), ৬২.৫ মিলিগ্রামের কম (৭-৯ বছরের শিশুদের জন্য), ৮৫ মিলিগ্রামের কম (১০-১২ বছরের শিশুদের জন্য)। এর কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে চা না খাওয়াই উচিত। তবে ডাক্তাররা বলেন, শিশুর ১২ বছর বয়সের আগে তাকে চা, কফি ইত্যাদি পানীয় না দেওয়াই ভাল।

কেন শিশুর চা খাওয়া উচিত না?

আগেই বলেছি ক্যাফেইন আমাদের স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে। ফলে আপনার সন্তান যদি নিয়ম করে ক্যাফেইনযুক্ত চা খায়, তাহলে তার ঘুমের ক্ষেত্রে গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। ক্যাফেইন মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতাকে কমিয়ে দেয়। ধরুন দীর্ঘদিন ধরে আপনার শিশুর সকালে চা খেয়ে অভ্যেস। হঠাৎ করে সে যদি এরপর কোনওদিন সকালে চা না পায়, তাহলে তার সারাদিন মাথা ধরে থাকবে। তখন সে চা না পেলে বায়না জুড়বে। এই সমস্যা বড়দের ক্ষেত্রেও দেখা যায়।

তাই এমন বদভ্যাসটি তাকে আদৌ করাবেন কিনা, সেটি আগে ভেবে দেখুন। এছাড়া এককাপ চায়ে এমন কিছু পরিপোষক থাকে না, যার ফলে সেটি আপনি আপনার সন্তানকে দেবেন! এর চেয়ে সকালে উঠে কোনও ফলের রস খাওয়ানোর অভ্যেস করতে পারেন। উপকার হবে। চায়ের সঙ্গে-সঙ্গে আমাদের পেটে অনেক চিনিও যায়, যেটা শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর। রোজ-রোজ চায়ে এই চিনি খেলে তা সন্তানের স্থূলত্বের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আর বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ক্যাফেইনের অনেক গুরুতর প্রভাবও শরীরে দেখা যায়। পেটের সমস্যা, বুক জ্বালা ইত্যাদি এর উদাহরণ।

কেমন চা শিশুকে দেবেন?

আপনার শিশুকে চা দিলেও দেখবেন চায়ে যেন বেশি মিষ্টি না থাকে। শিশু চা মূলত মিষ্টির জন্যই বেশিরভাগ সময় খেতে চায়। এই মিষ্টিযুক্ত পানীয় আখেরে তার ক্ষতিই করে। দাঁতের ক্ষয়, ওজন বৃদ্ধি ইত্যাদির কারণ হয় এই চা। চা পাতায় থাকা ক্যাফেইনও শিশুর পক্ষে ক্ষতিকর। তাই তাকে যদি চা দিতেই হয়, সেক্ষেত্রে সম্ভব হলে ডি-ক্যাফেইনেটেড চা বানিয়ে দিন। সেটি সম্ভব না হলে, তাকে যতদূর সম্ভব কম চা পাতা দিয়ে হালকা করে চা বানিয়ে দিন। চা পাতা বেশিক্ষণ জলে ভিজিয়ে রাখবেন না। অল্প চা পাতা এবং বেশি করে দুধও দিতে পারেন, যাতে চায়ের নামমাত্র গন্ধ ও স্বাদ সেখানে থাকে। এছাড়া বিভিন্নরকম হার্বাল চা, গ্রিন টি, আদা চা, চ্যামোমাইল চা ইত্যাদি শিশুর জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি উপকারী। ফলে এগুলি দিতে পারেন।

মনে রাখবেন, আপনার বাচ্চাকে সুস্থ রাখার দায়িত্ব আপনারই। ফলে অযথা চা বা কফি খাওয়ার অভ্যেসটি তাকে না করানোই ভাল। আপনাকে চা খেতে দেখলে সে যদি বায়না করে, তাহলে তার আড়ালে চা খান। শিশুকে ভাল করে বোঝান যে চা একান্তভাবেই বড়দের জন্য। সে বড় হলে সেও চা খাবে।