শিশুকে সত্যবাদিতার পাঠ কীভাবে দেবেন?

parent reading to children
ID 107268267 © Paulus Rusyanto | Dreamstime.com

সদা সত্য কথা বলতে হবে। সত্য বলার কোন বিকল্প হতে পারে না। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) একজন সত্যবাদী মানুষ ছিলেন। তাঁকে আল আমিন উপাধী দেওয়া হয়।

সবাই চান তার সন্তানকে সুসন্তান হিসেবে গড়ে তুলতে। এজন্য ছোট বেলা থেকেই শিশুকে আদব কায়দার সঙ্গে সদা সত্য কথা বলার শিক্ষা দিতে হবে। ভালো কাজের তাগিদ দিতে হবে। সন্তান শিশুকাল থেকে বাবা মার কাছে নৈতিক শিক্ষাটা পেয়ে থাকে। এজন্য বাচ্চাদের সত্য কথা বলার আদব শিখাতে হবে। আর এই সবকিছুই শিশু পরিবার থেকে শিক্ষা অর্জন করবে। একজন সুশিক্ষিত মানুষ তার বাচ্চাকে শিশুকাল থেকে মিথ্যা বলার বদ অভ্যাস ত্যাগ করতে বলে। মিথ্যা বলা মহাপাপ। ছোটবেলা থেকে সত্য বলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

মিথ্যাবাদীর চরম পরিণতির কথা আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন। মিথ্যাবাদী তার পাপের ফল দুনিয়া এবং আখিরাতে পেয়ে থাকে। সত্যবাদী হতে হলে অন্তরে, কর্মে এবং কথায় সমভাবে সত্যতা অবলম্বন করতে হবে। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বলেছেন,‘স্মরণে রেখ, সত্যবাদিতা রক্ষা করো এবং মিথ্যাবাদিতার ধ্বংস সাধন করো।’ একজন মিথ্যাবাদীকে কেউ পছন্দ করেনা। সত্যবাদিতার পুরস্কার আল্লাহ তায়ালা নিজেই ঘোষণা করেছেন। জান্নাতে সত্যবাদীদের আল্লাহ তায়ালা সিদ্দিক বলে সম্বোধন করবেন। আমাদের প্রিয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ছিলেন সত্যবাদিতার বিমূর্ত প্রতীক। আল্লাহ তায়ালা এবং নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম আমাদের সত্য বলতে নির্দেশ দিয়েছেন।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জন্মের পর থেকে তাঁর শৈশব-কৈশোর, যৌবন কিংবা বার্ধক্যে কোনোদিন কখনো কোনো মিথ্যা কথা বলেননি। বরং চরম বিপদের সময়ও তিনি সর্বদা সত্য কথা বলতেন। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সত্যবাদিতার বিষয় এতই সুপ্রসিদ্ধ যে, জাহিলিয়াতের যুগে মানুষ একে অন্যকে যেখানে সামান্যতমও বিশ্বাস করত না সেখানে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ‘আল-আমীন’, ‘আস-সাদিক’ উপাধিতে ভূষিত হযে়ছিলেন।

শিশুকে ছোটবেলা থেকে এই কথা বলে গড়ে তুলুন যে,  একজন সত্যবাদী মানুষকে সবাই পছন্দ করে। সে সবার কাছেই গ্রহণযোগ্য হয়। তাকে সময়-অসময়ে  মনে করিয়ে দিন,
১. সত্যবাদী ব্যক্তি তার সাথীদের আস্থাভাজন হয়ে থাকে এবং তার প্রতিটি বাক্যই তাদেরকে তৃপ্তি দান করে।

২. সত্যবাদী ব্যক্তি তার বিবেকের সামনে পরিষ্কার এবং মিথ্যার অশান্তি থেকে মুক্ত।

৩. সত্যবাদী তার ওয়াদা পালন করে থাকে এবং আমানতের খেয়ানত করে না।

৪. সত্যবাদিতার ফলে চারিত্রিক দোষসমূহ ও আইন লঙ্ঘনের একটি বিরাট অংশ নিজে নিজেই দূরীভূত হয়ে যায়। কেন না, অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানুষ এসব খারাপ কাজ ও আচরণ ঢাকার জন্য মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে থাকে।

একজন সন্তানকে শিশুকাল থেকেই জীবনমুখী, বাস্তবধর্মী, সময়োপযোগী ও বিজ্ঞানসম্মত শিক্ষার পাশাপাশি পারিবারিক শিক্ষা দিয়ে এই পৃথিবীর উপযোগী করে তুলতে হবে। পারিবারিক শিক্ষা ব্যতীত আদর্শ সন্তান গড়ে তোলা সম্ভব নয়। কেন না মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মানব সন্তানকে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন এবং সাথে একটি পরিপূর্ণ জীবন বিধান দিয়েছেন যাতে করে সন্তানকে আদর্শিক ও প্রকৃত অর্থে মানবীয় গুণাবলি সম্পন্ন পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা যায়। সত্যবাদী করে তোলা যায়।

ধর্মীয় ও পারিবারিক শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে শিশুদের জন্য প্রথম ও উপযোগী সোপান হলো নিজের পরিবার-পরিজন এবং তার পরিবেশ। বাড়ির কনিষ্ঠ সদস্যদের শৈশব থেকেই সুন্দর ও ছোট ইসলামি গল্প শুনাতে হবে। যেখানে থাকবে শিশুদের জন্য শিক্ষণীয় বিষয়। শিশুদের কখনো আজগুবি, অবান্তর ও মিথ্যা কথা দিয়ে রচিত গল্প শুনানো উচিত নয়। একজন শিশুর খাবার যেমন বয়স অনুপাতে দিতে হয় ঠিক তেমনি করে শিক্ষা দানের ব্যাপারেও ধীরে ধীরে তার আগ্রহ ও ধারণক্ষমতা অনুযায়ী দিতে হবে। শিশুকাল থেকে শিশুকে ধর্মের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির মাধ্যমে ধর্মীয় শিক্ষার সূচনাপূর্বক ধাপে ধাপে তাকে এমন একটি স্তরে পৌঁছে দিতে হবে। তাহলে আর শৈশব-কৈশোর পেরিয়ে নৈতিকতাবিহীন অন্ধকার গলিপথে পা বাড়াবে না এবং একজন আদর্শ সন্তান হিসেবে দেশ ও জাতির কল্যাণ বয়ে আনবে।