SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

শিশুদেরকে প্রকৃতিপ্রেমী করে তোলার উপায়

প্রকৃতি ১৭ জানু. ২০২১
ফোকাস
প্রকৃতিপ্রেমী
© Marysmn | Dreamstime.com

প্রকৃতির সাথে যুক্ত হয়ে আল্লাহর কুদরতের নিদর্শন প্রত্যক্ষ করা ঈমান বৃদ্ধির একটি অন্যতম মাধ্যম। মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ হ্রাস করারও অন্যতম একটি সেরা উপায় এটি। বয়স্ক এবং শিশু উভয়ের জন্যই এটি প্রযোজ্য। প্রকৃতিপ্রেমী শিশু ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল হয়।

আল্লাহ তা’আলাও পবিত্র কুরআনে বিষয়টি এভাবে তুলে ধরেছেন,

“নিশ্চয় রাত ও দিনের আবর্তনে এবং আসমানসমূহ ও যমীনে যা কিছু আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন, সেগুলির মাঝে বহু নিদর্শন রয়েছে এমন সম্প্রদায়ের জন্য, যারা তাকওয়া অবলম্বন করে।” (আল কুরআন-১০:৬)

সুতরাং, প্রকৃতির সাথে ঈমানের একটি নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।

তাহলে আমাদের সন্তানদেরকে আমরা কিভাবে প্রকৃতির সাথে যুক্ত করব? এ সম্পর্কে কয়েকটি পরামর্শ নিম্নে উল্লেখ করা হলঃ

১) প্রকৃতিপ্রেমী হতে কৃষিফার্ম বা খামারে ভ্রমণ

আমরা অধিকাংশ মানুষই সেই স্থান থেকে দূরে সরে গেছি যেখানে আমাদের খাদ্য উৎপাদন হয়। আমাদের খাদ্যদ্রব্য প্রায়শই আমাদের নিকটে পৌঁছাতে হাজার হাজার মাইল ভ্রমণ করে। শিশুরা যেহেতু শুধু বাহ্যিকের উপরই কল্পনা করে থাকে, তাই তারা শস্যের উৎপাদন না দেখলে এটি খুব স্বাভাবিক যে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা মনে করবে, তাদের খাবার কোনো দোকান থেকে আসছে। তারা প্রকৃতিপ্রেমী হয়ে উঠবে না।

শিশুরা যদি ফসলের বৃদ্ধি এবং গরু চারণ না দেখে তবে খাদ্য যে কতটা অলৌকিকভাবে উৎপাদন হয় তা তারা বুঝতে পারবে না। এ সকল অলৌকিকতা যে আল্লাহর কত বড় নিদর্শন তা উল্লেখপূর্বক আল্লাহ বলেন,

“তুমি কি দেখ না আল্লাহ আকাশ হতে বৃষ্টি বর্ষণ করেন আর তা ঝর্ণা ধারায় যমীনে প্রবাহিত করেন, অতঃপর তা দিয়ে বিচিত্র রঙের ফসল উৎপন্ন করেন, অতঃপর তা শুকিয়ে যায়, তখন তোমরা তা হলুদ বর্ণ দেখ, শেষ পর্যন্ত তিনি ওগুলোকে খড়-ভুষিতে পরিণত করেন। এতে জ্ঞান-বুদ্ধিসম্পন্ন লোকেদের জন্য অবশ্যই নসীহত আছে।” (আল কুরআন-৩৯.২১)

সুতরাং, শিশুরা কিভাবে আল্লাহর অস্তিত্বের এই চিহ্নগুলির সন্ধান পাবে যদি তারা ফল-ফসলের বৃদ্ধি এবং খাদ্য উত্পাদন প্রত্যক্ষ না করে থাকে?

২) ভাগাড়ের আশপাশ দিয়ে গমন করান প্রকৃতিপ্রেমী শিশুকে

আমাদের বেশিরভাগ মানুষের অবস্থাই এরকম যে, কোনো অপ্রয়োজনীয় জিনিস কোথায় যায় বা এগুলি দিয়ে কি হয় তা না ভেবেই সেগুলি ডাস্টবিনে ফেলে দিই। শিশুদের অবস্থাও এরূপ। তাই তাদেরকে কোনো ভাগাড় বা ময়লার স্তুপের আশপাশ দিয়ে নিয়ে যান এবং তাদের ফেলা আবর্জনা কোথায় যায় তা তাদেরকে দেখান। প্রকৃতিপ্রেমী হওয়ার পাশাপাশি প্রকৃতি রক্ষণাবেক্ষণের গুরুত্ব বুঝিয়ে দিন তাদের।

নগরীর সকল ভাগাড়ের সংখ্যা এবং আবর্জনার পরিমাণ নিয়ে তাদেরকে একটু ধারণা দিন। বর্জ্যের পরিমাণ দেখে তারা হতবাক হয়ে যেতে পারে। তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিন, আল্লাহ আমাদেরকে বলেছেন,

“তোমরা খাও, পান করো; তবে অপব্যয় করো না। কারণ আল্লাহ অপব্যয়কারীদেরকে পছন্দ করেন না।” (আল কুরআন-৭:৩১)

৩) প্রকৃতিপ্রেমী শিশু ও বৃক্ষরোপণ

বাড়িতে ফুলের বাগান রোপন করুন। বাড়ির আশেপাশের পরিত্যাক্ত জমিতে বা অন্তত বাড়ির ছাদে শাকসবজি লাগান। মাটি খনন ও বৃক্ষরোপণের চেয়ে আর কোনো কিছুর মাধ্যমে প্রকৃতির সাথে এতটা মিশে যাওয়া যায় না। তাই শিশুদের মাঝেও বৃক্ষ ও ফুল-ফলের ভালোবাসা সৃষ্টি করুন। তাদেরকে সাথে নিয়ে একটি ঘরোয়া কৃষি গড়ে তুলুন।

শিশুদের শিক্ষা দিন যে, এই বৃক্ষের জীবন-মৃত্যুও আল্লাহর হাতে। তিনিই এগুলির জীবন ও মৃত্যু দান করেন।

৪) জৈবসার উৎপাদন

আল্লাহ যে জীবন-চক্র তৈরি করেছেন তা সরাসরি প্রত্যক্ষ করার একটি সহজ উপায় হল জৈবসার উৎপাদন। এর মাধ্যমে শিশুরা বর্জ্যকে কাজে লাগানোর একটি ব্যবহারিক উপায় শিখতে পারে। এবং এর পাশাপাশি তাদের অপচয়ের প্রবণতাটাও অনেকাংশে কমে যায়।

৫) প্রকৃতির মাঝে হেটে বেড়ানো

প্রাকৃতিক কোনো পরিবেশে আপনার সন্তানদেরকে নিয়ে বেড়াতে যান, এবং নিবিড়ভাবে পরিবেশটিকে পর্যবেক্ষণ করুন। এরপর প্রকৃতির মাঝে আল্লাহর সৃষ্টির অলৌকিকতা ও সৌন্দর্যকে উপভোগ করুন।

৬) তারকার ঝলকানি পর্যবেক্ষণ

শহরের উজ্জ্বল আলোতে রাতের আকাশ খুব কমই দেখা যায়। আপনার সন্তানদের নিয়ে শহরের বাইরে কোনো গ্রামীণ পরিবেশে ভ্রমণ করুন এবং রাতের বেলা আকাশের তারকার ঝলকানি উপভোগ করুন। বেশিরভাগ শিশুরাই তারকার ঝলকানি দেখতে আগ্রহী এবং বহু দূরে এরূপ ঝলকানি দেখে তারা মুগ্ধ হয়। নক্ষত্রগুলিকে আল্লাহ কিভাবে তৈরী করেছেন এবং সেগুলির প্রকৃত অবস্থান কতদূরে তা নিয়ে আলোচনা করে আল্লাহর সৃষ্টির বিশালতা সম্পর্কে তাদেরকে ধারণা দিন।

৭) আবহাওয়ার অভিজ্ঞতা

বৃষ্টি, তুষার বা বাতাসকে অনুভব করতে অথবা জানালা দিয়ে বজ্রপাত দেখতে আপনার সন্তানদেরকে নিয়ে বাইরে যান। এরপর তাদেরকে এই মুহুর্তের মাসনূন দু’আগুলি শিক্ষা দিন যেগুলি রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম মেঘ বা ঝড়ো বাতাস দেখলে পাঠ করতেন। মেঘ থেকে বজ্র ও বারিপাত যে আল্লাহর অপার কুদরতেরই একটি নিদর্শন তা তাদেরকে বুঝিয়ে বলুন।

তাদেরকে পাঠ করে শোনান যে, আল্লাহ বলেন,

“তিনিই তোমাদেরকে ভীতি ও আশা সঞ্চারক বজ্রপাতকে দেখান। তিনিই উত্তোলিত করেন মেঘ, (প্রবৃদ্ধির) বৃষ্টিতে ভারাক্রান্ত।” (আল কুরআন-১৩:১২)

৮) বাইরে ক্যাম্পিং

বাড়ির বাইরে পশু-পাখীদের মধ্যে অবস্থান করা আপনার সন্তানদেরকে প্রকৃতির প্রকৃত উপলব্ধি প্রদান করবে। প্রকৃতির মাঝে রান্না করা, ঘুমানো প্রভৃতি আপনার সন্তাদেরকে প্রযুক্তির একঘেয়ামী এবং দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্তময় সময়সূচীর বাইরে এসে আল্লাহ এবং তাঁর সৃষ্টিররহস্য উপলব্ধি করতে সাহায্য করবে। প্রকৃতিপ্রেমী হয়ে উঠতে সাহাযয করবে।

তাদেরকে এই আয়াতটি স্মরণ করিয়ে দিন,

“অতএব আল্লাহর রহমাতের ফল দেখে নাও, কীভাবে তিনি ভূমিকে তার মৃত্যুর পর জীবিত করেন। এভাবেই নিশ্চয় তিনি মৃতকে জীবিত করবেন, কেননা সব কিছুর উপর তিনি সর্বশক্তিমান।” (আল কুরআন-৩০:৫০)

শিশুদের সৃজনশীলতা বাড়াতে প্রকৃতির মাঝে তারা আল্লাহর কি কি নিদর্শন দেখতে পাচ্ছে সেগুলি নিয়ে তাদেরকে প্রশ্ন করুন। এতে তাদের কৌতুহল ও জানার পরিধি আরও বৃদ্ধি পাবে।