শিশুদের মেসেঞ্জার বাংলাদেশসহ ৭০ দেশে চালু

Muslim family drawing
Muslim families, kindergarden

এই করোনা পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে আমাদের বর্তমান অবস্থান ও আগামী  দিনগুলি হয়ে উঠবে আরও দুর্বিসহ  এই মহামারী  কাটাতে গেলে একতাবদ্ধ ভাবে স্বাস্থ্য সম্মত জীবনযাপন  করতে হবে।বছরের বেশির ভাগ দিনগুলো হয়তো ঘরেই কাটাতে হবে ,পরিকল্পনাটাও আমাদের  সেভাবে  করতে হবে।আজ দুনিয়াতে আপনজনের মৃতদেহটাকেও কেউ দেখতে পাচ্ছে না । মানুষের প্রতিটি জিনিস যা জীবনধারণের জন্য দরকার সেগুলিকে নতুনভাবে ব্যবহার শুরু করতে হবে। অফিসের  কাজ যেমন বাড়িতে বসে করতে শুরু করেছে চাকুরীজীবীরা তেমননি শিশু যারা তারাও আর বাড়িতে থেকে বাইরে খেলতে যেতে পারছেনা।

কিন্তু জীবন তো একঘেয়ে হয়ে উঠতে পারেনা তাই এর বিকল্পও পেয়ে গেছি আমরা । বাড়িতে বসে পড়াশোনা শুরু করেছে তারা অনলাইনে তেমনি বন্ধদের সাথে গল্প ও চলছে মেসেঞ্জারে। অনলাইন ব্যবস্থাই এইসময়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শিশুরা তার ২৪ ঘন্টার মধ্যে বেশিরভাগ সময় স্কুল ও বন্ধুদের সাথে কাটিয়ে থাকে। কিন্তু বাড়িতে একটানা থাকা তাদের মানসিক অবসাদ এর কারন হয়ে উঠছে। তাই পড়াশোনার বাইরে অবসর সময়ে শিশুরা তাদের সহপাঠী বা বন্ধুদের সঙ্গে বার্তা বিনিময়ের সুযোগ দিতেই বাংলাদেশ সহ 70 টা দেশে নিজেদের ম্যাসেঞ্জার কিডস সেবার পরিধি বৃদ্ধি করেছে ফেসবুক।2017 সালে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী 13 বছরের কমবয়সী শিশুদের জন্য প্রথম চালু হয় এই কিডস ম্যাসেঞ্জার। ম্যাসেঞ্জার এর শিশুতোষ সংস্করণটিতে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল ফিচার থাকায় সন্তানরা কোনো কোনো বন্ধুর সাথে বার্তা বা ছবি বিনিময় করতে পারবে,তা অভিভাবক নিয়ন্ত্রণ ও করতে পারবে।এমনকি “সুপারভাইজড ফ্রেন্ডিং “ফিচার কাজে লাগিয়ে অন্য বন্ধুদের পাঠানো বন্ধুত্বের আবেদন গ্রহন অথবা প্রত্যাখ্যান করতে পারবে। ফলে শিশুরা নিরাপদে অনলাইন এ বার্তালাপ ও ছবি বিনিময় করতে পারবে।

এই টেকনোলজির উন্নতির দিনে, দিনগুলো  আমাদের  কাছে বিরক্তির হচ্ছেনা, বরং আরো অনেক বেশি উপভোগ্য হচ্ছে। মানুষ দিনগুলো  করে তুলতে চাইছে আরও রঙিন, কিন্তু  সেটা বাইরে  গিয়ে  সম্ভব না তাই বিকল্প হিসাবে  ঘরেই তৈরি করে ফেলছে নিজের ভালোলাগার পরিবেশ ভার্চুয়ালি । এটা তো নতুন না,পাশ্চাত্য  দেশগুলির এই সমস্ত অ্যাপ এর সাথে অনেক দিন আগে থেকেই আমরা অভ্যস্ত  ।বাংলাদেশেও চালু হলো শিশুদের  ম্যাসেঞ্জার ।শুধু যে তারা কথা বলে মজা পাবে এমনতো না তারা তাদের ঘরে কাটানো পরিবারের  সাথে ভাগ করে  নিয়েই আনন্দ  পাবে।কথায়  বলে আনন্দ  ভাগ করলে বাড়ে দুঃখ কমে।আমরা পৃথিবীর  এত দুঃখের  দিনেও প্রত্যেকে নিজের মতো করে ভালো থাকার ও ভালো রাখার শপথ নিয়েছি তাই  বন্ধু সাথে ভাগ করে নিতে সদা তৎপর  সেটা সেলফি হোক বা ছবি এমনকি মজার ভিডিও শেয়ার করতে পারে এই ম্যাসেঞ্জারে।আমাদের জীবনে দরকারি তথ্য  বিনিময়  করতেও পারে এই অ্যাপে।শিশুদের  মনকে ঘরে রাখা আরও বেশি চাপের বাবা মা দের কাছে।তাদের মন ছুটে বেড়াতে চায় খোলা মাঠে,চঞ্চলতা তাদের প্রবৃত্তি ।এদের আটকে রাখতে টেকনোলজির দারস্থ  হতে হয়েছে  সবাইকে ম্যাসেঞ্জারে তাদের দিনের অনেকটা সময় কেটে যাচ্ছে ।

কিন্তু  তাদের সুরক্ষার ব্যাপারটিও জরুরি  এবং এই অ্যাপ শিশুদের কাছে নিরাপদ।শিশুদের কথা বলার অভ্যাস ও নানান কিছু শেখা খুব তাড়াতাড়ি ঘটবে, তাদের ব্রেন ও আগের থেকে অনেক বেশি ডেভোলোপ করবে।অনেক শিশুই থাকে যাদের মধ্যে নানারকমের  প্রতিভা আছে,কিন্তু বাবা মা সঠিকভাবে তা বুঝতে না পারায় তা সুপ্ত ই থেকে যায়।কিন্তু এই অ্যাপ থেকে তাদের সেই প্রতিভার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে।এতে অনেক শিশুর আগামীও হয়তো তৈরী হয়ে যাবে।সবমিলিয়ে শিশুদের জীবনে এই অ্যপটা একটা সুন্দর সম্ভাবনা।