SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

শিশুদের সম্পর্কে ইসলাম কী বলে? ইসলাম শিশুদের অধিকার রক্ষার নিশ্চয়তা দেয়

শিশু ১০ সেপ্টে. ২০২০
dreamstime_s_180935964
180935964 © Odua | Dreamstime.com

ইসলাম এমন একটি ধর্ম একমাত্র যেটিই মানবজাতির সকল শ্রেনীর জন্য ন্যায্য অধিকারের নিশ্চয়তা দিয়েছে। শিশুকাল মানব জীবনের প্রথম ধাপ। এ সময়টি প্রত্যেক মানুষের জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই সময় তাদেরকে যেভাবে গড়ে তোলা হবে, তার গোটা জীবন সেদিকেই ধাবিত হবে। আজকের শিশুই আগামী দিনের ভবিষ্যত। শুধু দুনিয়ার জীবনেই নয়, সন্তানদের উত্তম শিক্ষা দিয়ে মৃত্যুর পরও তার প্রতিফল পাওয়া যাবে। এ কারণে প্রত্যেক মানুষেরই উচিত তাদের সন্তানকে সুষ্ঠুভাবে গড়ে তোলার জন্য তাদের অধিকারগুলো সংরক্ষণ করা।

আদর্শ ও দ্বীনদার

একটি সুন্দর ও সভ্য সমাজ বিনির্মাণের জন্য সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে সমাজের শিশুদের দ্বীনদার ও আদর্শবান রূপে গড়ে তোলা। আর এটি তখনই সম্ভব হবে যখন তাদের অধিকারগুলো যথাযথভাবে আদায় করা হবে। আর এ কারণেই শিশুদের অধিকার রক্ষার বিষয়টিকে ইসলাম খুবই গুরুত্ব দিয়েছে এবং এ সম্পর্কে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা প্রদান করে সেগুলি সমাজে প্রতিষ্ঠার জন্যও জোর তাগিদ দিয়েছে।

শিশুর কিছু অধিকার তো শুরু হয় তার জন্মের পূর্ব থেকেই। এর মধ্যে সর্বপ্রথম হলো উত্তম স্ত্রী নির্বাচন করা। কারণ শিশুর ওপর তার মায়ের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে। ফলে সন্তানকে একটি সুন্দর ও সফল জীবন উপহার দিতে চাইলে তার প্রস্তুতি শুরু করতে হবে বিয়ের আগ থেকেই। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “চারটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে মেয়েদেরকে বিবাহ করা হয়—তার সম্পদ, তার বংশমর্যাদা, তার সৌন্দর্য্য এবং তার দ্বীনদারি। সুতরাং, তোমরা দ্বীনদারিকেই প্রাধান্য দেবে, নতুবা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।” (বুখারি)

স্ত্রী যদি দ্বীনদার না হয়, তবে তার প্রভাব সন্তানের উপরও পড়বে। আর আল্লাহ না করুন, সে যদি ব্যভিচারিণী হয়, তাহলে তো তার প্রভাব গোটা বংশের প্রদীপেই পড়বে। বংশপরম্পরার পবিত্রতাই তার মাধ্যমে নষ্ট হয়ে যাবে। তাই উত্তম সন্তানের আশা করলে উত্তম স্ত্রী নির্বাচনে সদা সতর্ক থাকতে হবে। 

শয়তানের প্রভাব থেকে মুক্ত রাখা

অনাগত সন্তান যেন শয়তানের প্রভাব থেকেও মুক্ত থাকে সেদিকেও পিতামাতেকে সদা সতর্ক থাকতে হবে। এজন্য স্বামী-স্ত্রী সুলভ আচরণে সর্বদা ইসলামী দিকনির্দেশনা গুলোকে মেনে চলতে হবে।

গর্ভকালীন সন্তানের যত্ন নেওয়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সন্তান গর্ভে ধারণ থেকে শুরু করে সন্তান পৃথিবীর আলোর মুখ দেখা পর্যন্ত একজন মাকে বিভিন্ন শারীরিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তাই এ সময় মায়ের যত্নের কোনো বিকল্প নেই। এ সময় তার মানসিক সুস্থতার প্রতিও পরিবারের অন্যদের যত্নবান হতে হবে। আল্লাহ তা’আলা বলেন, “…তারা যদি গর্ভবতী হয়ে থাকে, তবে সন্তান প্রসব না করা পর্যন্ত তাদের ব্যয়ভার বহন করো…” (আল কুরআন-৬৫:৬)

একবার শিশু গর্ভে চলে আসলে, তার জীবনের অধিকারও ইসলাম দিয়েছে। কুরআন এটিকে খুব স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, প্রতিটা জীবনই পবিত্র। গর্ভাবস্থা নষ্ট করা ইসলামের দৃষ্টিতে কখনই অনুমোদিত নয় কারণ এটি একটি শিশুর জীবনকে নষ্ট করে দেয়।

এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, “…দারিদ্র্যতার কারণে নিজের সন্তানদেরকে হত্যা করো না; কারণ তোমাদের ও তাদের জন্য জীবিকা আমিই নির্ধারণ করি।” (আল কুরআন-৬:১৫১)

সুতরাং, আল্লাহ মানুষকে এই অধিকার দেয় নি যে, সে নিজের গর্ভপাত করাবে। কারণ, জীবন দেওয়া ও জীবন নেওয়ার অধিকার একমাত্র আলাহ তা’আলার।

কুরআন হাদীসের শিক্ষা

কুরআন ও হাদিসের শিক্ষা শিশুদের অধিকার প্রতিষ্টার ব্যাপারে খুবই পরিষ্কার। সন্তানকে সুষ্ঠুভাবে প্রতিপালন করা প্রতিটা মুসলমানের উপর ফরজ। সন্তানকে ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত করা, তার চারিত্রিক উন্নতি ঘটানো, তাকে মানবতার শিক্ষা দেওয়া এগুলি এমন দায়িত্ব যা কোনো মুমিন মুসলমানই এড়িয়ে যেতে পারে না। পরিবার ও সন্তানের উপর দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আল্লাহ তা’আলা বলেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবারবর্গকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাচাও; যার জ্বালানী হবে মানুষ ও পাথর। যার উপর নিযুক্ত থাকবে কঠোর ফেরেশতারা…” (আল কুরআন ৬৬:৬)

রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামও এ দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন, “তোমাদের প্রত্যেকেই রাখাল এবং তোমাদের পালের জন্য তোমরা দায়ী। একজন শাসক তার প্রজাদের রাখাল এবং সে তাদের জন্য দায়ী। একজন পুরুষ তার পরিবারের রাখাল এবং সে তাদের জন্য দায়ী। একজন মহিলা তার স্বামীর বাড়ির রাখাল এবং সে ঐ বাড়ির জন্য দায়ী।”

সুতরাং, পিতামাতা তাদের সন্তানদের অধিকার সংরক্ষণে পুরোপুরি দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং এ দায়িত্বে অবহেলা করলে তারা কঠিন গুনাহগার হবেন। এভাবেই ইসলাম শিশুদের অধিকার সংরক্ষরণের ব্যাপারে গুরুত্ব দিয়েছে।