শিশুরও কিন্তু মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে

michal-parzuchowski-BNvk1zqEAjc-unsplash
Fotoğraf: Michal Parzuchowski-Unspalsh

আমাদের সমাজে প্রত্যেক শিশুর একটি অভিযোগ থাকেই তার কথা কেউ গুরুত্ব দিচ্ছে না। বাবা-মা বাচ্চার অপরিণত কথাগুলোকে বেশিরভাগ সময়ই গুরুত্ব দেন না যেগুলি অনেক ক্ষেত্রে তার মনে প্রভাব ফেলে,সে নিজেকেও ছোটো ভাবে। আপনাদের কাছে আমি দুটো গল্প তুলে ধরব যা সব বাচ্চাদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। রাহুল পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ে, সে প্রতিদিন স্কুল থেকে ফিরে মাঠে ক্রিকেট খেলতে যায়। বাড়ির লোক জানে রাহুল ক্রিকেট  খেলতে ভালোবাসে কিন্তু তার মা সেটা বন্ধ করে দিয়েছে তাকে ভর্তি করে দিয়েছে আঁকার স্কুলে। সে প্রতিদিন বাধ্য হয়ে আঁকার স্কুলে গেলেও তার মন পড়ে থাকে ঐ খেলার মাঠে, আঁকার রং তুলি তার ভালো লাগেনা সে তার বাড়ির লোককে জানিয়েছে কিন্তু তাকে বলেছে সে ছোটো তাই তাকে ছোটোর মতো থাকতে।

দ্বিতীয় গল্পটি নাতাসার গল্প, চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। নাতাসা ভালোবাসে গান করতে তাই পড়ার পর বাড়তি সময়টাতে সে গান করতো কিন্তু তার বাবা মা সেটা বন্ধ করে দিয়েছে। পড়াশোনার পিছনে সময় বাড়াতে তার অন্য অ্যাডমিশনের সময় এসে গেছে। তাই তার গান বন্ধ বাড়তি সময়ে। তাই সে ভেবে নিয়েছে পরিবারের লোকের কাছে তার ইচ্ছার কোনো মূল্য নেই। এখন শুধু সে চুপচাপ থাকে। গল্প দুটি কাল্পনিক হলেও এটাই সমাজের আসল চিত্র। একবিংশ শতাব্দীতে বিজ্ঞানীরা বলছে শিশু ,নারী ,পুরুষ,বৃদ্ধ সবাইকে মত প্রকাশের স্বাধীনতা দেওয়া হোক। এই আইনগুলি যদিও আইনের খাতাতেই  থেকে যায় চিত্রটা আর পাল্টায় না। জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদধারা ১২তে বলেছে মত প্রকাশের অধিকার সব মৌলিক বিষয়গুলিতে দেওয়া হোক। পুরো বিশ্বের ন্যায় আমাদের দেশেও এই অধিকার বাস্তবরুপ দেওয়া হয়েছে। সবার মতো শিশুরও মত প্রকাশের অধিকার আছে কিন্তু আদতে বাচ্চার শখ বলতে যেটা বোঝায় বাবা মা যা চায়। শিশু মনকে পাত্তা দেয় না  বাবা মা।  তাদের নিজেদের  চাওয়া পাওয়া গুলো চাপিয়ে দেয় শিশুদের উপর।

বাড়ির লোকেরা শিশুর শৈশবকে কেড়ে নিচ্ছে। তারা সারাটা দিনের সব মূহুর্তগুলোকে রুটিন ভাগ করে দেয় তার বাবা-মায়ের প্রভাব পড়ে শিশুর মনে। সে নিজেকে অপ্রয়োজনীয় ভেবে নিজেকে গুটিয়ে নেয় সব কিছু থেকে। নিজের কাজগুলোর প্রতি গুরত্বটাও সে বুঝতে পারেনা। ছোট থেকে বাচ্চাদের কাজগুলো করে দেয় তার বাবা-মা। কিন্তু নিজের কাজ নিজে না করার ফলে বেশ কিছু ক্ষেত্রেই তারা অপরিনত থেকে যায়। বাচ্চাকে দায়িত্ব নিতে দেয়নি কথা বলার অধিকারটুকু দেয়নি বাবা-মা, ফলস্বরুপ তারাই এই ঘটনার জন্য দায়ী। যদি আমরা ছোটো ছোটো দায়িত্ব দিই বাচ্চাকে, তার চরিত্র প্রথম থেকেই সুগঠিত হবে। ধরুন ওর নিজের স্কুলের ব্যাগটা আপনি ওকে নিজেকে গুছোতে বললেন, এর ফলে ওর মধ্যে যেমন দায়িত্ব নেবার মানসিকতা তৈরি হলো তেমনি ওর বিশ্বাস বাড়লো যে আপনি ওকে ভরসা করেন। এর ফলে ও যেমন ভবিষ্যতে দায়িত্ব নিতে শিখবে, অনেক কিছু বিষয় নিয়ে ওয়াকিবহালও থাকবে। প্রত্যেক বাবা-মাকে বোঝাতে হবে তার কথা গুলো তারা কেন শুনছেনা, শুধু’ না’ বলে দিলে হবেনা। তাকে বোঝান তার বয়স বয়স ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কে অবহিত করুন। সে ছোটো এইটুকতেই কথা শেষ হয়ে যেতে পারেনা, তার মতামত গুলো পর্যালোচনা করুন। সমাজে শিশুরও কিছু দায়িত্ব  থাকে, তাকে সমাজে মিশতে দিন।

সমাজ থেকে শিক্ষা গুলো সে নিক ,অভিজ্ঞতা  হলে তার বিশ্লেষণি ক্ষমতা আসবে। সেও অযথা আপনাদের ওপর রাগ করবেনা। সে নিজের ভালো মন্দ বুঝতে পারবে একটুআধটু। কাউকে অযাচিত সমস্যায় ফেলবে না। শিশুদের বায়না অনেক সময় আপনাদের বিরক্তির কারণ হয় কিন্তু আপনি তাকে কিছু বলতেও দেননি বুঝতেও দেননি ছোটো বলে চুপ করিয়ে দিয়েছেন বারবার। ছোটো ছোটো ব্যাপারে  আপনি মতামত চান তার থেকে এতে সে তার গুরুত্বটা পরিবারে বুঝতে পারবে। ছোটো থেকে এগুলো একটুু বুঝতে শিখলে বড়ো হবার সাথে সাথে পরিণত কাজ করবে সে আপনাদের সাথে অযথা ঝামেলায় জড়াবেনা। শিশুকে তার অধিকার ব্যক্ত করতে দিন।