শিশুর আগ্রাসী আচরণ কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন?

ID 31369531 © Palinchak | Dreamstime.com

আপনার শিশু যদি আবেগকে যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে না জানে তবে তার রাগ খুব দ্রুতই আগ্রাসন, অবজ্ঞা ও বদমেজাজে পরিণত হবে। এ কারণে বিভিন্ন উপায়ে বাচ্চাদের রাগ নিয়ন্ত্রণের শিক্ষা দেওয়া উচিত যাতে তারা রাগ সংবরণ করে আগ্রাসী আচরণ রোধ করতে পারে।

রাগ একটি সুস্থ, স্বাভাবিক অনুভূতি কিন্তু রাগ সংবরণ করার উপযুক্ত দক্ষতার অভাবে শিশুর কিছু আচরণ আপনার কাছে আগ্রাসী মনে হতে পারে। তাই শিশুর এই আচরণ নিয়ন্ত্রণে আপনাকে কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। এটি সময়সাপেক্ষ হতে পারে। তবে আপনাকে মনে রাখতে হবে যে, আপনি আপনার শিশুর বিশেষ কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করতে চাচ্ছেন। তাই আপনাকে এই কাজে লেগে থাকতে হবে; হাল ছেড়ে দিলে চলবে না। আপনার শিশুকে রাগ-নিয়ন্ত্রণ দক্ষতা শেখাবার কিছু উপায় নিয়ে নিম্নে আলোচনা করা হলঃ

অনুভূতি ও আচরনের মধ্যে পৃথকীকরণ

শিশুরা রাগের অনুভূতি ও আগ্রাসী আচরণের তফাত বুঝতে পারে না। শিশুকে তার অনুভূতি প্রকাশ করা শেখাতে হবে যাতে সে তার রাগ,হতাশা এবং ব্যর্থতার কথা আপনাকে বলতে পারে। তাকে এটা বোঝাতে হবে যে, রাগ হওয়া স্বাভাবিক কিন্তু রাগ করে কাউকে কখনই আঘাত করবে না। তাকে সাহায্য করতে হবে যাতে সে রেগে গেলেও নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে। কোনোকোনো সময়, বিভিন্ন অস্বস্তিকর অনুভূতি যেমন-দুঃখ, বিরক্তি প্রভৃতি থেকে আগ্রাসী আচরণ জন্ম নেয়। তাই আপনার শিশুর সাথে তার আবেগ অনুভূতি নিয়ে কথা বলুন। দেখবেন সে নিজের অনুভূতিগুলোকে ভালোভাবে চিনতে শিখবে।

আদর্শ ও উপযুক্ত রাগ-নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি

আপনার শিশুকে নিজের রাগের সঙ্গে মোকাবিলা করতে শেখাবার সবচেয়ে উত্তম উপায় হল তাকে দেখিয়ে দেওয়া যে, আপনি নিজে রেগে গেলে কিভাবে আপনার অনুভূতিকে নিয়ন্ত্রণ করেন। সে যদি আপনাকে আপনার অনুভূতির সঙ্গে ভদ্র ও বিনীতভাবে দেখে তাহলে সে সেটাই অনুকরণ করবে। তাই রাগের মুহূর্তে আপনার শিশুর সামনে বুঝেশুনে মন্তব্য করুন। অন্যথায় আপনার রেগে যাওয়ার দায় আপনাকেই নিতে হবে।

অনুভূতিকে ভাষায় প্রকাশ করার অভ্যাস

অনেক শিশু আগ্রাসী আচরণ যেমন-লাথি মারা, চিৎকার করা, আঘাত করা ইত্যাদি করে থাকে কারণ তারা অন্য কোনোভাবে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করতে জানে না। এ কারণে তাদের নিজেদের আবেগ নিয়ে তাদের সাথে কথা বলা উচিত যাতে তারা কি অনুভব করে তা আপনি বুঝতে পারেন। আপনি তাকে আগ্রাসী হওয়ার পরিবর্তে নিজের রাগের অনুভূতিকে প্রকাশ করা শেখাতে পারেন।

অ্যাংগার রুলস তৈরি করুন

কিছু কিছু পরিবার আছে যারা দরজা বন্ধ করে চিৎকার করে কথা বলাকে দোষের কিছু মনে করে না, আবার এমনও কিছু পরিবার আছে যাদের এ সকল বিষয়ে সহ্যশক্তি অপেক্ষাকৃত কম। এ কারণে লিখিত একটি পারিবারিক নিয়ম তৈরি করুন যা আপনার পরিবারের রূপরেখার প্রতিফল ঘটাবে। অন্যের প্রতি সম্মানের সাথে আচরণ করাকে ঘিরেই অ্যাংগার রুলস তৈরি করা উচিত। শারীরিক আগ্রাসন বা গালিগালাজ করা ও জিনিসপত্র ভাংচুর করার মত বিষয়গুলি এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, যাতে শিশুরা বুঝতে পারে যে, রেগে গেলেই সে জিনিসপত্র ছুঁড়তে, ভাঙতে অথবা মৌখিক ও শারীরিক আক্রমণ করতে পারবে না।

সুস্থ অনুকরণ কৌশল শেখান

শিশুদের তাদের রাগ নিয়ন্ত্রণ করবার উপযুক্ত উপায় জানা প্রয়োজন। ‘কাউকে মেরো না’ না বলে, হতাশ হলে সে কি করবে সেটি তাকে ব্যাখ্যা করে বলুন। আপনার সন্তানকে শান্ত করার জন্য তাকে কিছুটা সময় দিন। পরিস্থিতি থেকে বের করে আনুন যাতে সে শান্ত হতে পারে। তাকে সমস্যা সমাধানের কৌশল শিখিয়ে দিন যাতে সে বুঝতে পারে যে আগ্রাসী আচর না করেও সে নিজের সমস্যার সমাধান করতে পারে। শান্তিপূর্ণ উপায়ে দ্বন্দ্বের অবসান ঘটানোর পথ তাকে দেখিয়ে দিন।

প্রয়োজনীয় ফলাফল প্রদান করুন

আপনার শিশু অ্যাংগার রুলস মেনে চললে তাকে পসিটিভ ও তা লঙ্ঘন করলে নেগেটিভ ফলাফল প্রদান করুন। পসিটিভ ফলালের স্বরূপ তাকে পুরস্কৃত করা বা ছোটো উপহার দেওয়ার মত বিষয়গুলি শিশুকে তার রাগ নিয়ন্ত্রণের নিয়মাবলি মেনে চলতে উৎসাহিত করবে। অপরদিকে আপনার শিশু আগ্রাসী হওয়া মাত্রই তাকে তাৎক্ষণিক নেগেটিভ ফলাফল প্রদান করুন। কার্যকরী ফলাফল স্বরূপ তাকে কিছু সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা, ক্ষতিপূরণ বাবদ কিছু কাজ করানো, তার কাছ থেকে কোনো খেলনা নিয়ে নেওয়ার মতো বিষয়গুলি এর অন্তর্ভূক্ত হতে পারে।

শিশুরা তাদের রাগ সামলাতে একটু ভোগান্তি পোহাবে এটাই স্বাভাবিক। তবে আপনার সাহায্য ও পরিচালনা তার দক্ষতা বাড়িয়ে দেবে।