শিশুর ওজন বৃদ্ধির উপায়

Baby weight gain

শিশুদের ওজন নিয়ে বাবা-মায়ের চিন্তার কমতি নেই। শিশুর ওজন বাড়াতে খাবার তালিকায় কি রাখবেন? শিশু খাবার খেতে চায় না, দিন দিন রোগা হয়ে যাচ্ছে – শিশুর স্বাস্থ্য নিয়ে এমন অভিযোগ প্রায় সব মায়েদের। মনে রাখতে হবে ওজন বেশি বা কম কোনটাই কাম্য নয়। শিশুর স্বাস্থ্য বেশী হলে যেমন অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় আবার কম হলেও শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। এতেকরে শিশু ধিরেধিরে শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে যায়। আমাদের খেয়াল রাখতে হবে শিশুর বয়সের সাথে সাথে ওজন বাড়ছে কিনা। সেক্ষেত্রে শিশুর খাবারের দিকে বিশেষ লক্ষ্য রাখতে হবে। আজকাল মায়েরা সবথেকে বেশি যে সমস্যার সম্মুখীন হয় তা হচ্ছে শিশু খেতে চায় না। মায়েদের এই সমস্যার সমাধান করে দেবে আজকের এই ফিচার। এমন কিছু খাবার আছে যা শিশুর ওজন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। আসুন জেনে নেওয়া যাক শিশুর ওজন বৃদ্ধির উপায় হিসেবে কোন কোন খাবারগুলো সহায়ক তা নিয়ে বিস্তারিত।

দুধ

শিশুদের ওজন বৃদ্ধিতে দুধ একটি আর্দশ খাবার। এক বছর থেকে শুরু করে বড় বাচ্চাদের গরুর দুধ দিতে পারেন। প্রাকৃতিক প্রোটিন  এবং কার্বোহাইড্রেটের প্রধান উৎস হচ্ছে দুধ। প্রতিদিন শিশুকে দুই গ্লাস দুধ খাওয়ানো শিশুর স্বাস্থের জন্য উপকারী। কিন্তু আজকাল শিশুরা দুধ খেতেই চায় না। তাই দুধকে বিভিন্নভাবে তৈরি করে যেমন সর, ক্রিম ইত্যাদি বিভিন্ন খাবারে যুক্ত করে খাওয়াতে পারেন। মনে রাখতে হবে শিশুর সঠিক বিকাশ ঘটাতে দুধের বিকল্প নেই। তাই শিশুর প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় দুধ অবশ্যই থাকতে হবে।

ডিম

প্রোটিনের উৎস হিসেবে ডিমের কথা আমরা সবাই জানি। প্রতি ১০০ গ্রাম ডিমে প্রায় ১৪ গ্রাম প্রোটিন রয়েছে। আর শিশুর ওজন বৃদ্ধিতে প্রোটিনের ভুমিকা অপরিসীম। তাই শিশুর প্রতিদিনের খাবারে ডিম রাখুন। একটি ডিম প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল, সবকিছুর চাহিদা পূরণ করে থাকে যা শিশুর ওজন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে থাকে। শিশুর বাড়তি শরীরে যেন সঠিক কার্বোহাইড্রেট পৌঁছায় সেদিকে বিশেষ লক্ষ্য রাখতে হবে। আর ডিম কার্বোহাইড্রেটের প্রধান উৎস। তাই শিশুর খাবারের তালিকায় ডিম অপরিহার্য।

মাখন 

মাখন স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের অন্যতম উৎস। বড়দের মাখন খাওয়ায় কিছুটা সাবধান থাকতে হলেও শিশুদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। ওজন বৃদ্ধির জন্য শিশুর প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় মাখন রাখুন। তা হতে পারে মাখন রুটি বা অন্যকিছু। এটি দ্রুত শিশুর ওজন বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে।

মিষ্টি আলু

মিষ্টি আলু শিশুকে ছয় মাস বয়সের পর থেকে দিতে পারেন। পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিনের সমৃদ্ধ এই খাবারটি দ্রুত শিশুর ওজন বৃদ্ধি করে।

কলা

ছয় মাস বয়সের পর থেকে শিশুকে কলা দেওয়া যেতে পারে। কলায় প্রচুর পরিমাণ ফাইবার, পটাশিয়াম, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি ৬ রয়েছে যা শিশুর শরীরের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে ওজন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

শিশুর ওজন বৃদ্ধির উপায় এখন তো জানা হলো। আশা করি মায়েরা তাদের শিশুদের ওজন বৃদ্ধি নিয়ে যে চিন্তা করে থাকে তার কিছুটা হলেও সমাধান হবে

Source: Daily Bangladesh.

Photo: Collected