SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

শিশুর কার্টুন আসক্তি কম করতে কী করবেন?

শিশু ২৬ মে ২০২০
শিশুর কার্টুন
ID 73904055 © Tutye2001 | Dreamstime.com

কার্টুন ও শিশু এইদুটো আমাদের প্রত্যেকের বাড়িতে সমার্থক হয়ে গেছে। প্রত্যেক বাড়িতে শিশুর মন ভোলানোর উপায় কার্টুন। বাচ্চারা সারাটা দিন যদি মগ্ন হয়ে কার্টুন দেখে তবে বাড়ির লোককে আর বিরক্ত করে না। এই কারণে অনেক বাড়িতে বিষয়টাকে গুরুত্বের চোখে দেখা হয় না।বিভিন্ন গবেষণা থেকে দেখা যায় শিশুরা কার্টুন দেখে করতে শুরু অদ্ভুত আচরণ।শিশুমন যা চোখের সামনে  দেখে সবকিছু নকল করতে চায় ।

দেশি এবং বিদেশী কার্টুনগুলিতে যা দেখায় তা সবটাই অবাস্তব। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার একটি রির্পোটে থেকে জানা যায় যে পাঁচ বছরেরে একটি শিশু সপ্তাহে বত্রিশ ঘণ্টা পাঁচ থেকে এগারো বছরের একটি শিশু সপ্তাহে আটাশ ঘণ্টা কার্টুন দেখে।

বাচ্চারা  তাই অনেক সময়  কার্টুনে দেখা ঘটনাগুলো নকল করতে গিয়ে ব্যর্থ হলে রেগে যায়,  অদ্ভুত আচরণ করতে শুরু করে। তারা নিজেদের কল্পনার জগৎ করে ফেলে বাস্তবের কিছু  বুঝতে চায় না। বাড়ির লোকের অমনোযোগিতার কারণে তারা হয়ে যায় কার্টুনে আসক্ত।

শিশুর কার্টুন আসক্তি কমাবো কীভাবে?

কার্টুন আসক্তি ছাড়ানোর উপায় থাকে অভিভাবকদেরই হাতে। প্রত্যেক শিশুকে একটি নির্দিষ্ট টাইম ঠিক করে দিন কার্টুন দেখার এক থেকে দেড় ঘণ্টা ।

শিশুকে সারাদিন গৃহবন্দী করে রাখলে সে তো কার্টুন দেখবেই। স্কুল পড়াশোনা এসব বাদ দিয়ে দিনের একটা সময় আপনাকে বাচ্চাকে নিয়ে বাইরে  যেতে হবে। তাকে নিয়ে গল্প করতে করতে ঘুরে আসবেন বাইরে থেকে বেশকিছুটা হাতে সময় নিয়ে। এতে দেখবেন বাচ্চারা কার্টুনের প্রতি আসক্তি কমতে শুরু করবে।

আমরা সকলে জানি বর্তমান পরিস্থিতিতে বাইরে বেরোনো, পার্কে খেলাধুলো বন্ধ বা নিয়ন্ত্রিত। সে ক্ষেত্রে বাড়ির ভিতরেই বাচ্চাকে ব্যস্ত রাখতে হবে। রান্নাঘরে শাক সবজি চেনানো, তাদের রঙ পার্থক্য বোঝানো, ফলের আকৃতি দেখিয়ে বভিন্ন শেপ ও সাইজ সম্পর্কে অবহিত করতে হবে। বাড়িতে কার্ড বানানো, ভাঁজ করা খাম বানানো, গিফট তৈরি করা, রঙিন কাগজ দিয়ে তা মোড়ানো প্রভৃতি কাজে ব্যস্ত রাখতে পারেন শিশুকে।

শিশুর বেড়ে ওঠা নিয়ন্ত্রণ করবেন কীকরে?

বর্তমান দিনের বাবা মারা মনে করে বাচ্চারা খেলা ধুলা করলে সময় নষ্ট হবে। প্রত্যেক শিশুরই পড়াশোনার পরও বাড়তি অনেকটাই সময় থাকে। বাচ্চাদের বিকালের দিকে মাঠে খেলতে পাঠান এতে তার শরীরও থাকবে ভালো। আবার অনেক বাচ্চারা সাথে একসাথে খেলার ফলে তার মনেরও বিকাশ হবে, মুক্ত বাতাস ঘরের থেকে অনেক ভালো।

এখনকার দিনে বাচ্চাদের গল্পের বই পড়ার বা পড়ে শোনাবার রেওয়াজটা উঠে গেছে। বাচ্চাদের  হাতে দিয়ে দেওয়া হয় টেকনোলজি,  কার্টুন যাতে সে বুঁদ হয়ে থাকে অন্য জগতে। বাচ্চাকে গল্প বই এর অভ্যাস করান, মাঝেমাঝে আপনিও তাকে গল্প বলুন। কাটুর্নের নেশা আস্তে আস্তে ভুলে যেতে শুরু করবে।

সৃজনশীল কাজের অভ্যাস করানঃ

শিশুদের যুক্ত রাখতে হবে সৃজনশীল কাজের সাথে। তাকে আঁকা , গান , নাচ ইত্যাদির সাথে যুক্ত রাখুন এতে যেমন তার মস্তিষ্কের বিকাশ ঘটবে তেমনি নতুন কিছু শিখতে পারবে।

প্রত্যেকেরই শরীর সুস্থ রাখতে ব্যায়াম  অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বাচ্চাকে অল্প বয়স থেকেই শারীরিক কসরত করাতে শেখান। দিনের একটা সময় রুটিন করে দিন এগুলো করার এতে তার কার্টুনের প্রতি  ভালোবাসা কমবে কিছুটা।

বাড়িতে যখন বাবা মায়েদের হাতে সময় থাকবে তখন বাচ্চাদের সাথে মাইন্ড গেম খেলুন । শব্দ  নিয়ে বিভিন্ন খেলা শুরু করুন। তাদের বিভিন্ন রেডিমেড বাজারে পাওয়া পাজেল গেম কিনে দিতে পারেন। এতে তারা বেশ কিছুটা সময় মগ্ন থাকবে।

বাড়ির বাচ্চাদের দিয়ে ছোটো ছোটো কাজ যেমন ধরুন কখনও টেবিল থেকে খাতাটা নিয়ে আসতে বললেন, গাছে জল দেওয়া, নিজেদের বিছানা ঠিক করা, খেলার পর খেলনা তুলে রাখা এসব কাজ তাদেরকে করতে হবে। এতে তাদের আত্মবিশ্বাস ও দায়িত্ববোধ বাড়বে কার্টুন দেখার সময়টাও তার কাছে অনেকটা কমে আসবে। তাকে আপনি টিভিতে ভালো ভালো প্রোগ্রাম দেখতে শেখান যাতে তার বুদ্ধির বিকাশ হয়। বিশেষ করে মুখে মুখে নামটা বা অঙ্ক করানো। শিশুমনকে সবথেকে বেশি ভালো নিয়ন্ত্রণ করতে পারে বাড়ির লোকেরাই। কোনো কার্টুন দেখার আগে আপনিও একবার দেখে নিতে পারেন যাতে বাচ্চারা কী দেখছে এবং  সে বিষয়ে অবগত থাকতে পারেন। কার্টুন দেখতে না পারলে বাচ্চারা অনেকসময় ভীষণ রেগে যায় কান্নাকাটি শুরু করে, এগুলো তাহলে সে আর করতে পারবেনা।