SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

শিশুর মানসিক বিকাশে প্রিয় নবীর দিকনির্দেশনা

শিশু ২১ ফেব্রু. ২০২১
মতামত
শিশুর মানসিক বিকাশ
Photo by Pixabay from Pexels

শিশু-সন্তান পিতামাতার জন্য যেমন আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি নিয়ামত, তেমনি শিশু পিতামাতার জন্য একটি আমানতও। তাই শিশুর পরিপূর্ণ মানসিক ও শারীরিক বিকাশ নিশ্চিত করা পিতামাতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব; যা তাঁরা কখনও এড়াতে পারেন না।

শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশের মাধ্যমে মানবসম্পদ উন্নয়নের ভিত্তি তৈরি হয়। শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য প্রতিটি শিশুর শারীরিক, মানসিক, আত্মিক, নৈতিক এবং সামাজিক উন্নয়ন ঘটানো শিশু অধিকারেও অন্তর্ভুক্ত।

মনে রাখবেন শিশুর বিকাশের দু’টি দিক রয়েছে- শারীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশ। কিন্তু পিতামাতা শিশুর শারীরিক সুস্থতা ও বৃদ্ধির দিকটা যতটা গুরুত্ব দিয়ে থাকেন, তার মানসিক বিকাশের দিকটাকে ততটা গুরুত্ব দেন না। শারীরিক বৃদ্ধি বলতে শিশুর দৈহিক পরিবর্তন ও আকারের বৃদ্ধিকে বোঝায়। আর মানসিক বিকাশ হচ্ছে শিশুর বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তার শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ব্যবহার, বুদ্ধিমত্তা, আচরণ, ভাষার প্রকাশ, বোধশক্তি, অনুভূতি, ভাবের আদান-প্রদান ইত্যাদি ক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধি পাওয়া।

শিশুর আদর, স্নেহ, তার সঙ্গে কথা বলা, খেলা করা, কবিতা, ছড়া বা গল্প শোনানো, তার সঙ্গে ভালো আচরণ করা, তাকে আনন্দ দান করা ইত্যাদির মাধ্যমে শিশুর মানসিক বিকাশ ঘটে। পক্ষান্তরে তাকে শারীরিক ও মানসিক শাস্তি দেওয়া, ভয় দেখানো, ধমক দেওয়া বা তাকে অবহেলা করা হলে তার আবেগ, সামাজিক ও মেধাগত দক্ষতার বিকাশ ব্যাহত হয়।

শিশুকে উত্তম জ্ঞান শিক্ষা দেওয়া

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম শিশুর মানসিক বিকাশের জন্য তাদের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করেছেন, তা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। শিশুর উত্তম ও যুগোপযোগী শিক্ষাদানের লক্ষ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,”‘তোমাদের সন্তানদের উত্তমরূপে জ্ঞান দান করো। কেননা তারা তোমাদের পরবর্তী যুগের জন্য সৃষ্ট।” (মুসলিম)

শিশুকে আদর-স্নেহ করা

আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম একবার হাসান ইবনে আলী (রাযিঃ)-কে চুম্বন করলেন। সে সময় তার কাছে আকরা ইবন হাবিস তামিমি (রাযিঃ) বসা ছিলেন। আকরা ইবনে হাবিস (রাযিঃ) নবীজীকে বললেন, “আমার ১০টি পুত্রসন্তান আছে, কিন্তু আমি তাদের কাউকেই কোনোদিন চুম্বন করিনি।” এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম তার দিকে তাকিয়ে বললেন, “যে দয়া করে না, তাকেও দয়া করা হয় না। (বুখারি ও মুসলিম)

এভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম শিশুদের খুব ভালোবাসতেন। তাদের নিজের সন্তানের মত আদর করতেন। কারণ আদর-স্নেহ শিশুর মানসিক বিকাশের জন্য খুবই ফলদায়ক।

শিশুকে উত্তম চরিত্র শিক্ষাদান

নামাজে থাকা অবস্থায় কোনো শিশু কাঁদলে তিনি নামাজ শেষে সেই শিশুর কাছে ছুটে যেতেন। তিনি চাইতেন, শিশুরা যেন ক্রন্দন না করে। তারা যেন কষ্ট না পায়। শিশুদের মনের চাহিদা মেটাতে তিনি ছিলেন অত্যন্ত যত্নশীল। শিশুদের শারীরিক নির্যাতন না করে তাদের সঙ্গে ভাল ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষাদানের কথা বলতে গিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমরা সন্তানদের স্নেহ করো, তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করো এবং তাদেরকে ভালো ব্যবহার ও শিষ্টাচার শিক্ষা দাও। (তিরমিযী)

সাত বছর বয়স থেকেই শিশুকে সালাতে অভ্যস্ত করা

সন্তানের মানসিক বিকশে ও চরিত্র গঠনে সালাতের গুরুত্ব অপরিসীম। এ কারণে সন্তান বালেগ হয়ে ওঠার সাথে সাথে তাকে সালাতে অভ্যস্ত করতে বলা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমরা তোমাদের সন্তানদের সাত বছর বয়সে সালাতের নির্দেশ দাও। ১০ বছর হওয়ার পর (প্রয়োজনে) সালাতের জন্য প্রহার করো এবং এ বয়স থেকে তাদের বিছানা পৃথক করে দাও।” (আবু দাউদ)

পুত্রশিশু ও কন্যাশিশু উভয়কে সমান গুরুত্ব দেওয়া

মেয়ে সন্তানকে অবহেলা করে ছেলে সন্তানকে অধিক গুরুত্বদান ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ব্যাপারটি শিশু সন্তানকে আদর করার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। কারণ সন্তানদের ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষা না করা হলে তাদের মানসিক বিকাশ চরমভাবে ব্যহত হয়। সব সন্তানের প্রতি সমান ব্যবহারের একটি ঘটনা হাদিসে উল্লিখিত হয়েছে। আনাস ইবনে মালেক (রাযিঃ) বর্ণনা করেছেন, এক সাহাবি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে বসে ছিলেন। তার পুত্রশিশু তার নিকট এলে ঐ সাহাবি তাকে চুমু দিয়ে কোলে বসালেন। পরক্ষণেই তার একটি মেয়েশিশু তার নিকট এলে তিনি মেয়েটিকে আদর না করেই সামনে বসিয়ে দিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এ বৈষম্য দেখে মোটেও খুশি হলেন না। তিনি রাগান্বিত স্বরে ঐ সাহাবীকে বললেন, “উভয়ের মাঝে সমান আচরণ করা থেকে কোন জিনিস তোমাকে বাধা দিল?”

শিশুর দুষ্টুমির প্রতিউত্তরে কড়া শাসন না করা

কোনো শিশু দুষ্টুমি করলেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে কড়া শাসন না করে হাসিমুখে শোধরানোর কোনো কৌশল বের করতেন। এই ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম শিশুপ্রীতি, শিশুর মানসিক বিকাশে তাঁর সজাগ দৃষ্টি। অথচ সব জামানাতেই শিশুশ্রমসহ শিশুদের দিয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ করাতে আমরা মোটেও কুণ্ঠাবোধ করছি না। এটা ইসলামের শিক্ষা নয়, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আদর্শ নয়।

শিশুরা দেশ ও জাতির ভবিষ্যত। তাদের যদি সুন্দর করে গড়ে তোলা যায়, তাহলে ভবিষ্যত পৃথিবী আরও সুন্দর হবে। তাই সব শিশুই যেন সুখে থাকে, সেভাবেই আমাদের কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে হবে।